আইনি সহায়তা সহজ করতে প্রযুক্তিভিত্তিক সমাধান তুলে ধরলেন তরুণরা
জাতীয় হ্যাকাথনের গ্র্যান্ড ফিনালে ও সমাপনী অনুষ্ঠান
সমকাল প্রতিবেদক
প্রকাশ: ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ১৩:৪০ | আপডেট: ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ১৩:৪৩
প্রযুক্তি ও উদ্ভাবনী চিন্তার মাধ্যমে মানুষের আইনি সহায়তা পাওয়ার সুযোগ সহজ করতে কাজ করছে তরুণরা। এ লক্ষ্যে আয়োজিত ‘লিগ্যাল-টেক হ্যাকাথন ২০২৬: ডিজিটাল লিগ্যাল এইড ফর ফিউচার’ বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের আইনি সহায়তা ব্যবস্থাকে আরও সহজ, দ্রুত ও জনবান্ধব করার নানা প্রযুক্তিভিত্তিক সমাধান তুলে ধরেছেন।
রোববার ঢাকায় দুই দিনব্যাপী জাতীয় এ হ্যাকাথনের গ্র্যান্ড ফিনালে ও সমাপনী অনুষ্ঠিত হয়। এতে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আইন, কম্পিউটার বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি, ব্যবসা, সুশাসন, জনপ্রশাসন ও সমাজবিজ্ঞানের শিক্ষার্থীরা অংশ নেন। আজ সোমবার ইউএনডিপি বাংলাদেশ এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে।
হ্যাকাথনে প্রায় ১ হাজার ২৫০ শিক্ষার্থী অংশ নেন। তারা প্রায় ২৫০টি দলে ভাগ হয়ে আইনি সহায়তা পাওয়ার ক্ষেত্রে বিদ্যমান বিভিন্ন সমস্যা সমাধানে প্রযুক্তিনির্ভর ধারণা উপস্থাপন করেন। ছয়টি বিষয়ভিত্তিক ক্ষেত্রে প্রতিযোগীরা কাজ করেন। এর মধ্যে ছিল আইনি সহায়তায় প্রবেশাধিকার বাড়ানো, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) দায়িত্বশীল ব্যবহার, ডিজিটাল মামলা ব্যবস্থাপনা, অনলাইনে বিরোধ নিষ্পত্তি, অন্তর্ভুক্তিমূলক সেবা প্রদান এবং এআই-নির্ভর কল সেন্টার সেবা।
প্রাথমিক বাছাই, পরামর্শ ও বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে মতবিনিময়ের পর নির্বাচিত দলগুলো গ্র্যান্ড ফিনালে তাদের উদ্ভাবনী ধারণা বিচারকদের সামনে উপস্থাপন করে। সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ লিগ্যাল এইডের মহাপরিচালক মো. মঞ্জুরুল হোসাইন। তিনি বলেন, ‘ডিজিটাল হওয়া মানে শুধু কাগজের ফরমকে কম্পিউটার ফাইলে রূপান্তর করা নয়। প্রযুক্তিকে অবশ্যই বিচারপ্রার্থীদের জন্য বিচার পাওয়ার প্রক্রিয়া সহজ, দ্রুত ও সবার জন্য সহজলভ্য করতে হবে।’
ইউএনডিপি বাংলাদেশের ডেমোক্রেটিক গভর্ন্যান্স ক্লাস্টারের সহকারী আবাসিক প্রতিনিধি আনোয়ারুল হক বলেন, ‘বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ গড়ে উঠবে এমন মানুষের হাতে, যারা জ্ঞানকে কল্পনাশক্তির সঙ্গে, প্রযুক্তিকে সহমর্মিতার সঙ্গে এবং উদ্ভাবনকে জনস্বার্থের দায়িত্ববোধের সঙ্গে যুক্ত করতে পারে।’
প্রতিযোগিতায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের দল ‘রেস জুডিকাটা ডিজিটালিস’ প্রথম স্থান অর্জন করে। কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘কোইউ জাস্টিসল্যাব’ প্রথম রানারআপ এবং বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের নিয়ে গঠিত ‘ল’ ডিবাগার্স’ দ্বিতীয় রানারআপ হয়।
আয়োজকরা জানান, বিজয়ী দলগুলো প্রযুক্তিগত উদ্ভাবনের পাশাপাশি তাদের প্রস্তাবের বাস্তবায়নযোগ্যতা, অন্তর্ভুক্তিমূলক দৃষ্টিভঙ্গি এবং জনস্বার্থে সম্ভাব্য প্রভাবের বিষয়েও গুরুত্ব দিয়েছে। ইউরোপীয় ইউনিয়নের অর্থায়নে ‘অ্যাক্সেলারেটিং ডিজিটাল লিগ্যাল এইড সার্ভিসেস ইন বাংলাদেশ (এডিএলএএসবি)’ প্রকল্পের আওতায় এ হ্যাকাথনের আয়োজন করা হয়।
আইন ও বিচার বিভাগের বাংলাদেশ লিগ্যাল এইড অধিদপ্তর প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে, কারিগরি সহায়তা দিচ্ছে ইউএনডিপি। প্রাথমিকভাবে দেশের আটটি জেলায় আরও সহজলভ্য, কার্যকর ও জনবান্ধব ডিজিটাল আইনি সহায়তা ব্যবস্থা গড়ে তোলার লক্ষ্য নিয়ে প্রকল্পটি কাজ করছে।
- বিষয় :
- প্রযুক্তি
- উদ্ভাবন
- আইনি সহায়তা