ঢাকা মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২৬

পার্বত্য চুক্তি বাস্তবায়ন অগ্রাধিকারে রাখার দাবিতে ড. ইউনূসকে খোলা চিঠি

পার্বত্য চুক্তি বাস্তবায়ন অগ্রাধিকারে রাখার দাবিতে ড. ইউনূসকে খোলা চিঠি
×
×

ফাইল ছবি

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ২৬ নভেম্বর ২০২৪ | ১১:০২ | আপডেট: ২৬ নভেম্বর ২০২৪ | ১১:২৮

অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের কর্মসূচিতে পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি বাস্তবায়ন অগ্রাধিকার তালিকায় রাখার অনুরোধ জানিয়ে প্রধান উপদেষ্টা বরাবর খোলা চিঠি দিয়েছে পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি বাস্তবায়ন আন্দোলন।

সোমবার সংগঠনটির যুগ্ম সমন্বয়কারী ও মানবাধিকারকর্মী জাকির হোসেন এবং আরেক যুগ্ম সমন্বয়কারী ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. খায়রুল ইসলাম চৌধুরীর সই করা এক খোলা চিঠিতে এ অনুরোধ জানানো হয়।

এতে বলা হয়, পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি বাস্তবায়ন আন্দোলনের পক্ষ থেকে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে আমরা আন্তরিক অভিনন্দন জানাই। ছাত্র-জনতার এই আন্দোলনটি বাংলাদেশের ইতিহাসে একটি যুগসন্ধিক্ষণ হিসেবে বিবেচিত হবে, যা ইতোমধ্যে ন্যায়বিচার, শান্তি এবং জাতীয় ঐক্যের জন্য নতুন করে আশা তৈরি করেছে। আমরা বিশ্বাস করি এই সরকার আমাদের দেশমাতৃকাকে গণতান্ত্রিক নীতি ও মানবাধিকারের ভিত্তিতে রাষ্ট্র পরিচালিত করবে।

এতে আরও বলা হয়, বাংলাদেশ বিনির্মাণে নতুন সরকারের অভিযাত্রায় আমরা ঐতিহাসিক পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি বাস্তবায়নের দিকে একটি গুরুত্বপূর্ণ সম্ভাবনার নতুন বাঁকে এসে দাঁড়িয়ে আছি। ১৯৯৭ সালের ২ ডিসেম্বর পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি স্বাক্ষরের পর ২৬ বছর ধরে চুক্তির মূল উপাদানগুলো অবাস্তবায়িত রয়ে গেছে, যা পার্বত্য চট্টগ্রামের পাহাড়ি আদিবাসী জনগণ এবং সারা দেশের নাগরিকদের এক অনিশ্চয়তার মধ্যে ফেলেছে। এই চুক্তির পূর্ণাঙ্গ ও যথাযথ বাস্তবায়ন শুধু পার্বত্য চট্টগ্রামের স্থায়ী শান্তি ও স্থিতিশীলতার জন্যই নয়, বরং বাংলাদেশের সকল আদিবাসীদের মর্যাদা ও অধিকার সমুন্নত রাখা এবং একই সাথে দেশের জাতীয় ঐক্যের জন্য অপরিহার্য। প্রায় দুই বছর সময় ধরে পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি বাস্তবায়ন আন্দোলন অক্লান্তভাবে চুক্তির পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়নের পক্ষে জনগণকে সম্পৃক্ত করে কাজ করে আসছে। পাহাড়ি জনগণ এবং বৃহত্তর বাঙালি জনগোষ্ঠীর কণ্ঠস্বর যাতে একই সাথে উচ্চস্বরে এবং স্পষ্টভাবে শোনা যায়, তা নিশ্চিত করার জন্য আমরা কাজ করছি। আমাদের আন্দোলন পার্বত্য চট্টগ্রামে স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে সারাদেশের রাজনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক, ছাত্র-যুব ও মানবাধিকার সংগঠনগুলোকে চুক্তি বাস্তবায়নের দাবিতে ঐক্যবদ্ধ করেছে।

চিঠিতে সংগঠনের পক্ষ থেকে ৭ দফা দাবির বিষয়ে পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানানো হয়। দাবিগুলো হলো-

১. চুক্তি বাস্তবায়নে একটি সময়াবদ্ধ কর্মপরিকল্পনা: এই চুক্তি সম্পূর্ণরূপে বাস্তবায়নের জন্য সুনির্দিষ্ট সময়সীমা ভিত্তিক একটি সুস্পষ্ট ও কার্যকরী পরিকল্পনা প্রণয়ন করার জন্য আমরা অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে অনুরোধ করছি।

২. পার্বত্য চট্টগ্রাম সামরিক তত্ত্বাবধান বন্ধ: পার্বত্য চট্টগ্রামে অব্যাহত সামরিক তত্ত্বাবধান এই অঞ্চলের শান্তি, অগ্রগতি ও উন্নয়নকে বাঁধাগ্রস্ত করেছে। আমরা অপারেশন উত্তরণ প্রত্যাহারপূর্বক সামরিক তত্ত্বাবধান স্থায়ীভাবে বন্ধ করার আহ্বান জানাই এবং এই অঞ্চলটিকে চুক্তির বিধানের সাথে সামঞ্জস্য রেখে তার শাসন কাঠামো বিকাশের ব্যাবস্থা গ্রহণের অনুরোধ করছি । 

৩. আঞ্চলিক ও জেলা পরিষদের ক্ষমতায়ন: গণতান্ত্রিক, প্রতিনিধিত্বশীল স্থানীয় শাসন ব্যবস্থা এবং পার্বত্য অঞ্চলের অন্যান্য চাহিদা মোকাবেলায় পার্বত্য চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পরিষদ এবং তিনটি জেলা পরিষদকে চুক্তি অনুসারে যথাযথ ক্ষমতা প্রদান করার উদ্যোগ গ্রহণ করার আহ্বান জানাই।

৪. ভূমি অধিকার এবং পুনর্বাসন: পার্বত্য চট্টগ্রামের শান্তি ও স্থিতিশীলতার জন্য ভূমি অধিকারের বিষয়টি অন্যতম সমস্যা। ভারত থেকে আগত পাহাড়ি শরণার্থী ও অভ্যন্তরীণ উদ্বাস্তুদের পুনর্বাসন এবং পার্বত্য চট্টগ্রাম ভূমি বিরোধ নিষ্পত্তি কমিশনকে কার্যকর করার আহ্বান জানাই। 

৫. অর্থনৈতিক অন্তর্ভুক্তি ও উন্নয়ন: পার্বত্য চট্টগ্রামের জনগণকে অবশ্যই দেশের মূলধারার অর্থনৈতিক অগ্রগতিতে অন্তর্ভুক্ত করা প্রয়োজন এবং পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি অনুযায়ী পার্বত্য চট্টগ্রামের দীর্ঘমেয়াদী সমৃদ্ধির জন্য এই অঞ্চলের অনন্য সাংস্কৃতিক ও পরিবেশগত ঐতিহ্যকে সম্মানপূর্বক টেকসই উন্নয়ন কর্মসূচি গ্রহণ করার অনুরোধ জানাই।

৬. সমতলের আদিবাসীদের জন্য প্রতিনিধিত্বশীল শক্তিশালী গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা গ্রহণ: আমরা সমতলভূমির জেলাগুলির প্রচলিত সকল স্থানীয় সরকারে আদিবাসীদের জন্য বিশেষ আসন সংরক্ষণ এবং তাদের জীবনযাত্রার মান উন্নয়নের জন্য বিশেষ পদক্ষেপ নেওয়ার জোর আহ্বান জানাই।

৭. সমতলের আদিবাসীদের জন্য পৃথক ভূমি কমিশন প্রতিষ্ঠা: সমতলের আদিবাসীদের জীবন, জমি এবং জীবিকা সংক্রান্ত তাদের নির্দিষ্ট চাহিদা এবং চ্যালেঞ্জগুলি মোকাবেলায় অবিলন্বে একটি পৃথক ভূমি কমিশন প্রতিষ্ঠা করার জন্য দ্রুত উদ্যোগ গ্রহণের আহ্বান জানাই।
 

আরও পড়ুন

×