দখল করা ব্যাংক বেদখল হয়ে যাবে, এই যাতনা আমরা বুঝি: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
আজ জাতীয় সংসদে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। ছবি: ভিডিও থেকে নেওয়া
সমকাল প্রতিবেদক
প্রকাশ: ০৯ জুন ২০২৬ | ২২:৪৮
ইসলামী ব্যাংকের শেয়ার প্রকৃত মালিকদের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া এবং ব্যাংকের ব্যবস্থাপনায় অনভিপ্রেত হস্তক্ষেপ বন্ধের দাবি জানিয়েছে বিরোধী দল। এই প্রেক্ষাপটে কারও নাম উল্লেখ না করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ বলেছেন, ‘একবার যে ব্যাংক আজান দিয়ে দখল করা হলো, সেই ব্যাংকের দখলটা বেদখল হয়ে যাবে, এই যাতনা তো আমরা বুঝি।’
মঙ্গলবার জাতীয় সংসদে ‘ইসলামী ব্যাংকের শেয়ার প্রকৃত মালিকদের কাছে প্রত্যর্পণ এবং ব্যাংকের ব্যবস্থাপনায় অনভিপ্রেত হস্তক্ষেপ বন্ধে’ আনা এক নোটিশ নিয়ে তুমুল বিতর্ক হয়। জাতীয় সংসদের কার্যপ্রণালি বিধির ৬৮ বিধি অনুযায়ী এই নোটিশ দেন বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান।
ইসলামী ব্যাংকের শেয়ারধারীদের বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘শেয়ারহোল্ডাররা তারা কীভাবে খরিদ করেছে দ্যাট ইজ ডিফারেন্ট ডিবেট। সেটা দুদকের তদন্ত হতে পারে, মামলা হতে পারে। বাট শেয়ারহোল্ডার ইজ শেয়ারহোল্ডার।’
ইসলামী ব্যাংকের শেয়ার ডাকাতি করে নেওয়া হয়েছে– বিরোধী দলের এমন অভিযোগের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ বলেন, ইবনে সিনার ২ শতাংশ শেয়ার ছিল, ব্ল্যাক মার্কেটে তিন গুণ দামে তারা শেয়ার বিক্রি করেছে। বর্তমান শেয়ার হোল্ডিং স্ট্যাটাস অনুসারে এখানে ৮১ শতাংশ একটা গ্রুপের। তিনি বলেন, বৈধ এবং প্রকৃত শেয়ারহোল্ডারদের কাছে এই মালিকানা ফেরত দেওয়ার যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। কারা কত শতাংশ শেয়ারের মালিক, সেটা প্রকাশ করার দাবি জানান তিনি।
সালাহউদ্দিন আহমেদ বলেন, আরডিএস ইসলামী ব্যাংকের একটা ফ্ল্যাগশিপ প্রকল্প আছে। এ প্রকল্পের মাধ্যমে নির্বাচনের আগে ২২ হাজার কোটি টাকা বিতরণ করা হয়েছে। দেশের অর্ধেক জনগোষ্ঠী নারীদের মধ্যে ১০ হাজার করে টাকা বিলি করা হয়েছে। আগে ১১ হাজার কোটি টাকা দেওয়া হয়েছিল। ৫ আগস্টের পর নির্বাচনী বৈতরণী পার হওয়ার জন্য আরও ১১ হাজার কোটি টাকা দেওয়া হয়েছে।
সালাহউদ্দিন আহমেদ বলেন, তার ব্যাংক লাইবিলিটি হচ্ছে ১৬ হাজার কোটি টাকা। তার বিরুদ্ধে তদন্ত কেন হচ্ছে না? সেটা নিয়ে কেনো বিরোধীরা আওয়াজ তুলছে না। তবে এটারও তদন্ত হবে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও অভিযোগ করেন, একটি গ্রুপকে হেড অফিসের অনুমোদন ছাড়া নির্বাচনের আগে ৪০ কোটি টাকা ঋণ দেওয়া হয়েছে। সোশাল করপোরেট রেসপন্সিবিলিটির নাম দিয়ে যারা ঢাকা থেকে কক্সবাজার বিমানের টিকিট পর্যন্ত ব্যাংক থেকে করিয়েছে, সেগুলোরও তদন্ত হবে।
সালাহউদ্দিন বলেন, ‘তকবীর দিয়ে ব্যাংক দখল’ করার পর ৯ হাজার জনকে নিয়ম বহির্ভূতভাবে চাকরিচ্যুত করা হয়েছে। ৬ হাজার নতুন নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। তাদের সবাই একটি রাজনৈতিক মতাবলম্বী। ১৩ হাজার পদোন্নতি দেওয়া হয়েছে, তিনটি করে পদোন্নতি দেওয়া হয়েছে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘এই অনিয়মগুলো তো হয়েছে। ইসলামের নামেই তো হয়েছে বলে মনে হয়। সুতরাং এগুলো তদন্ত হলে হয়তোবা আমাদের কারও কারও নাম ওখানে চলে আসতে পারে।
তিনি বলেন, ‘একবার যে ব্যাংক আজান দিয়ে দখল করা হলো, সেই ব্যাংকের দখলটা বেদখল হয়ে যাবে, এই যাতনা তো আমরা বুঝি।'
- বিষয় :
- স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
- সংসদ
