দুদকের দুই প্রেস ব্রিফিংয়ের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে আসিফ মাহমুদের রিট
আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া
সমকাল প্রতিবেদক
প্রকাশ: ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ১৮:১৭
সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা ও এনসিপি নেতা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়ার বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও অর্থপাচারের অভিযোগের অনুসন্ধান শুরুর পর্যায়েই ‘প্রাথমিক সত্যতা’ পাওয়ার ঘোষণা দিয়ে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) করা দুটি প্রেস ব্রিফিংয়ের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে রিট আবেদন করা হয়েছে।
গত রোববার হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় রিট আবেদনটি করেন আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া।
রিটে গত ২ ও ১৩ সেপ্টেম্বর দুদকের উপপরিচালক ও সহকারী পরিচালকের দেওয়া প্রেস ব্রিফিংকে কেন আইনগত কর্তৃত্ববহির্ভূত ঘোষণা করা হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারির আর্জি জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে এসব ব্রিফিংয়ের মাধ্যমে সংবিধানে নাগরিকের মর্যাদা ও সুনাম সুরক্ষার বিধান লঙ্ঘিত হয়েছে কি না এবং দুদকের ‘তথ্য অবমুক্তকরণ নীতিমালা-২০১১’-এর পরিপন্থি কি না, তা জানতে চেয়েও রুল জারির আবেদন করা হয়েছে।
এ ছাড়া চলমান অনুসন্ধান বা তদন্ত নিয়ে ভবিষ্যতে আর কোনো প্রেস ব্রিফিং না করতে দুদককে নির্দেশ দেওয়ার আবেদন জানানো হয়েছে।
রিটে বলা হয়েছে, কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে নির্দিষ্ট অর্থ আত্মসাৎ বা অর্থপাচারের অভিযোগ আইনি প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার আগে প্রকাশ্যে সত্য হিসেবে ঘোষণা করার ক্ষমতা দুদক বা এর জনসংযোগ কর্মকর্তাদের দেওয়া হয়নি। অনুসন্ধান শুরুর পরপরই কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে এ ধরনের প্রেস ব্রিফিং করা ‘আইনগত কর্তৃত্ববহির্ভূত’। এতে বিচার হওয়ার আগেই নির্দোষ থাকার আইনি ধারণা ক্ষুণ্ন হয় এবং ‘মিডিয়া ট্রায়াল’-এর পরিস্থিতি তৈরি হয় বলে রিটে উল্লেখ করা হয়েছে।
গত ২ সেপ্টেম্বর আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে ৭৬ লাখ টাকা নেওয়াসহ বিভিন্ন অভিযোগের ‘প্রাথমিক সত্যতা’ পাওয়ার কথা জানায় দুদক। রিট আবেদনে বলা হয়েছে, সরকারি নথি অনুযায়ী, সংশ্লিষ্ট সিদ্ধান্তগুলো প্রশাসনিক আপিল ট্রাইব্যুনাল ও সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের ছিল।
রিটকারীর আইনজীবী জহিরুল ইসলাম মুসা বলেন, তদন্ত বা অনুসন্ধান শেষ হওয়ার আগে কিংবা কারও বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিকভাবে মামলা হওয়ার আগে কাউকে অভিযুক্ত করা বা ‘প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া গেছে’ এমন বক্তব্য দেওয়ার কোনো কর্তৃত্ব দুদকের নেই।
- বিষয় :
- আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া
- রিট