যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে পারমাণবিক সহযোগিতা চুক্তি সই
পারমাণবিক শক্তির শান্তিপূর্ণ ব্যবহারে সহযোগিতা বাড়বে
প্রধানমন্ত্রীর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিবিষয়ক উপদেষ্টা রেহান আসাদ এবং যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতিবিষয়ক আন্ডার সেক্রেটারি জ্যাকব হেলবার্গ চুক্তিতে সই করেন -বিএনপির মিডিয়া সেল
সমকাল প্রতিবেদক
প্রকাশ: ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ০৮:০৩
| প্রিন্ট সংস্করণ
বেসামরিক পারমাণবিক শক্তির শান্তিপূর্ণ ব্যবহারে সহযোগিতা বাড়াতে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কৌশলগত চুক্তি সই করেছে বাংলাদেশ। গতকাল শনিবার দুই দেশের বেসামরিক পারমাণবিক সহযোগিতা চুক্তি সই হয়েছে।
বাংলাদেশের পক্ষে প্রধানমন্ত্রীর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিবিষয়ক উপদেষ্টা রেহান আসাদ এবং যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষে দেশটির অর্থনীতিবিষয়ক আন্ডার সেক্রেটারি জ্যাকব হেলবার্গ চুক্তিতে সই করেন। বিএনপির মিডিয়া সেলের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে গতকাল এ তথ্য জানানো হয়েছে।
কূটনৈতিক সূত্রে জানা গেছে, চুক্তির আওতায় ছোট মডুলার রিঅ্যাক্টর (এসএমআর), আধুনিক পারমাণবিক প্রযুক্তি, জ্বালানি, নিরাপত্তা, নিয়ন্ত্রণ, গবেষণা, প্রশিক্ষণসহ বেসামরিক পারমাণবিক শক্তির বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতার সুযোগ তৈরি হবে। পারমাণবিক বিদ্যুৎ উৎপাদনের পাশাপাশি চিকিৎসা, কৃষি, শিল্প, পানি ব্যবস্থাপনা, পুষ্টি ও অন্যান্য শান্তিপূর্ণ কাজে পারমাণবিক প্রযুক্তির ব্যবহার নিয়েও দুই দেশ কাজ করতে পারবে।
পারমাণবিক গবেষণা চুল্লির উন্নয়ন, পরিচালনা ও ব্যবহার এবং বিভিন্ন আইসোটোপের শান্তিপূর্ণ ব্যবহারের বিষয়ও সহযোগিতার আওতায় আসতে পারে। বিজ্ঞানী, প্রকৌশলী ও প্রযুক্তিবিদদের শিক্ষা, প্রশিক্ষণ এবং দক্ষতা উন্নয়নের ক্ষেত্রেও সহযোগিতার সুযোগ থাকবে। একই সঙ্গে পারমাণবিক নিরাপত্তা ও সুরক্ষা এবং পারমাণবিক অস্ত্র বিস্তার রোধের আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুসরণের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হবে।
বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে বেসামরিক পারমাণবিক সহযোগিতার উদ্যোগ নতুন নয়। কূটনৈতিক সূত্র জানায়, ১৯৮১ সালে দুই দেশের মধ্যে প্রথম এ ধরনের সহযোগিতা চুক্তি হয়। ১৯৯১ সালে তা নবায়ন করা হলেও পরে আর মেয়াদ বাড়ানো হয়নি। দীর্ঘ বিরতির পর নতুন চুক্তির মাধ্যমে দুই দেশের বেসামরিক পারমাণবিক সহযোগিতা আবার নতুন কাঠামো পেল।
যুক্তরাষ্ট্রের পারমাণবিক সহযোগিতা চুক্তিগুলো সাধারণত দেশটির অ্যাটমিক এনার্জি অ্যাক্টের ১২৩ ধারার আওতায় হওয়ায় ‘১২৩ অ্যাগ্রিমেন্ট’ নামে পরিচিত। তবে বর্তমান চুক্তির আওতায় কোন কোন প্রকল্প বা প্রযুক্তি সরাসরি বাস্তবায়িত হবে, তা পরবর্তী পর্যায়ের পৃথক সমঝোতা, বাণিজ্যিক চুক্তি ও সংশ্লিষ্ট দেশের আইন ও রপ্তানি নিয়ন্ত্রণের ওপর নির্ভর করবে।
বাংলাদেশের পারমাণবিক কর্মসূচিতে রাশিয়ার সঙ্গে সহযোগিতা সবচেয়ে বড় পরিসরে রয়েছে। রাশিয়ার আর্থিক ও কারিগরি সহায়তায় এবং দেশটির রাষ্ট্রীয় পরমাণু শক্তি সংস্থা রোসাটমের প্রযুক্তিগত সহযোগিতায় পাবনার রূপপুরে দেশের প্রথম পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ করা হয়েছে। দুটি ইউনিটের মোট উৎপাদনক্ষমতা দুই হাজার ৪০০ মেগাওয়াট। রূপপুর প্রকল্পের ব্যবহৃত পারমাণবিক জ্বালানি রাশিয়ায় ফেরত নেওয়ার বিষয়েও দুই দেশের মধ্যে চুক্তি রয়েছে।
ভারতের সঙ্গেও বাংলাদেশের শান্তিপূর্ণ পারমাণবিক শক্তি ব্যবহারে সহযোগিতা চুক্তি রয়েছে। ২০১৭ সালে দুই দেশ এ বিষয়ে একটি চুক্তি করে। পারমাণবিক নিরাপত্তা, বিকিরণ সুরক্ষা, কারিগরি সহযোগিতা, প্রশিক্ষণ ও সক্ষমতা বৃদ্ধির বিভিন্ন ক্ষেত্রে এর আওতায় সহযোগিতার সুযোগ রয়েছে। ২০১৮ সালে বাংলাদেশ, ভারত ও রাশিয়ার মধ্যে ত্রিপক্ষীয় সমঝোতার মাধ্যমে রূপপুর প্রকল্পের বিভিন্ন অ-সংবেদনশীল কাজে ভারতীয় প্রতিষ্ঠান ও বিশেষজ্ঞদের অংশগ্রহণের সুযোগ তৈরি হয়।
এ ছাড়া চীন, ফ্রান্স, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়াসহ বিভিন্ন দেশের সঙ্গে বাংলাদেশের পারমাণবিক বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ে সহযোগিতার বিভিন্ন ক্ষেত্র রয়েছে। এসব সহযোগিতার ধরন এক নয়। কোথাও বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ, কোথাও প্রশিক্ষণ, গবেষণা, প্রযুক্তিগত সহায়তা বা নিরাপত্তা সক্ষমতা বৃদ্ধির বিষয় রয়েছে।
নতুন চুক্তিতে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে এসএমআর ও উন্নত পারমাণবিক প্রযুক্তি নিয়ে সহযোগিতার বিষয়টি বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে। বিদ্যুতের চাহিদা ও জ্বালানি নিরাপত্তার বিষয় বিবেচনায় বাংলাদেশ ভবিষ্যতে ছোট আকারের রিঅ্যাক্টর প্রযুক্তি ব্যবহারের সম্ভাবনা দেখছে। রাশিয়ার সঙ্গেও এসএমআর নিয়ে আলোচনা হয়েছে। এরই মধ্যে বাংলাদেশের উপকূলীয় অঞ্চলের জন্য ভাসমান পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রস্তাবও রাশিয়ার পক্ষ থেকে দেওয়া হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
- বিষয় :
- চুক্তি সই