ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

শিশু ধর্ষণ ও হত্যার প্রতিবাদে বাংলাদেশ ডিবেট ফেডারেশনের মানববন্ধন

শিশু ধর্ষণ ও হত্যার প্রতিবাদে বাংলাদেশ ডিবেট ফেডারেশনের মানববন্ধন
×

ছবি: সংগৃহীত

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ২২ মে ২০২৬ | ২১:০৪

দেশজুড়ে শিশু ধর্ষণ, নির্যাতন ও হত্যার সাম্প্রতিক ঘটনাগুলোর প্রতিবাদ এবং নির্যাতিত ও নিহত সব শিশুর ন্যায়বিচারের দাবিতে রাজধানীর মিরপুর ১০ নম্বর এলাকায় প্রতিবাদী মানববন্ধন করেছে বাংলাদেশ ডিবেট ফেডারেশন (বিডিএফ)। 

শুক্রবার বিকেলে আয়োজিত এই মানববন্ধনে বিডিএফ নেতৃবৃন্দ ছাড়াও বিভিন্ন সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠনের প্রতিনিধি, শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও সচেতন নাগরিকরা অংশ নেন। 

মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, দেশে শিশুদের নিরাপত্তা আজ ভয়াবহ হুমকির মুখে। ঘর, স্কুল, মাদ্রাসা কিংবা আশপাশের পরিবেশ—কোথাও শিশুরা নিরাপদ নয়। মেয়ে শিশুদের পাশাপাশি ছেলে শিশুরাও ধর্ষণ ও সহিংসতার শিকার হচ্ছে, যা পুরো সমাজের জন্য গভীর উদ্বেগের বিষয়।

বাংলাদেশ ডিবেট ফেডারেশনের সহসভাপতি নাসির উদ্দিন বলেন, ‘শিশুরা কোনো পরিসংখ্যান নয়। তারা এই দেশের ভবিষ্যৎ। একটি সভ্য রাষ্ট্রের পরিচয় নির্ভর করে সে তার শিশুদের কতটা নিরাপদ রাখতে পারে তার ওপর। আজ যদি আমরা নীরব থাকি, তাহলে আগামী দিনে এই সহিংসতা আরও ভয়াবহ রূপ নেবে।’  

বাংলাদেশ ডিবেট ফেডারেশনের পার্টনারশিপ প্রধান সাবির নূর বলেন, ‘প্রতিটি ঘটনার পর সাময়িক প্রতিবাদ করে থেমে গেলে চলবে না। শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে রাষ্ট্র, পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং সমাজকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। অপরাধীদের দ্রুত বিচার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।’

বাংলাদেশ ডিবেট ফেডারেশনের যুগ্ম সম্পাদক নেওয়াজ শরীফ বলেন, ‘পল্লবীর কিংবা সাম্প্রতিক সময়ে নির্যাতনের শিকার অন্য শিশুদের ঘটনা কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। এটি পুরো দেশের শিশু নিরাপত্তা ব্যবস্থার দুর্বলতার প্রতিফলন। শিশুদের জন্য নিরাপদ সমাজ গড়ে তোলা এখন সময়ের সবচেয়ে জরুরি দাবি।’

এ সময় উপস্থিত ছিলেন আইনুল ইসলাম অয়নসহ সংগঠনের অন্যান্য সদস্য এবং বিভিন্ন সমমনা সামাজিক সংগঠনের প্রতিনিধিরা।

মানববন্ধন থেকে বক্তারা নিম্নোক্ত দাবিসমূহ উত্থাপন করেন—

১। শিশু ধর্ষণ ও হত্যার প্রতিটি মামলায় দ্রুত, স্বচ্ছ ও দৃষ্টান্তমূলক বিচার নিশ্চিত করতে হবে।
২। সকল শিশু নির্যাতন ও হত্যার ঘটনায় জড়িত প্রকৃত অপরাধীদের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।
৩। তদন্তে কোনো ধরনের গাফিলতি, প্রভাব খাটানো বা অপরাধীকে রক্ষার সুযোগ রাখা যাবে না।
৪। স্কুল, মাদ্রাসা, বাসাবাড়ি এবং প্রতিটি এলাকায় কার্যকর শিশু সুরক্ষা ব্যবস্থা জোরদার করতে হবে।
৫। ভুক্তভোগী পরিবারকে আইনি, মানসিক ও সামাজিক সহায়তা প্রদান করতে হবে।
৬। ধর্ষক, খুনি এবং তাদের আশ্রয়দাতাদের সামাজিক ও রাজনৈতিকভাবে বর্জন করতে হবে।

বক্তারা আরও বলেন, প্রতিটি শিশুর ন্যায়বিচার চাই। নিরাপদ ঘর, নিরাপদ স্কুল, নিরাপদ মাদ্রাসা, নিরাপদ সমাজ এবং নিরাপদ বাংলাদেশ গড়ে তুলতে সবাইকে একসঙ্গে এগিয়ে আসতে হবে। সংবাদ বিজ্ঞপ্তি

আরও পড়ুন

×