মার্কিন আদালতের রায়
ট্রাম্পের ১ লাখ ডলারের ভিসা ফি বাতিল
ছবি : সংগৃহীত
সমকাল ডেস্ক
প্রকাশ: ০৯ জুন ২০২৬ | ২২:৫৭
দক্ষ বিদেশি কর্মীদের জন্য নতুন এইচ-১বি ভিসার ওপর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বসানো এক লাখ ডলারের ফি বাতিল করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের একটি ফেডারেল আদালত। গত সোমবার বোস্টনের মার্কিন জেলা আদালতের বিচারক লিও সোরোকিন এই রায় দেন।
আদালতের রায়ে বলা হয়, এটি একটি অবৈধ কর, যা মার্কিন কংগ্রেস কখনও অনুমোদন দেয়নি। ট্রাম্প প্রশাসনের গত সেপ্টেম্বরের ঘোষণার বিরুদ্ধে ২০ ডেমোক্র্যাট অ্যাটর্নি জেনারেলের করা মামলায় এ সিদ্ধান্ত আসে। ওই ঘোষণার ফলে এইচ-১বি ভিসা পাওয়ার খরচ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে গিয়েছিল।
মামলায় ট্রাম্প প্রশাসনের দাবি ছিল, এটি একটি বৈধ আর্থিক জরিমানা, যা ফেডারেল অভিবাসন আইনের আওতায় প্রেসিডেন্ট আরোপ করতে পারেন। ওই আইন অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থের জন্য ক্ষতিকর মনে হলে নির্দিষ্ট বিদেশি নাগরিকদের প্রবেশ সীমিত করার ক্ষমতা প্রেসিডেন্টের রয়েছে। তবে বিচারক সোরোকিন বলেন, এক লাখ ডলারের এই অর্থ কোনো জরিমানা নয়, বরং একটি কর। আর এমন কর আরোপের জন্য ট্রাম্পের কাছে কংগ্রেসের কোনো অনুমোদন ছিল না। ফলে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর এবং ইউএস সিটিজেনশিপ অ্যান্ড ইমিগ্রেশন সার্ভিসেস (ইউএসসিআইএস) এটি বাস্তবায়ন করতে পারে না।
বিচারক তাঁর সিদ্ধান্তে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে ট্রাম্পের শুল্কনীতি বাতিল করে দেওয়া যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্টের একটি রায়েরও উল্লেখ করেন। তাঁর মতে, ওই রায়ের যুক্তি অনুযায়ী অভিবাসন আইনের আওতায় কর আরোপের ক্ষমতাও ট্রাম্পের ছিল না।
হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র টেইলর রজার্স এক বিবৃতিতে বলেছেন, ট্রাম্প প্রশাসন আত্মবিশ্বাসী, উচ্চ আদালতে আপিলের মাধ্যমে সোরোকিনের এই আদেশ বাতিল হয়ে যাবে। তাঁর দাবি, আমেরিকার সর্বোত্তম স্বার্থের পরিপন্থি বলে মনে করা যে কোনো শ্রেণির বিদেশির প্রবেশাধিকার সীমিত করার সুস্পষ্ট আইনি ক্ষমতা প্রেসিডেন্টের রয়েছে। আর ট্রাম্প ঠিক তাই করেছেন।
এইচ-১বি প্রোগ্রামের আওতায় যুক্তরাষ্ট্র প্রতিবছর ৬৫ হাজার এবং উচ্চতর ডিগ্রিধারীদের জন্য আরও ২০ হাজার ভিসা দেওয়া দেয়, যা তিন থেকে ছয় বছরের জন্য অনুমোদিত। ট্রাম্পের এই ঘোষণার আগে নিয়োগ কর্তারা সাধারণত বিভিন্ন কারণের ভিত্তিতে দুই হাজার থেকে পাঁচ হাজার ডলার ফি দিতেন। খবর রয়টার্সের।
- বিষয় :
- মার্কিন প্রেসিডেন্ট
- ডোনাল্ড ট্রাম্প
