ঢাকা মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬

থার্ড টার্মিনাল: ব্যয় বাড়ল ৮৪৮ কোটি টাকা

থার্ড টার্মিনাল: ব্যয় বাড়ল ৮৪৮ কোটি টাকা
×

ফাইল ছবি

সমকাল প্রতিবেদক

প্রকাশ: ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ২১:১৬ | আপডেট: ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ২১:৫৪

হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর সম্প্রসারণ (প্রথম পর্যায়) প্রকল্প তৃতীয়বারের মতো সংশোধন করা হয়েছে। এতে নতুন করে ব্যয় বেড়েছে ৮৪৮ কোটি টাকা। এ নিয়ে প্রকল্পের মোট ব্যয় দাঁড়ালো ২২ হাজার ২১৩ কোটি টাকায়। নির্মাণকাল বাড়ানো হয়েছে এক বছর। আগামী বছরের জুন পর্যন্ত এ প্রকল্পের মেয়াদ ধরা হয়েছে। এই প্রকল্পের অধীনে শাহজালালে থার্ড টার্মিনাল নির্মাণ হচ্ছে। 

আজ মঙ্গলবার জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক) বৈঠকে এই  সংশোধন অনুমোদন করা হয়। একনেক সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন। সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত বৈঠকে মোট ১৩টি প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়। তিনটি প্রকল্প ফেরত দেওয়া হয়। ফেরত দেওয়া প্রকল্পগুলোর প্রকল্প প্রস্তাব (ডিপিপি) পুনর্গঠনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

অনুমোদন হওয়া প্রকল্পগুলোর মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ১৫ হাজার ৮২৪ কোটি টাকা। এরমধ্যে সরকারের যোগান ১০ হাজার ১৮৮ কোটি টাকা। পাঁচ হাজার ২৫৩ কোটি টাকা বিদেশি ঋণ থাকছে। বাকি ৩৮২ কোটি টাকা বাস্তবায়নকারী সংস্থাগুলোর নিজস্ব। অনুমোদন হওয়া প্রকল্পগুলোর ৫টি সংশোধিত, বাকিগুলো নতুন প্রকল্প। 

সম্ভাব্যতা যাচাইয়ে নীতিমালা হচ্ছে 
পরিকল্পনা কমিশনের এনইসি সম্মেলন কক্ষে এক ব্রিফিংয়ে বৈঠকের বিস্তারিত তুলে ধরেন পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ আব্দুর রহিম সাকী। তিনি বলেন, প্রকল্পের সময় ও ব্যয় সাশ্রয়ের নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। প্রকল্পের সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের দুর্বলতার কারণে শেষ পর্যন্ত প্রকল্পের ব্যয় ও সময় বেশি লেগে। এক্ষেত্রে সম্ভাব্যতা যাচাই আরও যথাযথভাবে করার পরামর্শ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের অবহেলায় সঙ্গে জড়িতদের জবাবদিহির আওতার আনার বিষয়ে আলোচনা হয়েছে বৈঠকে। প্রকল্পের সম্ভাব্যতা যাচাইয়ে একটি নীতিমালা করার বিষয়ে সিদ্ধান্ত হয়েছে একনেক বৈঠকে। এর ফলে যথাযথ সম্ভাব্যতা যাচাই হবে। প্রকল্পের সময় ও ব্যয় সাশ্রয় হবে। 

বিমানবন্দর প্রকল্পে বাড়তি ব্যয়
তৃতীয় দফা সংশোধনের পর হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর সম্প্রসারণ প্রকল্পে মূল প্রকল্পের তুলনায় বাড়তি ব্যয় দাঁড়িয়েছে ৭ হাজার ৭৪৫ কোটি টাকা। ২০১৬ সালে প্রকল্পটি অনুমোদনের সময় ব্যয় ধরা হয় ১৩ হাজার ৬১০ কোটি টাকা। ওই বছরের জুনে কাজ শুরু হয়ে শেষ হওয়ার কথা ছিল ২০২২ সালের জুনে। সময়মত কাজ শেষ না হওয়ায় সংশোধন করে মেয়াদ আরও তিন বছর বাড়ানো হয়। সময় বাড়ানো  হয় ২০২৫ সালের জুন পর্যন্ত । তখন ব্যয় বাড়ানো হয় ৮৪৭ কোটি টাকা। দ্বিতীয় সংশোধনীতে ব্যয় বেড়ে দাঁড়ায় ২১ হাজার ৩৬৫ কোটি ৫২ লাখ টাকা। এবার তৃতীয় সংশোধনীতে ব্যয় ২২ হাজার ২১৩ কোটি টাকা। অর্থাৎ তৃতীয় সংশোধনীতে প্রকল্প ব্যয় বাড়ছে ৮৪৭ কোটি ৫৮ লাখ টাকা। প্রকল্পে সরকারের অর্থায়ন থাকছে ৫ হাজার ১১৬ কোটি টাকা।  বাকি ১৭ হাজার ৯৭ কোটি টাকা ঋণ দিচ্ছে জাপান সরকারের উন্নয়ন সহযোগী সংস্থা জাইকা। প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক)। 

আরও পড়ুন

×