ঢাকা বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬

প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম আধুনিকায়নের সুপারিশ সংসদীয় কমিটির

প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম আধুনিকায়নের সুপারিশ সংসদীয় কমিটির
×

ছবি: সংগৃহীত

সমকাল প্রতিবেদক

প্রকাশ: ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ২১:৫৭

পুরোনো আমলের যন্ত্রপাতি থেকে বেরিয়ে এসে বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনীকে আধুনিক প্রতিরক্ষা সরঞ্জামে সজ্জিত করার সুপারিশ করেছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটি। একইসঙ্গে সশস্ত্র বাহিনীতে মেধা, দক্ষতা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে পদায়ন নিশ্চিত করারও সুপারিশ করেছে কমিটি।

বুধবার জাতীয় সংসদ ভবনে কমিটির প্রথম বৈঠকে এসব সুপারিশ করা হয়।

কমিটির সভাপতি আশরাফ উদ্দিনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে কমিটির সদস্য ও জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি, হুইপ মিয়া নুরুদ্দিন আহাম্মেদ অপু, এস. এম. জিলানী, আব্দুস সালাম আজাদ, রেজা আহাম্মেদ, লুৎফুর রহমান ও আব্দুল বাতেন অংশ নেন।

বৈঠকের শুরুতে কমিটির সদস্যদের সঙ্গে প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এবং এর অধীন দপ্তর ও সংস্থাগুলোর প্রধানদের পরিচিতি ও তাদের কার্যক্রম নিয়ে প্রাথমিক পর্যালোচনা হয়। বৈঠকে প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীন ২৫টি দপ্তর ও সংস্থার কার্যক্রম সম্পর্কে কমিটিকে অবহিত করা হয়।

বৈঠকে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী ও বিমানবাহিনীর আধুনিকায়ন কার্যক্রম নিয়ে সংক্ষেপে আলোচনা হয়। সশস্ত্র বাহিনীকে সময়োপযোগী ও আধুনিক সক্ষমতায় গড়ে তুলতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার ওপর গুরুত্ব দেন কমিটির সদস্যরা।

কমিটি মনে করে, পুরোনো যন্ত্রপাতি ও সরঞ্জামের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে আধুনিক প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম দিয়ে সশস্ত্র বাহিনীকে সজ্জিত করা প্রয়োজন। এজন্য মান্ধাতা আমলের মেশিনারিজ থেকে বেরিয়ে এসে আধুনিক প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম ব্যবহারের সুপারিশ করা হয়।

এ ছাড়া সেনাবাহিনী কর্তৃক নির্মাণাধীন অবকাঠামোতে জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত করার মাধ্যমে ব্যয় কমানোর পরিকল্পনা নিয়েও বৈঠকে আলোচনা হয়। ‘সেভ এনার্জি, সেভ মানি’ পরিকল্পনার আওতায় নির্মাণকাজ ও অবকাঠামো ব্যবস্থাপনায় জ্বালানি সাশ্রয়ী ব্যবস্থা নিশ্চিত করার কথা বলা হয়।

বৈঠকে সশস্ত্র বাহিনীতে মেধা, দক্ষতা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে পদায়ন নিশ্চিত করার সুপারিশ করা হয়। জনগণের পক্ষে বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনী কাজ করবে বলে আশা প্রকাশ করেন কমিটির সদস্যরা। একটি আধুনিক ও আত্মনির্ভরশীল বাংলাদেশ গঠনে সশস্ত্র বাহিনী গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলেও প্রত্যাশা ব্যক্ত করা হয়।

স্বাগত বক্তব্যে কমিটির সভাপতি আশরাফ উদ্দিন বাংলাদেশের মহান স্বাধীনতা যুদ্ধে আত্মোৎসর্গকারী শহীদদের গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন। একইসঙ্গে পার্বত্য চট্টগ্রাম, জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনসহ বিভিন্ন সময়ে দায়িত্ব পালনকালে প্রাণ উৎসর্গকারী সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান তিনি।

২০২৪ সালের জুলাই আন্দোলনে নিহত ছাত্র–জনতাকেও স্মরণ করেন কমিটির সভাপতি। আন্দোলনে আহতদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান তিনি। সভাপতির বক্তব্যে বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় সশস্ত্র বাহিনীর গৌরবোজ্জ্বল ভূমিকার কথা তুলে ধরা হয়। স্বাধীনতার পর সশস্ত্র বাহিনীর পুনর্গঠন, শৃঙ্খলা ও সক্ষমতা বৃদ্ধি, প্রতিরক্ষা নীতির উন্নয়ন এবং আধুনিকায়নে সাবেক প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ভূমিকার কথাও উল্লেখ করা হয়। পাশাপাশি সশস্ত্র বাহিনীর আধুনিকায়ন ও প্রতিরক্ষা প্রতিষ্ঠান সম্প্রসারণে সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার অবদানের কথা তুলে ধরা হয়।

বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে বাংলাদেশের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সুদৃঢ় করতে সশস্ত্র বাহিনীর সক্ষমতা বৃদ্ধি, কলেবর বৃদ্ধি, আধুনিকায়ন ও প্রশিক্ষণের উন্নয়নের বিভিন্ন পরিকল্পনা ও পদক্ষেপের কথাও তুলে ধরা হয়।

এ সময় প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব, অতিরিক্ত সচিব, সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী ও বিমানবাহিনীর সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা এবং জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

আরও পড়ুন

×