ঢাকা–চট্টগ্রাম মহাসড়কে শুরু হচ্ছে এআই ক্যামেরায় মামলা
ঢাকা-তেঁতুলিয়া সড়ক প্রযুক্তির আওতায় আনতে সমীক্ষা
সড়কে এআই ক্যামেরা। ফাইল ছবি-সংগৃহীত
সাহাদাত হোসেন পরশ
প্রকাশ: ২২ জুলাই ২০২৬ | ২০:৩২
প্রথমবারের মতো দেশের কোনো মহাসড়কে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ক্যামেরা বসানোর পর তার মামলার করার ক্ষেত্রে তার প্রয়োগ শুরু হচ্ছে। ঢাকা–চট্টগ্রামের মহাসড়কের ১৬টি পয়েন্ট এই ক্যামেরা বসিয়েছে হাইওয়ে পুলিশ। আগামী তিন সপ্তাহ মহাসড়কে চলাচলকারী যানবাহনের চালকদের নানাভাবে সচেতন করার পর এআই ক্যামেরার মাধ্যমে আইন ব্যতয়কারীদের শনাক্ত করে মামলা করবে পুলিশ। এছাড়া পুরো ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক এখন সিসিটিভি কাভারেজের আওতায় রয়েছে। এদিকে ঢাকা থেকে তেঁতুলিয়া পর্যন্ত পুরো সড়ক কিভাবে এআই ক্যামেরার আওতায় আনা যায়– সে ব্যাপারে একটি সমীক্ষা চলছে। এমনকি ঢাকা–মাওয়া সড়কে বসানো হয়েছে এআই ক্যামেরা। হাইওয়ে পুলিশ সূত্রে এই তথ্য জানা গেছে।
হাইওয়ে পুলিশের প্রধান অতিরিক্তি আইজিপি ফারুক আহমেদ সমকালকে বলেন, ঢাকা–চট্টগ্রাম মহাসড়ক পুরোপুরি এআই ক্যামেরার আওতায় আনা হবে। কিছু দিন আমরা সাধারণ মানুষকে সচেতন করব। এরপর এআই ক্যামেরার মাধ্যমে স্বয়ংক্রিয় মামলা করা হবে। ঢাকা–চট্টগ্রাম মহাসড়কের ক্যামেরা পুলিশের অর্থায়নে বসানো হয়েছে। এছাড়া ঢাকা-মাওয়া মহাসড়কের এআই ক্যামেরা সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের একটি প্রকল্পের অধীনে বসানো হয়েছে। আনুষ্ঠানিকভাবে পরিচালনার জন্য হাইওয়ে পুলিশ শিগগিরই মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর করবে।
হাইওয়ে পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ঢাকা থেকে পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়া পর্যন্ত রাস্তা কিভাবে প্রযুক্তিগত নজরদারির মধ্যে আনা যায় সেই লক্ষ্য একটি সমীক্ষা চলছে। এর সঙ্গে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ (ইআরডি) ও জাপানি উন্নয়ন সংস্থা জাইকা যুক্ত আছে। এ ব্যাপারে তাদের পক্ষ থেকে হাইওয়ে পুলিশের সঙ্গে চিঠি আদান–প্রদান চলছে।
হাইওয়ে পুলিশ সূত্র বলছে, এআই ও সিসি ক্যামেরার আওতায় গুরুত্বপূর্ণ মহাসড়ক আনা গেলে মামলার পাশাপাশি অপরাধ চক্রকে শনাক্ত করার কাজ সহজ হতে পারে। এছাড়া সুনির্দিষ্ট তথ্য ছাড়া কোনো যানবাহনকে হাইওয়েতে আটকানো হবে না। মাদক, চোরাচালানসহ কোনো অপরাধের সঙ্গে যুক্ত কেউ হাইওয়েতে যাতায়াত করলে সংশ্লিষ্ট যানবাহন থামিয়ে তল্লাশি করা হবে।
ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) ট্রাফিক বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, ঢাকার বিভিন্ন মোড়ে গত ৭ মে পরীক্ষামূলকভাবে এআই ক্যামেরা স্থাপন করা হয়। ৩০ জুন পর্যন্ত ১ হাজার ৫০০টি মামলা করা হয়েছে। রাজধানীতে আগে ১৫টি ইন্টারসেকশনে এআই ক্যামেরা ছিল। বর্তমানে মোট ১৯টি ইন্টারসেকশনে এআই ক্যামেরা চালু রয়েছে। পর্যায়ক্রমে মহানগরের অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে এ ধরনের ক্যামেরা বসানো হবে।
গতিসীমা লঙ্ঘন, বিপদজনকভাবে লেন পরিবর্তন, চালক এবং আরোহী হেলমেট বিহীন মোটরসাইকেল চালনা, অবৈধ পার্কিং এবং যানবাহন চলাচলের প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করলে এআই ক্যামেরা স্বয়ংক্রিয় নিখুঁতভাবে শনাক্ত করছে। এরপর ডিজিটাল পদ্ধতিতে মামলা রুজু হয়।
১ জুন পর্যন্ত হিসেবে দেখা যায়, সবচেয়ে বেশি ৩১২টি মামলা হয়েছে বাসের বিরুদ্ধে। একই সময়ে ব্যক্তিগত গাড়ির বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে ১৫০টি। বাকি ২২৭টি মামলা হয়েছে মোটরসাইকেল, পিকআপ, লেগুনা ও সিএনজিচালিত অটোরিকশার বিরুদ্ধে। নিয়ম ভাঙার সবচেয়ে বেশি ঘটনা ঘটেছে ইন্টারকন্টিনেন্টাল হোটেল মোড়ে।