ঢাকা রোববার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬

কৃষি মন্ত্রণালয়

তালিকা যাচাই ছাড়াই ডিলার অনুমোদন, সার বিতরণে ভোগান্তির শঙ্কা

তালিকা যাচাই ছাড়াই ডিলার অনুমোদন, সার বিতরণে ভোগান্তির শঙ্কা
×
×

সমকাল প্রতিবেদক

প্রকাশ: ১২ অক্টোবর ২০২৬ | ১৫:৩৭

সারা দেশে নতুন করে সার ডিলার নিয়োগ নিয়ে দলীয়করণ, স্বজনপ্রীতি ও আর্থিক লেনদেনের অভিযোগ উঠেছে। জেলা থেকে পাঠানো তালিকা যাচাই-বাছাই ছাড়াই অনুমোদন দিয়েছে কৃষি মন্ত্রণালয় এমন অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে, যোগ্যতা ও ব্যবসায়িক অভিজ্ঞতার চেয়ে রাজনৈতিক পরিচয়, দলীয় সুপারিশ এবং প্রভাবশালীদের আত্মীয়স্বজনকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। 

কৃষি মন্ত্রণালয়ের প্রকাশিত ৫৫ জেলার আংশিক তালিকায় নিয়োগ পাওয়া ব্যক্তিদের প্রায় ৮০ শতাংশই অনভিজ্ঞ ও নতুন ট্রেড লাইসেন্সধারী বলে দাবি করেছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা। তালিকায় কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের নামও রয়েছে।

সারা দেশে প্রায় পাঁচ হাজার সার ডিলার নিয়োগের বিপরীতে ৪৭ হাজারের বেশি আবেদন জমা পড়ে। এত বিপুলসংখ্যক আবেদনকারীর মধ্য থেকে ডিলার বাছাইয়ের প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন বাদ পড়া ব্যবসায়ী, রাজনৈতিক নেতা ও জনপ্রতিনিধিদের একাংশ। 

বিভিন্ন এলাকায় দীর্ঘদিনের সার ব্যবসায়ীদের বাদ দিয়ে রাজনৈতিক নেতাদের স্ত্রী, সন্তান, ভাই ও অন্যান্য আত্মীয়কে ডিলারশিপ দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। কোথাও দলীয় প্যাডে দেওয়া তালিকার সঙ্গে মন্ত্রণালয়ের চূড়ান্ত তালিকার নাম ও ক্রমের মিল পাওয়া গেছে। কোথাও আবার সংসদ সদস্য ও দলীয় নেতারা প্রকাশ্যে ক্ষোভ জানিয়েছেন।

নীতিমালা অনুযায়ী, উপজেলা ও জেলা সার ও বীজ মনিটরিং কমিটির যাচাই-বাছাই শেষে যোগ্য প্রার্থীদের মধ্য থেকে তিনজনের নামের প্যানেল কেন্দ্রীয় ব্যবস্থাপনা কমিটিতে পাঠানোর কথা। কিন্তু অভিযোগ উঠেছে, অনেক ক্ষেত্রে ব্যবসায়িক সক্ষমতা ও অভিজ্ঞতার বদলে রাজনৈতিক সুপারিশকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। 

কৃষি মন্ত্রণালয় যাচাই-বাচাই না করেই জেলা থেকে পাঠানো তালিকা অনুমোদন করেছে। এতে সার বিতরণ ব্যবস্থায় অনিয়ম ও কৃষকের ভোগান্তি বাড়ার আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।

রংপুরের পীরগাছায় ডিলার নিয়োগ নিয়ে রাজনৈতিক প্রভাবের অভিযোগ উঠেছে। রংপুর-৪ আসনের সংসদ সদস্য জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আখতার হোসেন। অথচ উপজেলা বিএনপির সভাপতি আমিনুল ইসলাম রাঙ্গার স্বাক্ষরযুক্ত দলীয় প্যাডে স্থানীয় প্রশাসনের কাছে দেওয়া তালিকার সঙ্গে কৃষি মন্ত্রণালয়ের প্রকাশিত চূড়ান্ত তালিকার নাম ও ক্রমের হুবহু মিল পাওয়া গেছে বলে সংশ্লিষ্ট নথি পর্যালোচনায় জানা গেছে। উপজেলার নয়টি ইউনিয়নের আটটিতে দলীয় তালিকার প্রথমে থাকা ব্যক্তি এবং অন্য ইউনিয়নে দ্বিতীয় স্থানে থাকা ব্যক্তি ডিলার হিসেবে অনুমোদন পেয়েছেন।

অনুমোদন পাওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাদের পাশাপাশি অন্নদানগর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি জিল্লুর রহমানের মেয়ে জয়িতা আক্তার জিনিও রয়েছেন। তিনি দিনাজপুর সরকারি কলেজের শিক্ষার্থী। তাঁর প্রতিষ্ঠান জয়িতা সার বিতান নামে ডিলারশিপ পেয়েছে। ইটাকুমারী ইউনিয়নে ডিলার হয়েছেন ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মাসুদ রানার শ্বশুর আলিমুদ্দিন ময়েন মোল্লা।

কুড়িগ্রাম-১ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ও বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য মো. সাইফুর রহমান রানা তাঁর নির্বাচনী এলাকার ১৫টি ইউনিয়নের ডিলারদের রাজনৈতিক পরিচয়সহ একটি তালিকা প্রকাশ করেছেন। ওই তালিকায় আওয়ামী লীগ ও জাতীয় পার্টির নেতাকর্মীদের ডিলারশিপ পাওয়ার ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। বর্তমানে এ আসনের সংসদ সদস্য জামায়াতে ইসলামীর।

আরও পড়ুন

×