ঢাকা রোববার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬

প্রশ্ন ফাঁসের পাশাপাশি ব্যাংক ঋণ দেওয়ার কাজও করত চক্রটি

এনবিআরের দুই কর্মচারী বরখাস্ত

প্রশ্ন ফাঁসের পাশাপাশি ব্যাংক ঋণ দেওয়ার কাজও করত চক্রটি
×
×

 সমকাল প্রতিবেদক

প্রকাশ: ১৮ অক্টোবর ২০২৬ | ০৭:৫৩

| প্রিন্ট সংস্করণ

যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্ন ফাঁসে জড়িত চক্রটি ব্যাংক থেকে কোটি কোটি টাকার ঋণ পাইয়ে দেওয়ার কাজও করত। সরকারি বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ একাধিক ব্যক্তিকে নিয়ে গড়ে ওঠা সংঘবদ্ধ চক্রটি তিন থেকে চার বছর ধরে এসব অনিয়ম ও অবৈধ কর্মকাণ্ড চালিয়ে আসছিল। 

তদন্ত-সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, চক্রটি ব্যাংক ঋণ পাইয়ে দেওয়ার পর ঋণের একটা অংশ বা চেকের মাধ্যমে তাদের ভাগ নিত। সম্প্রতি গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের কাছ থেকে উদ্ধার করা আলামত ও প্রাথমিক তদন্তে এসব তথ্য উঠে এসেছে। তাদের কাছে বিপুল পরিমাণ টাকার চেকও পাওয়া গেছে। জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর), পরিবেশ অধিদপ্তর, প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়সহ কয়েকটি সরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা-কর্মচারী এই চক্রে রয়েছেন। তবে চক্রটির মূল হোতা কে, তা এখনও শনাক্ত করতে পারেননি তদন্ত-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।

গত বুধ থেকে শুক্রবার পর্যন্ত রাজধানী ও আশপাশের বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে প্রশ্ন ফাঁসে জড়িত থাকার অভিযোগে সাতজনকে গ্রেপ্তার করে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি)। তারা হলেন– এনবিআরের আওতাধীন আয়কর বিভাগের অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার মুদ্রাক্ষরিক মো. জাহাঙ্গীর আলম, অফিস সহায়ক মো. নূর মোহাম্মদ, রংপুর পরিবেশ অধিদপ্তরের ডাটা এন্ট্রি অপারেটর মো. রুবেল ইসলাম, প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের অফিস সহায়ক আসাদুল ইসলাম, চক্রের সদস্য মো. মফিজুল ইসলাম, মো. হাসিনুর রহমান ওরফে সুজন ও এসএম এমদাদুল রহমান। তবে গত শুক্রবার এমদাদুলকে এনবিআরের সদস্য বলেছিল এসআরবি। গতকাল শনিবার জাহাঙ্গীর আলম ও নূর মোহাম্মদকে চাকরি থেকে সাময়িক বরখাস্ত করেছে এনবিআর।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের কাছ থেকে ১০০ টাকা মূল্যমানের ১১৬টি স্ট্যাম্প, ৫০ টাকা মূল্যমানের চারটি স্ট্যাম্প, এক সেট প্রশ্নপত্র, বিভিন্ন পরীক্ষার প্রবেশপত্র ও সনদপত্র, বিভিন্ন ব্যাংকের চেক, আটটি মোবাইল ফোন, ছয়টি জাতীয় পরিচয়পত্র এবং চার হাজার টাকা জব্দ করা হয়েছে।

গত ১০ অক্টোবর সহকারী যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা পদে নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্ন ফাঁসের পর রাজধানীর মতিঝিল থানায় মামলা করে যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর। ওই মামলায় তাদের গ্রেপ্তার দেখিয়ে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। এদিকে প্রশ্ন ফাঁসের ঘটনায় ছায়া তদন্ত করছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। এরই মধ্যে যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের বেশ কয়েকজন কর্মকর্তাকে তারা জিজ্ঞাসাবাদও করেছে। যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর থেকে ১২টি ভিভাইস জব্দ করা হয়েছে। শিগগিরই মামলার তদন্ত মতিঝিল থানা থেকে সিআইডিতে হস্তান্তর করা হবে। এর পরই জড়িতদের রিমান্ডে এনে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে বলে জানিয়েছেন তদন্ত-সংশ্লিষ্টরা।

জানা গেছে, গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের একেকজনের একেক দায়িত্ব ছিল। কেউ প্রশ্ন ফাঁস করেছেন, কেউ সেটা ছড়িয়ে দিয়েছেন, কেউ পরীক্ষার্থী সংগ্রহ করেছেন। গ্রেপ্তার নূর মোহাম্মদ প্রশ্নপত্রটা কোথা থেকে পেয়েছেন, তা এখনও নিশ্চিত নয়। পরীক্ষার আগে পরীক্ষার্থীদের প্রশ্নের উত্তর মুখস্থ করানো হয়েছে।
মোবাইল ফোন ও হোয়াটসঅ্যাপের বার্তা পর্যালোচনা করে আরও একাধিক সরকারি নিয়োগ পরীক্ষায় প্রশ্ন ফাঁসের প্রাথমিক তথ্য পাওয়া গেছে। তবে যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের পরীক্ষার প্রশ্ন ফাঁস ছাড়াও আর কোন কোন সরকারি দপ্তরের নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্ন ফাঁস করা হয়েছে, সেই বিষয়ে এখনই সুনির্দিষ্টভাবে জানাননি তদন্ত-সংশ্লিষ্টরা।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা মতিঝিল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মির্জা মোহাম্মদ মুক্তা সমকালকে বলেন, গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। মামলাটি সিআইডিতে হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলছে। 

আরও পড়ুন

×