ঢাকা বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬

বিশেষায়িত ওষুধে মার্কিন শুল্ক ছাড়ের তালিকায় বাংলাদেশ

বিশেষায়িত ওষুধে মার্কিন শুল্ক ছাড়ের তালিকায় বাংলাদেশ
×

ফাইল ছবি

সমকাল প্রতিবেদক

প্রকাশ: ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ২৩:২৭

বাংলাদেশসহ বিশ্বের ২০টি দেশ ও অঞ্চল থেকে আমদানি করা নির্দিষ্ট শ্রেণির বিশেষায়িত ওষুধ (স্পেশালটি ড্রাগস) ও এর প্রয়োজনীয় উপাদানের ওপর মূল্যানুপাতিক বা ‘অ্যাড ভ্যালোরেম’ শুল্ক আরোপ করবে না যুক্তরাষ্ট্র। মঙ্গলবার থেকে এ সিদ্ধান্ত কার্যকর হয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের প্রকাশিত তালিকায় শুল্ক ছাড়ের সুবিধা পাওয়া দেশ ও অঞ্চলগুলোর মধ্যে বাংলাদেশও রয়েছে। তবে বাংলাদেশের রপ্তানি করা সব ধরনের ওষুধ এই সুবিধার আওতায় পড়বে না। নির্দিষ্ট কিছু বিশেষায়িত ওষুধ এবং সেগুলোর উপাদানের ক্ষেত্রে এ ছাড় প্রযোজ্য হবে।

এর আগে যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ উৎপাদন বাড়ানোর উদ্যোগের অংশ হিসেবে গত ২ এপ্রিল পেটেন্টকৃত ওষুধ, বায়োলজিকস এবং এসব পণ্যের কাঁচামাল ও উপাদানের ওপর অতিরিক্ত শুল্ক আরোপের ঘোষণা দেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

মার্কিন বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, শুল্ক ছাড়ের আওতায় থাকা পণ্যের মধ্যে রয়েছে বিরল রোগের চিকিৎসায় ব্যবহৃত ‘অরফান ড্রাগস’, পারমাণবিক ওষুধ, প্লাজমা থেকে তৈরি থেরাপি, প্রজনন ও বন্ধ্যত্ব চিকিৎসার ওষুধ, সেল ও জিন থেরাপি এবং অ্যান্টিবডি-ড্রাগ কনজুগেটস। এ ছাড়া রাসায়নিক, জৈবিক, তেজস্ক্রিয় ও পারমাণবিক হুমকির ক্ষেত্রে ব্যবহারের জন্য প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসামগ্রী এবং প্রাণিস্বাস্থ্য-সংক্রান্ত নির্দিষ্ট পণ্যও এ সুবিধার আওতায় রয়েছে।

বাংলাদেশ ছাড়া তালিকায় থাকা অন্য দেশ ও অঞ্চলগুলো হলো আর্জেন্টিনা, কম্বোডিয়া, ইকুয়েডর, এল সালভাদর, ইউরোপীয় ইউনিয়ন, গুয়াতেমালা, ভারত, ইন্দোনেশিয়া, জাপান, জর্ডান, মালয়েশিয়া, উত্তর মেসিডোনিয়া, দক্ষিণ কোরিয়া, সুইজারল্যান্ড ও লিচেনস্টাইন, তাইওয়ান, থাইল্যান্ড, যুক্তরাজ্য এবং ভিয়েতনাম।

কোন পণ্য শুল্ক ছাড় পাবে

মার্কিন বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বর্তমান বা ভবিষ্যতে বাণিজ্য ও নিরাপত্তা-সংক্রান্ত কোনো চুক্তির আওতায় থাকা দেশ থেকে সরবরাহ করা পণ্য শুল্ক ছাড়ের যোগ্য হতে পারে। একইভাবে কোনো পণ্য যুক্তরাষ্ট্রের জরুরি স্বাস্থ্যসেবার চাহিদা পূরণে সক্ষম হলে সেটিও এ সুবিধার জন্য বিবেচিত হবে।

জরুরি স্বাস্থ্যসেবার চাহিদা পূরণকারী পণ্যের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলো পণ্যটি শুল্ক ছাড়ের জন্য অনুমোদনের আবেদন করতে পারবে। এ আবেদনের অনুমোদন দেবে মার্কিন বাণিজ্য মন্ত্রণালয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, সাধারণ বা জেনেরিক ওষুধ এবং এসব ওষুধের উপাদান যুক্তরাষ্ট্রের ‘সেকশন ২৩২’-এর ফার্মাসিউটিক্যাল শুল্কের আওতায় পড়বে না। এ ছাড়া মূল ঘোষণার কিছু কারিগরি বিষয়ও সংশোধন করা হয়েছে। সংশোধিত সংজ্ঞায় জেনেরিক ওষুধের পরিধি বাড়ানো হয়েছে। এর মধ্যে পেটেন্টহীন প্রাণিস্বাস্থ্য-সংক্রান্ত পণ্যও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

একই সঙ্গে ‘ফার্মাসিউটিক্যাল আর্টিক্যালস’ বা ওষুধসামগ্রীর সংজ্ঞাও বিস্তৃত করা হয়েছে। এতে চূড়ান্তভাবে প্রস্তুত ওষুধের পাশাপাশি এর সক্রিয় উপাদান বা এপিআই (অ্যাকটিভ ফার্মাসিউটিক্যাল ইনগ্রেডিয়েন্ট) এবং এসব উপাদান তৈরির মূল প্রারম্ভিক কাঁচামাল বা ‘কি স্টার্টিং ম্যাটেরিয়ালস’ অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। ‘অ্যাড ভ্যালোরেম’ শুল্ক বলতে আমদানি করা পণ্যের মূল্যের নির্দিষ্ট শতাংশের ভিত্তিতে আরোপ করা শুল্ক বা করকে বোঝায়।  শুল্ক সংস্থার (ডব্লিউসিও) সংজ্ঞা অনুযায়ী, এ ধরনের শুল্ক পণ্যের মূল্যকে ভিত্তি করে নির্ধারণ করা হয়।

বাংলাদেশ ঔষধ শিল্প সমিতির সাবেক মহাসচিব ও ডেল্টা ফার্মা লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ডা. জাকির হোসেন সমকালকে বলেন, বিশেষায়িত ওষুধে যুক্তরাষ্ট্রের শুল্ক ছাড়ের তালিকায় বাংলাদেশকে অন্তর্ভুক্ত করা নিঃসন্দেহে ভালো খবর। তবে এই সুবিধা তখনই বাংলাদেশের জন্য লাভজনক হবে, যখন দেশের ওষুধ কোম্পানিগুলো বিশেষায়িত ওষুধ উৎপাদন করে যুক্তরাষ্ট্রে রপ্তানি করতে পারবে।

তিনি বলেন, বর্তমানে বাংলাদেশের আটটি ওষুধ কোম্পানির যুক্তরাষ্ট্রে ওষুধ রপ্তানির অনুমোদন বা নিবন্ধন রয়েছে। এর মধ্যে মাত্র একটি কোম্পানি বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে ওষুধ রপ্তানি করছে। ফলে নতুন এই শুল্ক সুবিধা কাজে লাগাতে হলে দেশের অন্যান্য কোম্পানিকেও বিশেষায়িত ওষুধ উৎপাদনে সক্ষমতা তৈরি করতে হবে এবং যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে রপ্তানির জন্য প্রয়োজনীয় নিবন্ধন ও অনুমোদন নিতে হবে।

আরও পড়ুন

×