সবাইকে নিয়ে সংবিধান ও রাষ্ট্রের মৌলিক সংস্কার করার আহ্বান
মাহমুদুর রহমান মান্না
সমকাল প্রতিবেদক
প্রকাশ: ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ০৮:০১
| প্রিন্ট সংস্করণ
বিরোধী দলসহ সবাইকে নিয়ে সংবিধান ও রাষ্ট্রের মৌলিক সংস্কার করার জন্য বিএনপি সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না। সরকারের উদ্দেশে তিনি বলেন, গায়ের জোরে কিছু না করাই ভালো। সবাইকে নিয়ে কাজ করতে হবে। এমন কিছু করবেন না, যাতে আরও সংকটে পড়ে যান। জাতি অন্ধকারে নিমজ্জিত হয়ে যায়। সংবিধান সংশোধন বা সংস্কারে ব্যর্থ হলে সমস্ত দায়দায়িত্ব বিএনপির ওপর পড়ে যাবে।
গতকাল সোমবার জাতীয় প্রেস ক্লাবে নাগরিক ঐক্য আয়োজিত ‘রাষ্ট্র সংস্কার এবং সংবিধান বিতর্ক’ শীর্ষক আলোচনা সভায় সভাপতির বক্তব্যে মাহমুদুর রহমান মান্না এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, সংস্কারের মাধমে রাষ্ট্র এমন হতে হবে, যাতে তা গণতান্ত্রিক ও সংবিধান বাস্তবায়ন হয়। জুলাই সনদ ও বিএনপির ইশতেহারেও রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতার ভারসাম্য এবং ক্ষমতা বিকেন্দ্রীকরণের কথা ছিল। কিন্তু ক্ষমতা কি বিকেন্দ্রীকরণ হয়েছে? তা না হলে পুনরায় স্বৈরাচার হয়ে ওঠা স্বাভাবিক।
গণভোটের প্রসঙ্গ তুলে মাহমুদুর রহমান
মান্না বলেন, গণভোটের কথা অনুযায়ী সংবিধান পরিষদ গঠন করার কথা ছিল। সংবিধানের তত্ত্বাবধায়ক হচ্ছেন সুপ্রিম কোর্ট। এখন সুপ্রিম কোর্ট চাইলেই বাতিল করে দিতে পারেন। এই প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ সম্পাদকদের সঙ্গে বৈঠকে বলছেন, আরেকটি গণভোট নাকি লাগতে পারে।
মাহমুদুর রহমান মান্না বলেন, বাংলাদেশে অত্যাচারের উৎসব লেগেছে। সারাদেশে খুনোখুনি, ধর্ষণ, হামলা, গ্রেপ্তার ও মানুষের নিরাপত্তাহীনতার ঘটনা ঘটছে। অথচ বড় একটি গণঅভ্যুত্থানের পর এমন পরিস্থিতি হওয়ার কথা ছিল না।
সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিও ভাঙচুরের একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার কথা উল্লেখ করে মান্না বলেন, মানুষের স্বপ্ন কীভাবে গুঁড়িয়ে যায়, তার একটি জলজ্যান্ত চিত্র দেখা গেছে। সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিওটি দেশের অন্যতম আধুনিক স্টুডিও ছিল। সেটি এভাবে ভেঙে দেওয়া হয়েছে! সালমান মুক্তাদির বলছিলেন, তাঁর নিজের শক্তি আছে এবং আবারও স্টুডিওটি দাঁড় করানোর সক্ষমতা আছে। কিন্তু সেখানে যারা চাকরি করেন, তাদের কী হবে?
নিজের দলের এক নেতার গ্রেপ্তার প্রসঙ্গ তুলে নাগরিক ঐক্যের সভাপতি বলেন, তাঁর এলাকা শিবগঞ্জ উপজেলা নাগরিক ঐক্যের সাধারণ সম্পাদককে পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে। তিনি পুলিশকে ফোন করে জানতে পারেন, পুলিশের কাছে কোনো মামলা হয়নি; আদালতে মামলা হয়েছে। এরপর ম্যাজিস্ট্রেট আদালত জামিন দেননি। আবার জজকোর্টও তিন দিন ধরে বসেনি।
তিনি বলেন, এর মানে, তারা নিম্ন আদালতও দখল করে ফেলেছে। কারা? ওই যে সালমান মুক্তাদির বলেছেন না; কারা– তারাই। ওই একই লোক। তাঁর দলের সাধারণ সম্পাদক গ্রেপ্তার হয়েছেন, কিন্তু মামলার কপি দেওয়া হবে না এবং জজকোর্ট বসবে না– এটা কেমন কথা!
আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে মান্না বলেন, দেশজুড়ে কীভাবে খুনোখুনি ও ধর্ষণ চলছে, তা সবাই জানেন। এর মধ্যে গড়পড়তা ২০ টাকা করে তেলের দাম বাড়ানো হয়েছে। সারা পৃথিবীতে তেলের দাম কমলেও বাংলাদেশে বেড়েছে।
আরও বক্তব্য দেন নাগরিক ঐক্যের সাধারণ সম্পাদক শহিদুল্লাহ্ কায়সার, প্রেসিডিয়াম সদস্য জিন্নুর আহমেদ চৌধুরী দিপু, দেলোয়ার হোসেন রাজা, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শাকিব আনোয়ার, নাগরিক নারী ঐক্যের সদস্য সচিব ফেরদৌসী আক্তার প্রমুখ। সভা সঞ্চালনা করেন নাগরিক ঐক্যের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক কবির হোসেন।
- বিষয় :
- মাহমুদুর রহমান মান্না