ঢাকা সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬

পদত্যাগ প্রসঙ্গ

মন্ত্রী নয়, মাদক নির্মূল: ইশরাক

মন্ত্রী নয়, মাদক নির্মূল: ইশরাক
×
×

ইশরাক হোসেন (ফাইল ফটো)

সমকাল প্রতিবেদক

প্রকাশ: ১৯ অক্টোবর ২০২৬ | ১০:৩৯ | আপডেট: ১৯ অক্টোবর ২০২৬ | ১০:৫৬

প্রকাশ্যে অস্ত্র তাক করে মাদকসেবীদের ধাওয়া এবং আইন ভেঙে গুলি ছোড়ার ভয় দেখানোর ঘটনায় আলোচিত মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন মন্ত্রিসভা থেকে পদত্যাগ করবেন বলে জানিয়েছেন। আজ সোমবার দুপুরে পদত্যাগের ঘোষণা দেবেন বলে জানিয়েছেন তিনি। 

সকাল সাড়ে ৮টার পর নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে এ কথা জানিয়ে ইশরাক হোসেন লিখেছেন, ‘এবার সংসদ সদস্য বা প্রতিমন্ত্রী হিসেবে নয়, একজন বিএনপি কর্মী হিসেবে মাদকের বিরুদ্ধে শতগুণ বেশি উদ্দীপনা নিয়ে কাজ করব, ইনশাআল্লাহ। পরিচ্ছন্নতা কর্মসূচি আরও জোরদার হবে। দেশব্যাপী প্রজন্ম দলের সাংগঠনিক শক্তি বৃদ্ধির লক্ষ্যে বিভিন্ন জেলা সফর করতে পারব। মন্ত্রী নয়, মাদক নির্মূল! মাদক নির্মূল, মাদক নির্মূল!’

পোস্টের শুরুতেই ইশরাক হোসেন লিখেছেন, ‘আজ দুপুর ২টায় জাতীয় প্রেসক্লাবে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী পদ থেকে পদত্যাগের চূড়ান্ত ঘোষণা দেব এবং সাংবাদিকদের মুখোমুখি হব, ইনশাআল্লাহ।’

তিনি আরও লিখেছেন, ‘ফেসবুকে কিছু সুশীল মানুষকে উল্লাসসূচক লেখালেখি করতে দেখলাম। আশা করি, ভবিষ্যতে কখনো আন্দোলন-সংগ্রামের প্রয়োজন হলে তারা জাতীয়তাবাদী আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে বিদেশ থেকে দেশে এসে সেই আন্দোলনে যোগ দেবেন।’

গত শনিবার ঢাকা-৬ আসনের সংসদ সদস্য ইশরাক আগ্নেয়াস্ত্র উঁচিয়ে গেণ্ডারিয়া এলাকায় ‘মাদকবিরোধী অভিযানে’ নামেন। এ সময় তার সঙ্গে থাকা ব্যক্তিদের হাতেও আগ্নেয়াস্ত্র দেখা যায়। ঘটনার ভিডিও দ্রুত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। বিষয়টি রোববার দিনভর আলোচনা-সমালোচনার কেন্দ্রে ছিল। এ নিয়ে বিএনপিতে অস্বস্তি তৈরি হয় এবং সরকারের জন্য বিষয়টি বিব্রতকর হয়ে দাঁড়ায়। রোববার দুপুরে তাকে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে ডেকে মন্ত্রিসভা থেকে পদত্যাগের নির্দেশ দেওয়া হয়। সরকার ও বিএনপির একাধিক দায়িত্বশীল সূত্র সমকালকে এ তথ্য জানিয়েছে। রোববার সন্ধ্যায় সচিবালয়ে মন্ত্রিসভার বৈঠকে অংশ নেন ইশরাক। 

এর আগে মিরপুরের রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারে (স্বাস্থ্যকেন্দ্র) হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনায় সম্পৃক্ততার অভিযোগে গত ১ অক্টোবর প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে পদত্যাগ করেন বিএনপিদলীয় সংরক্ষিত আসনের এমপি ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টি।

মন্ত্রিসভার সদস্যদের পদত্যাগসংক্রান্ত সংবিধানের ৫৮(২) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী প্রধানমন্ত্রী যেকোনো সময় কোনো মন্ত্রীকে পদত্যাগের অনুরোধ করতে পারবেন এবং মন্ত্রী অনুরোধ রাখতে অসমর্থ হলে প্রধানমন্ত্রী তাকে অপসারণের জন্য রাষ্ট্রপতিকে পরামর্শ দিতে পারবেন।

প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরের সূত্র জানায়, গতকাল দুপুরে প্রতিমন্ত্রীকে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে ডেকে নেওয়া হয়। সেখানে প্রধানমন্ত্রী তার কর্মকাণ্ডে অসন্তোষ প্রকাশ করেন। এরপর তাকে একটি খসড়া পদত্যাগপত্র সরবরাহ করা হয়।

 সন্ধ্যায় অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার বৈঠকে এ নিয়ে আলোচনা হয়নি বলে জানিয়েছেন বৈঠকে উপস্থিত মন্ত্রিসভার একাধিক সদস্য। তবে সূত্র জানায়, বৈঠক শেষে আবারও ইশরাক হোসেনকে ডেকে নেন প্রধানমন্ত্রী। সেখানে কী আলোচনা হয়, সে বিষয়ে কিছু জানা যায়নি।

মন্ত্রিসভার বৈঠকের পর প্রেস ব্রিফিংয়ে মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনির কাছে সাংবাদিকরা জানতে চান, বৈঠকে প্রতিমন্ত্রী ইশরাকের বিষয়ে কোনো আলোচনা হয়েছে কি না। জবাবে তিনি বলেন, ‘এ বিষয়ে কোনো আলোচনা হয়নি।’

মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীদের বিষয়গুলো দেখার দায়িত্ব মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের। সে হিসেবে এ ঘটনায় আপনার ভূমিকা কী? জবাবে সচিব বলেন, ‘এ বিষয়ে আমি কোনো মন্তব্য করব না।’

বিএনপি ও সরকারসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের কেউ কেউ মনে করছেন, প্রকাশ্যে অস্ত্র দেখানোর ঘটনাটি শুধু ইশরাকের ব্যক্তিগত বিষয় হয়ে থাকেনি। একজন প্রতিমন্ত্রীর এমন আচরণের দায় মন্ত্রিসভারও। কারণ, সরকারের জবাবদিহি প্রতিষ্ঠার উদ্যোগের মধ্যে একজন প্রতিমন্ত্রীর এমন আচরণ পুরো মন্ত্রিসভাকে বিব্রত করেছে।

বিএনপির সাবেক মন্ত্রী ও মেয়র সাদেক হোসেন খোকার ছেলে হিসেবে দলীয় রাজনীতিতে আসা ইশরাক হোসেন নানা সময়ে বিতর্কের জন্ম দেন। ২০১৯ সালের নভেম্বর মাসে সাদেক হোসেন খোকা চিকিৎসাধীন অবস্থায় নিউইয়র্কে মারা যাওয়ার পর ইশরাক হোসেন তার বাবার নির্বাচনী এলাকা ঢাকা-৬ ও রাজধানীর রাজনীতিতে সক্রিয় হন। পরের বছর ৩৩ বছর বয়সে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের নির্বাচনে ধানের শীষের প্রার্থী হওয়ার মাধ্যমে বিএনপির তরুণ ও প্রভাবশালী নেতা হিসেবে তার রাজনৈতিক পথচলা শুরু হয়। ওই নির্বাচনে অবশ্য হেরে যান বিএনপির চেয়ারপারসনের আন্তর্জাতিক বিষয়ক কমিটির বিশেষ সহকারী ইশরাক হোসেন।

২০২৪ সালের ৫ আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের পর রাজধানীর রাজনীতিতে সামনের সারিতে ছিলেন। ২০২৫ সালের ২৭ মার্চ নির্বাচনী ট্রাইব্যুনাল ২০২০ সালের নির্বাচনের ফলাফল বাতিল করে ইশরাক হোসেনকে নির্বাচিত মেয়র হিসেবে ঘোষণা করেন। তবে অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে তিনি শপথ নিতে পারেননি। এ নিয়ে তৎকালীন স্থানীয় সরকার উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়ার সঙ্গে বিরোধে জড়ান ইশরাক। ১৫ মে থেকে ৩ জুন পর্যন্ত প্রধান ফটকে তালা দিয়ে নগর ভবন অবরোধ করে রাখেন ৪০ দিন। এতে নাগরিক সেবা বন্ধ ছিল। অন্তর্বর্তী সরকারের তৎকালীন প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের বাসভবন যমুনা ঘিরে আন্দোলনও করেন ইশরাক।

আরও পড়ুন

×