ঢাকা সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬

বাপার সংবাদ সম্মেলন

মহেশখালীর সংরক্ষিত বনের ভেতর সড়ক নির্মাণ বন্ধের দাবি

পাহাড় ও গাছ কাটার পাশাপাশি বন্য প্রাণীর আবাসস্থল ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা পরিবেশবাদীদের

মহেশখালীর সংরক্ষিত বনের ভেতর সড়ক নির্মাণ বন্ধের দাবি
×

সোমবার রাজধানীর ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে ‘অপরিকল্পিত উন্নয়নে বিপন্ন কক্সবাজার: পরিবেশবাদীদের উদ্বেগ’ শীর্ষক সংবাদ সম্মেলন করে বাপা। ছবি-সমকাল

সমকাল প্রতিবেদক 

প্রকাশ: ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ১৮:৪৩

কক্সবাজারের মহেশখালীর সংরক্ষিত বনের ভেতরে সড়ক নির্মাণ বন্ধের দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা)। সংগঠনটির অভিযোগ, সংরক্ষিত বনের ভেতর দিয়ে সড়ক নির্মাণ করা হলে পাহাড় ও গাছ কাটার পাশাপাশি বন্য প্রাণীর আবাসস্থল ক্ষতিগ্রস্ত হবে। একই সঙ্গে কক্সবাজারের সুগন্ধা সৈকতের বালিয়াড়িতে চলমান সড়ক নির্মাণ বন্ধ এবং সোনাদিয়া দ্বীপের অবৈধ দখল উচ্ছেদ করে জীববৈচিত্র্য পুনরুদ্ধারেরও দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি।

সোমবার রাজধানীর ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে ‘অপরিকল্পিত উন্নয়নে বিপন্ন কক্সবাজার: পরিবেশবাদীদের উদ্বেগ’ শীর্ষক সংবাদ সম্মেলনে এসব দাবি জানানো হয়।

সংবাদ সম্মেলনে বাপার সহসভাপতি জাকির হোসেন মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন। তিনি বলেন, কক্সবাজারের প্রতিবেশ সংকটাপন্ন এলাকাগুলো অপরিকল্পিত উন্নয়নের কারণে ক্রমেই ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এর মধ্যে মহেশখালীর সংরক্ষিত বনের ভেতরে সড়ক নির্মাণের উদ্যোগ বিশেষভাবে উদ্বেগজনক। সংরক্ষিত বন ও পাহাড়ি প্রতিবেশের ওপর প্রভাব বিবেচনা না করে এ ধরনের অবকাঠামো নির্মাণ করা হলে দীর্ঘমেয়াদে এর ক্ষতি পূরণ করা কঠিন হবে।

জাকির হোসেন বলেন, মহেশখালীর সংরক্ষিত বনের ভেতরে সড়ক নির্মাণ বন্ধ করতে হবে। পাশাপাশি সুগন্ধা সৈকতের বালিয়াড়িতে চলমান সড়ক নির্মাণ অবিলম্বে বন্ধ, হাইকোর্টের মামলা নম্বর ২২৬/২০১১-এর রায় ও নির্দেশনা পূর্ণাঙ্গভাবে বাস্তবায়ন এবং ২০২৫ সালের ২৩ সেপ্টেম্বর পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী অবৈধ স্থাপনা ও দখল উচ্ছেদ করতে হবে। বালিয়াড়িতে কোনো প্রকল্প নেওয়ার আগে পরিবেশগত প্রভাব সমীক্ষা (ইআইএ) এবং বিশেষজ্ঞ মতামত বাধ্যতামূলক করারও দাবি জানান তিনি।

সংবাদ সম্মেলনে অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে বাংলাদেশ অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। এ পরিস্থিতিতে দেশের উপকূলীয় অঞ্চলের প্রাকৃতিক প্রতিরক্ষা ও প্রতিবেশব্যবস্থা রক্ষা করা জরুরি। কিন্তু উপকূলজুড়ে এমন সব উন্নয়ন প্রকল্প নেওয়া হচ্ছে, যার কারণে প্রাকৃতিক প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

মহেশখালীর উদাহরণ তুলে ধরে তিনি বলেন, পাহাড়ি বনের মধ্য দিয়ে রাস্তা বানানো হচ্ছে। এতে গাছপালা ও পাহাড় কাটা পড়বে। বন্য প্রাণীর আবাসস্থল ক্ষতিগ্রস্ত হবে। জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বাড়ছে, লবণাক্ততা ছড়িয়ে পড়ছে এবং উপকূলীয় জনবসতি ঝুঁকির মুখে পড়ছে। এই পরিস্থিতিতে উপকূলের প্রাকৃতিক প্রতিবেশব্যবস্থা ধ্বংস না করে তা রক্ষা করা প্রয়োজন।

তিনি অভিযোগ করেন, জনস্বার্থ, পরিবেশ ও প্রাণ-প্রকৃতিকে অগ্রাহ্য করে আগের সরকারের সময়ে যেসব উন্নয়ন কার্যক্রম নেওয়া হয়েছিল, গত সাত মাসে বর্তমান সরকারের কথাবার্তা ও কর্মকাণ্ডেও সেরকম প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। এ প্রবণতা থেকে সরকারকে সরে আসার আহ্বান জানান তিনি।

সংবাদ সম্মেলনে সোনাদিয়া দ্বীপে প্যারাবন ধ্বংস করে চিংড়ি ঘের নির্মাণের অভিযোগও তুলে ধরা হয়। বাপার পক্ষ থেকে সোনাদিয়ার অবৈধ দখল উচ্ছেদ করে দ্বীপটির জীববৈচিত্র্য পুনরুদ্ধারে সরকারি উদ্যোগ নেওয়ার দাবি জানানো হয়।

আনু মুহাম্মদ বলেন, সোনাদিয়া দ্বীপেও পরিবেশ ধ্বংসের একই ধরনের কর্মকাণ্ড চলছে। পরিবেশ রক্ষার দায়িত্বে থাকা মন্ত্রণালয়কে কার্যকর ভূমিকা নিতে হবে।

বাপার কক্সবাজার জেলার সাধারণ সম্পাদক করিম উল্লাহ কলিম বলেন, গুটিকয়েক মানুষের স্বার্থে প্রতিবেশ সংকটাপন্ন এলাকায় সড়ক নির্মাণ করা হচ্ছে। সমুদ্রের জায়গা দখল করে প্লট বাণিজ্যের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি। তিনি বলেন, বালিয়াড়ি সৈকতের প্রাকৃতিক সুরক্ষাকবচ। এটি নষ্ট হলে সামুদ্রিক প্রতিবেশব্যবস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

সংবাদ সম্মেলনে বাপার সাধারণ সম্পাদক মো. আলমগীর কবির বলেন, সরকারের পক্ষ থেকে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে পরিবেশ ও জলবায়ু নিয়ে বিভিন্ন প্রতিশ্রুতি দেওয়া হচ্ছে। কিন্তু দেশের ভেতরে পরিবেশ বিধ্বংসী কর্মকাণ্ড চলতে থাকলে সেই প্রতিশ্রুতির সঙ্গে বাস্তবতার অসংগতি তৈরি হয়।

বাপার সভাপতি অধ্যাপক নুর মোহাম্মদ তালুকদার বলেন, পরিবেশ রক্ষায় সরকারের যে প্রতিশ্রুতি রয়েছে, তার প্রতিফলন কথা ও কাজে থাকতে হবে।

আরও পড়ুন

×