ঢাকা বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন ২০২৬

এক বছরে সেবা খাতে ১২ হাজার ৬৩৩ কোটি টাকার ঘুষ লেনদেন: টিআইবি

এক বছরে সেবা খাতে ১২ হাজার ৬৩৩ কোটি টাকার ঘুষ লেনদেন: টিআইবি
×

ছবি: সংগৃহীত

সমকাল প্রতিবেদক 

প্রকাশ: ২৫ জুন ২০২৬ | ১৭:৩৭ | আপডেট: ২৫ জুন ২০২৬ | ১৭:৩৭

২০২৪ সালের নভেম্বর থেকে ২০২৫ সালের অক্টোবর পর্যন্ত এক বছরে দেশের বিভিন্ন সেবা খাতে মোট ১২ হাজার ৬৩৩ কোটি ২০ লাখ টাকা ঘুষ লেনদেন হয়েছে। বৃহস্পতিবার সকালে রাজধানীর ধানমন্ডিতে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি) ‘সেবা খাতে দুর্নীতি: জাতীয় খানা জরিপ ২০২৫’ শীর্ষক এক জরিপের ফলাফলে এই তথ্য প্রকাশ করেছে। সংস্থাটি উল্লেখ করেছে, জরিপটি মূলত অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ের দুর্নীতির চিত্রের একটি বিশ্লেষণ। 

বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) নমুনাকাঠামো ব্যবহার করে করা এই জরিপে দেখা যায়, পাসপোর্ট ও বিআরটিএ থেকে সেবা নিতে গিয়ে সবচেয়ে বেশি মানুষ ঘুষ ও দুর্নীতির শিকার হয়েছেন। এই দুই খাতে যথাক্রমে ৭৬.৬ শতাংশ এবং ৬৩.৫ শতাংশ পরিবার দুর্নীতির শিকার হয়েছেন। এর পরেই রয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থা, কৃষি, ভূমি ও বিচারসংশ্লিষ্ট সেবা।

দেশের আটটি বিভাগের গ্রাম ও শহরাঞ্চল থেকে দুই ধাপে দৈবচয়ন পদ্ধতিতে ১ হাজার ১৪৯টি এলাকা নির্বাচন করে এই জরিপ করেছে টিআইবি। জরিপে সুনির্দিষ্ট ১৮টি সেবা খাতের চিত্র উঠে এসেছে। এর আগে ২০২৩ সালে সর্বশেষ এই জরিপ করেছিল টিআইবি।

সার্বিকভাবে পরিবারপ্রতি গড় ঘুষের পরিমাণ ২০২৩ সালের তুলনায় প্রায় ১০ শতাংশ কমে ৫ হাজার ১২৪ টাকায় দাঁড়িয়েছে। তবে জরিপে অংশ নেওয়া ৮১.৫ শতাংশ পরিবার মনে করে, ঘুষ ছাড়া সেবা পাওয়া কঠিন। গ্রামাঞ্চলের পরিবারগুলো শহরের তুলনায় বেশি ঘুষের শিকার হলেও (৬৬ শতাংশ বনাম ৫৮.৫ শতাংশ), টাকার অঙ্কে শহরের পরিবারগুলোকে বেশি অর্থ দিতে হয়েছে।

দুর্নীতির শিকার হলেও ৬১.৩ শতাংশ পরিবার কোনো অভিযোগ করেনি। তাদের মতে, পুরো ব্যবস্থাই দুর্নীতিগ্রস্ত। এ ছাড়া অভিযোগ দায়েরের প্রক্রিয়া সম্পর্কে প্রায় অর্ধেক পরিবারেরই কোনো ধারণা নেই। জরিপে অংশগ্রহণকারীরা মনে করেন, বিচারহীনতা ও জড়িতদের শাস্তির অভাবই দুর্নীতির প্রধান কারণ।

বিভিন্ন খাতে ডিজিটাল সেবা চালু হলেও দালাল বা মধ্যস্বত্বভোগীদের ওপর নির্ভরতার কারণে তা দুর্নীতি কমাতে পুরোপুরি কার্যকর হয়নি। টিআইবি জানিয়েছে, নিম্ন আয়ের পরিবারগুলোর পাশাপাশি নারী, আদিবাসী ও প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের জন্য এই পরিস্থিতি আরও বেশি কঠিন হয়ে উঠছে। 

আরও পড়ুন

×