প্লাস্টিক পুনর্ব্যবহারে বিনিয়োগ বাড়ানোর তাগিদ
অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ৩০ অক্টোবর ২০২৬ | ১৪:৩৭
প্লাস্টিক দূষণ নিয়ন্ত্রণে উৎপাদকদের দায়িত্ব নিশ্চিত করা, পুনর্ব্যবহার খাতে বিনিয়োগ বাড়ানো এবং বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোর সক্ষমতা বৃদ্ধির ওপর জোর দিয়েছেন সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা।
তারা বলেছেন, অপরিকল্পিতভাবে ফেলে দেওয়া প্লাস্টিক বর্জ্য ড্রেন ও নালা-নর্দমা বন্ধ করে শহরে জলাবদ্ধতা তৈরি করছে। একই সঙ্গে তা নদী ও সামুদ্রিক পরিবেশ মারাত্মকভাবে দূষিত করছে। এ সংকট নিরসনে সংশ্লিষ্ট নীতিমালার কার্যকর প্রয়োগ এবং সরকারি-বেসরকারি খাতের সমন্বিত উদ্যোগ জরুরি।
বৃহস্পতিবার রাজধানীর গুলশানের দ্য ওয়েস্টিন ঢাকায় আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে বক্তারা এসব কথা বলেন। পরিবেশ অধিদপ্তর (ডিএইচই) ও জাতিসংঘের শিল্প উন্নয়ন সংস্থা (ইউএনআইডিও) যৌথভাবে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। নরওয়ে সরকারের সহায়তায় পরিচালিত ‘ইন্টিগ্রেটেড অ্যাপ্রোচ টুওয়ার্ডস সাসটেইনেবল প্লাস্টিকস ইউজ অ্যান্ড মেরিন লিটার প্রিভেনশন ইন বাংলাদেশ’ শীর্ষক প্রকল্পের সমাপনী উপলক্ষে এ অভিজ্ঞতা বিনিময় কর্মশালার আয়োজন করা হয়।
অনুষ্ঠানে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের সচিব (রুটিন দায়িত্ব) মোহাম্মদ নাভিদ সাফিউল্লাহ বলেন, প্লাস্টিক দূষণ নিয়ন্ত্রণে কেবল বর্জ্য সংগ্রহ করলেই সমাধান আসবে না, উৎপাদন থেকে শুরু করে পুনর্ব্যবহার পর্যন্ত পুরো প্রক্রিয়ায় সংশ্লিষ্টদের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে হবে।
অতিরিক্ত সচিব ড. নূরুন নাহার জানান, উৎপাদকদের বর্ধিত দায়িত্ব (ইপিআর), পরিচ্ছন্ন উৎপাদন ও পরিবেশবান্ধব নকশা বাস্তবায়ন সম্ভব হলে উৎপাদন ব্যয় কমানোর পাশাপাশি শিল্পখাতে দক্ষতা বৃদ্ধি পাবে।
ইউএনআইডিও বাংলাদেশের কান্ট্রি রিপ্রেজেন্টেটিভ আলমগীর হোসেন বলেন, নীতিমালা প্রণয়ন, পরিবেশবান্ধব শিল্প উৎপাদন ও পুনর্ব্যবহার খাতে প্রকল্পটি উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রেখেছে। অর্জিত সফলতা ও অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে ভবিষ্যতে সরকারের সঙ্গে আরও বড় পরিসরে কাজ করতে আগ্রহী।
প্রকল্পের সারসংক্ষেপ তুলে ধরে ইউনিডোর ভিয়েনা কার্যালয়ের প্রকল্প ব্যবস্থাপক ড. রানা প্রতাপ সিং জানান, ২০২০ সালে শুরু হলেও রাজনৈতিক পরিবর্তন, বন্যা, তাপপ্রবাহ, হরতাল ও নির্বাচনের মতো নানা প্রতিকূলতা পেরিয়ে ২০২৩ সালের শেষ দিক থেকে বাস্তবে মাত্র ৫২০ কর্মদিবসে ৩০০টির বেশি কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হয়েছে।
পরিবেশ অধিদপ্তরের প্রকল্প পরিচালক ড. আব্দুল্লাহ আল মামুন জানান, সিরাজগঞ্জ পৌরসভায় দেশের প্রথম ‘কমন ট্রিটমেন্ট ফ্যাসিলিটি’ স্থাপন করা হয়েছে। এটি সফলভাবে পরিচালিত হলে সারা দেশে এ ধরনের মডেল ছড়িয়ে দেওয়া সম্ভব হবে।
অনুষ্ঠানের সভাপতি ও পরিবেশ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ড. মো. লুৎফর রহমান বলেন, সিরাজগঞ্জে চিকিৎসাবর্জ্য ব্যবস্থাপনার সফল মডেলটি অন্য জেলাগুলোতেও অনুসরণ করা যেতে পারে। পাশাপাশি বর্জ্য পৃথকীকরণ ও পুনর্ব্যবহারে জাপানের অভিজ্ঞতা কাজে লাগানোর বড় সুযোগ রয়েছে।
অনুষ্ঠানের সঞ্চালক পরিবেশ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (চলতি দায়িত্ব) মোহাম্মদ সোলায়মান হায়দার বলেন, প্রকল্প শেষ হলেও প্লাস্টিক ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনার এসব কার্যক্রম পরিবেশ অধিদপ্তরের নিয়মিত কাজের অংশ হিসেবে অব্যাহত থাকবে।
সমাপনী বক্তব্যে উপপ্রকল্প পরিচালক কাজী সুমন সংশ্লিষ্ট সব মন্ত্রণালয়, স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠান, শিল্প সমিতি ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে যৌথ সহযোগিতার জন্য ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন। সংবাদ বিজ্ঞপ্তি