মানবাধিকার সংস্কৃতি ফাউন্ডেশনের প্রতিবেদন
আগস্টে কারা হেফাজতে আটজনের মৃত্যু
প্রতীকী ছবি
সমকাল প্রতিবেদক
প্রকাশ: ০২ সেপ্টেম্বর ২০২২ | ১০:০৬ | আপডেট: ০২ সেপ্টেম্বর ২০২২ | ১০:০৬
গত আগস্টে কারা হেফাজতে আটজনের মৃত্যু হয়েছে বলে জানিয়েছে মানবাধিকার সংগঠন 'মানবাধিকার সংস্কৃতি ফাউন্ডেশন (এমএসএফ)। সংগঠনটির আগস্টের মানবাধিকার প্রতিবেদনে এ তথ্য উল্লেখ করা হয়েছে। এ ছাড়া পেশাগত দায়িত্ব পালনের সময় আগস্টে ৩৮টি ঘটনায় সাংবাদিকরা নানাভাবে হুমকি, হয়রানি ও নির্যাতনের শিকার হয়েছেন বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।
জাতীয় দৈনিকগুলোয় প্রকাশিত সংবাদের ভিত্তিতে এমএসএফ এ প্রতিবেদন তৈরি করে। এ ছাড়া প্রায় প্রতিটি ঘটনার ক্ষেত্রেই স্থানীয় মানবাধিকার কর্মীদের মাধ্যমে যাচাইও করা হয়।
প্রতিবেদনে বলা হয়, পুলিশ অথবা কারা হেফাজতে মৃত্যুর ঘটনার দায় অবশ্যই রাষ্ট্রের ওপর বর্তায়। গত মাসে কারা হেফাজতে যে আট মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে, এর মধ্যে একজন হাজতিকে নির্যাতনের পর কারাগারে পাঠালে অসুস্থ হয়ে মারা যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে। হেফাজতে থাকা বাক্ প্রতিবন্ধী এক তরুণী আত্মহত্যা করেছেন। বিনা অপরাধে কারাগারে একজন প্রতিবন্ধীকে আটকে রাখা আইনসম্মত নয়।
এমএসএফ বলছে, গত মাসে কারা হেফাজতে মৃত্যু এর আগের মাসের চেয়ে বেশি। ধর্ষণসহ নারী ও শিশুদের ওপর সহিংসতার ঘটনা ঘটার হারও অত্যন্ত উদ্বেগজনক। ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন ও ক্ষমতার অপব্যবহার করে সাধারণ নাগরিকদের বস্তুনিষ্ঠ ও স্বাধীন চিন্তা, অনুসন্ধানী সাংবাদিকতা এবং মতপ্রকাশের সংবিধান প্রদত্ত অধিকার প্রয়োগের পথ রুদ্ধ করার মতো ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটেছে।
প্রতিবেদনটির তথ্যমতে, আগস্টে ৫৩৪টি নারী ও শিশু নির্যাতনের ঘটনা ঘটেছে। এ সংখ্যা জুলাইয়ের তুলনায় ১৮০টি বেশি। আগস্ট মাসে ধর্ষণের ঘটনা ৬৬টি, দলবদ্ধ ধর্ষণ ২৪টি, ধর্ষণ ও হত্যা দুটি। এর মধ্যে ধর্ষণের শিকার হয়েছে তিন প্রতিবন্ধী শিশু ও কিশোরী, চারজন প্রতিবন্ধী নারী এবং দলবদ্ধ ধর্ষণের শিকার দু'জন প্রতিবন্ধী শিশু-কিশোরী। ধর্ষণের শিকার ৬৬ জনের মধ্যে ১৪ শিশু ও ২৬ কিশোরী রয়েছে। অন্যদিকে দলবদ্ধ ধর্ষণের শিকার হয়েছে আটজন কিশোরী এবং ধর্ষণ ও হত্যার শিকার এক শিশু ও একজন কিশোরী।
পেশাগত দায়িত্ব পালনের সময় আগস্টে ৩৮টি ঘটনায় সাংবাদিকরা নানাভাবে হুমকি, হয়রানি ও নির্যাতনের শিকার হয়েছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। এতে বলা হয়, আগস্টে ৩৮টি ঘটনায় ১৪ জন সাংবাদিক আহত হয়েছেন এবং একজন নারী সাংবাদিকের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। আক্রমণের শিকার হয়েছেন তিনজন সাংবাদিক; লাঞ্ছিত হয়েছেন ছয়জন, পেশাগত দায়িত্ব পালনে বাধাগ্রস্ত হয়ে নানাভাবে হুমকির শিকার হয়েছেন আরও ১৪ জন সাংবাদিক।
আগস্টে দেশের বিভিন্ন জেলাতে বিরোধী দলের কর্মসূচিতে সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে বলে উল্লেখ করে প্রতিবেদনে বলা হয়, এ সময়ে ৬২টি রাজনৈতিক সহিংসতা ও একটি ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন-পরবর্তী সহিংস ঘটনায় চারজন নিহত হন। সহিংসতার শিকার হয়েছেন ৭৯৯ জন; যাঁদের মধ্যে আহত হয়েছেন ৭২২ জন, ৩০ জন গুলিবিদ্ধ হয়ে গুরুতর আহত ও ৪৩ জনকে আটক করা হয়েছে। নিহত ব্যক্তিদের মধ্যে একজন বিএনপির কর্মী, দুজন আওয়ামী লীগের এবং ইউপি নির্বাচনের দ্বন্দ্বে একজনকে ছুরিকাঘাতে হত্যা করা হয়েছে।