ঢাকা সোমবার, ০৬ জুলাই ২০২৬

দুই দৃষ্টিহীন শিক্ষার্থীর স্বপ্ন পূরণে বাধা দারিদ্র্য

দুই দৃষ্টিহীন শিক্ষার্থীর স্বপ্ন পূরণে বাধা দারিদ্র্য
×

ঢাকা কলেজের একাদশ শ্রেণির দুই মেধাবী শিক্ষার্থী

সমকাল প্রতিবেদক

প্রকাশ: ২৪ এপ্রিল ২০২২ | ০৭:১৬ | আপডেট: ২৪ এপ্রিল ২০২২ | ০৭:৪২

ঢাকা কলেজের একাদশ শ্রেণির দু’জন মেধাবী শিক্ষার্থী হলেন মো. রবিন খান ও মো. জিসান হোসেন। দরিদ্র কৃষক পরিবারে জন্ম নেওয়া এই দু’জন অদম্য মনোবল আর সাহসকে সম্বল করেই লড়াই করছেন দৃষ্টিহীনতার বিরুদ্ধে। নিজেদের চেষ্টা এবং জয়পুরহাট জেলার সমন্বিত অন্ধ শিক্ষা কার্যক্রমের সহযোগিতায় ঢাকা কলেজে স্থান করে নিয়েছেন তারা। তাদের এগিয়ে যাওয়ার পথে পরিবারের আর্থিক সংকটের পাশাপাশি প্রতিদিন শ্রেণি কক্ষে উপস্থিত হতে দূর থেকে যাতায়াত করা সবচেয়ে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

জীবন সংগ্রামের পথে পরিচিত হয়ে বর্তমানে একে অপরের সহায় হয়ে উঠেছেন রবিন-জিসান। লেখাপড়া, কলেজে যাতায়াতসহ দৈনন্দিন প্রায় সকল কাজে একজন অপরজনের উপর নির্ভরশীল। এসএসসির মতো এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও সহপাঠীদের সহযোগিতা নিয়ে এভাবেই হাত ধরাধরি করেই রবিন-জিসান পার হতে চায় এইচএসসির গণ্ডি। উচ্চতর ডিগ্রি অর্জন করে দাঁড়াতে চায় দরিদ্র পরিবার এবং সমাজের দরিদ্র-অসহায়দের পাশে। অবশ্য তাদের স্বপ্ন পূরণে সরকার ও বেসরকারি সংস্থা বা বিত্তবানদের সহযোগিতা জরুরি বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

সিরাজগঞ্জের কামারখন্দ উপজেলার বাজার ভদ্রঘাটের কৃষক সোলায়মান খানের সন্তান রবিন খান এবং বগুড়ার আমদীঘি উপজেলার উথরাইল গ্রামের কৃষক তোফাজ্জল হোসেনের সন্তান মো. জিসান হোসেন। দু’জনেই জয়পুরহাট জেলার সমন্বিত অন্ধ শিক্ষা কার্যক্রমের আওতায় পুনট উচ্চ বিদ্যালয় থেকে জেএসসিতে জিপিএ-৫ পেয়ে উত্তীর্ণ হয়। পরবর্তীতে বগুড়া জেলার সুলতানগঞ্জ উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ২০২১ সালে এসএসসিতে রাজশাহী শিক্ষা বোর্ডে মানবিক শাখায় মেধা তালিকায় রবিন ২০তম এবং জিসান ৪৪তম স্থান অর্জন করে। তারপর ভর্তি হয়েছে ঐতিহ্যবাহী ঢাকা কলেজে।

তারা জানান, দু’জনেই এসএসসি পর্যন্ত ব্রেইল পদ্ধতিতে (দৃষ্টি প্রতিবন্ধীদের জন্য বিশেষ পদ্ধতি) লেখাপড়া করেছে। তবে এইচএসসি পর্যায়ে দৃষ্টি প্রতিবন্ধীদের জন্য আলাদা কোনো পদ্ধতি প্রচলিত না থাকায় তাদের লেখাপড়া অনেক সমস্যাসংকুল এবং ব্যয়বহুল হয়ে যাচ্ছে। একইসঙ্গে এখন পর্যন্ত কলেজ হোস্টেলে সিট না পাওয়ায় মুগদা থানার মান্ডা এলাকায় পরিচিত একজনের সহযোগিতায় একটি সাবলেট বাসায় থেকে লেখাপড়া চালিয়ে যেতে হচ্ছে। তাদের ওই বাসা থেকে পাবলিক বাসে প্রতিদিন ক্লাসে আসা-যাওয়া খুবই কাষ্টসাধ্য এবং ব্যয়বহুল হয়ে যাচ্ছে। প্রতিদিন সকালে কলেজ টাইমের অনেক আগেই বাসা থেকে বের হয়ে বাসস্ট্যান্ডে এসে দাঁড়িয়ে থাকেন রবিন ও জিসান।

রবিন খান জানান, কলেজে যাওয়া আসার পথে আশপাশের মানুষের সহযোগিতা নিয়ে বাসে ওঠেন-নামেন। প্রায়শই ভুল রুটের বাসে উঠে তাদের দুর্ভোগের শিকার হতে হয়। আবার অধিকাংশ বাস তাদের নিতে চায় না। আবার রিকশা বা অন্য প্রাইভেট গাড়িতে চড়ার মতো অর্থ তাদের নেই। 

জিসান জানান, আগে সরকারি ও বেসকারি সহযোগিতা থাকলেও এখন কোনো সহায়তা তারা পাচ্ছেন না। আবার দরিদ্র পরিবারের পক্ষ থেকে লেখাপড়ার খরচ মেটানো অসম্ভব। তাই লেখাপড়া চালিয়ে নিতে আর্থিক সহযোগিতা প্রয়োজন। লেখাপড়া শেষে চাকরি করে সেই অর্থ পরিশোধ করতে চায় সে।

ঢাকা কলেজে একাদশ শ্রেণিতে (মানবিক, সেকশন-বি) মো. রবিন খান রোল নং-৭৯ ও ফোন নং-০১৫৬৮৪৬১৪৪৩ এবং মো. জিসান হোসেন রোল নং-৮১ ও ফোন নং-০১৩০৪৪৮৯৩৭০।

আরও পড়ুন

×