প্রচণ্ড গরমে ফের বেড়েছে লোডশেডিং
সমকাল প্রতিবেদক
প্রকাশ: ০১ অক্টোবর ২০২৬ | ১১:৫০
| প্রিন্ট সংস্করণ
তীব্র গরমে বিদ্যুতের চাহিদা বাড়ার মধ্যেই বড় কয়েকটি বিদ্যুৎকেন্দ্রের উৎপাদন কমে যাওয়ায় দেশজুড়ে লোডশেডিং ফের বেড়েছে। জাতীয় গ্রিডে গতকাল বুধবার দুপুর ২টায় চাহিদার চেয়ে সরবরাহ ঘাটতি ছিল এক হাজার ৬১৭ মেগাওয়াট। রাতের দিকে ঘাটতি আরও বেড়ে দুই হাজার মেগাওয়াট ছাড়ায়। কোথাও দিনে-রাতে পালাক্রমে লোডশেডিং হচ্ছে, আবার কোথাও সরবরাহ করা হচ্ছে চাহিদার অর্ধেকেরও কম বিদ্যুৎ।
পাওয়ার গ্রিডের তথ্য অনুযায়ী, গতকাল দুপুর ২টায় দেশে বিদ্যুতের চাহিদা ছিল ১৫ হাজার ৮৬০ মেগাওয়াট। বিপরীতে সরবরাহ হয়েছে ১৪ হাজার ২৪৩ মেগাওয়াট। ফলে ঘাটতি ছিল এক হাজার ৬১৭ মেগাওয়াট। দুপুর ১২টার ডে-পিকে ১৫ হাজার ৩২৮ মেগাওয়াট চাহিদার বিপরীতে সরবরাহ ছিল ১৩ হাজার ৯২১ মেগাওয়াট। ঘাটতি ছিল এক হাজার ৪০৭ মেগাওয়াট।
এর আগের দিন রাত ৯টায় ইভিনিং পিকে চাহিদা ছিল ১৬ হাজার ৯৮৭ মেগাওয়াট। সরবরাহ হয় ১৬ হাজার ৯ মেগাওয়াট, লোডশেডিং ৯৭৮ মেগাওয়াট। রাত ১টায় ঘাটতি বেড়ে দাঁড়ায় দুই হাজার ৩৮৭ মেগাওয়াটে।
বিদ্যুৎ উৎপাদনে ঘাটতির অন্যতম কারণ বড় কয়েকটি কেন্দ্রের কম উৎপাদন। রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্রে এক হাজার ২৩৫ মেগাওয়াট সক্ষমতার বিপরীতে গতকাল দুপুরে উৎপাদন হয়েছে ৭৫০ মেগাওয়াট। কারিগরি ত্রুটির কারণে পায়রা বিদ্যুৎকেন্দ্রের উৎপাদনও কমেছে। এর বাইরে আদানি বিদ্যুৎকেন্দ্রসহ কয়েকটি বড় কেন্দ্র পূর্ণ সক্ষমতায় না চলায় জাতীয় গ্রিডে সরবরাহের ঘাটতি তৈরি হয়েছে।
গতকাল দুপুর ১২টায় দেশে মোট গ্যাস সরবরাহ ছিল ২৬৩ কোটি ৫০ লাখ ঘনফুট। এর মধ্যে দেশীয় গ্যাস ১৬১ কোটি ৮০ লাখ এবং এলএনজি থেকে ১০১ কোটি ৭০ লাখ ঘনফুট।
জাতীয় পর্যায়ের বিদ্যুৎ ঘাটতির সবচেয়ে বড় ধাক্কা পড়ছে আঞ্চলিক বিতরণ ব্যবস্থায়। বরিশাল অঞ্চলে গত দুদিনে বিদ্যুৎ ঘাটতি চাহিদার প্রায় ৪০ শতাংশে উঠেছে। ওজোপাডিকো ও ছয়টি পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির আওতায় এ অঞ্চলে সর্বোচ্চ চাহিদা প্রায় ৮৫০ মেগাওয়াট। কিন্তু ডে-পিক ও নাইট-পিক সময়ে পিজিসিবি থেকে সাড়ে ৪০০ মেগাওয়াটের বেশি সরবরাহ করা যাচ্ছে না।
ফলে বরিশালের বিভিন্ন এলাকায় দিনরাত পালাক্রমে লোডশেডিং চলছে। হাসপাতাল, শিল্পপ্রতিষ্ঠান ও ব্যবসা-বাণিজ্যেও এর প্রভাব পড়েছে। শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালসহ বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাসেবা ব্যাহত হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
ময়মনসিংহ অঞ্চলেও লোডশেডিংয়ের চাপ তুলনামূলক বেশি। ময়মনসিংহ, নেত্রকোনা, কিশোরগঞ্জ, টাঙ্গাইল, জামালপুর ও শেরপুর নিয়ে গঠিত এ অঞ্চলে গত ১৫ সেপ্টেম্বর রাত ৯টায় এক হাজার ৬৪০ মেগাওয়াট চাহিদার বিপরীতে ঘাটতি ছিল ৪৫৫ মেগাওয়াট। ওই সময় সারাদেশে মোট লোডশেডিং ছিল এক হাজার ৩২ মেগাওয়াট।
টাঙ্গাইলের গোপালপুর, মধুপুর, ধনবাড়ী, ভূঞাপুর ও ঘাটাইলের পরিস্থিতি আরও নাজুক। ময়মনসিংহ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-১-এর আওতাধীন এসব এলাকায় পিক আওয়ারে চাহিদা ২৬ মেগাওয়াট হলেও সরবরাহ করা হচ্ছে মাত্র ৬ মেগাওয়াট।
- বিষয় :
- লোডশেডিং