এলপিজির কৃত্রিম সংকট, বাড়তি দাম খতিয়ে দেখার নির্দেশ
সমকাল প্রতিবেদক
প্রকাশ: ০১ অক্টোবর ২০২৬ | ১১:৫১ | আপডেট: ০১ অক্টোবর ২০২৬ | ১১:৫৪
| প্রিন্ট সংস্করণ
সরকার নির্ধারিত দামের চেয়ে ৪০০ থেকে ৬০০ টাকা বেশি দামে ১২ কেজির এলপিজি সিলিন্ডার বিক্রির অভিযোগ উঠেছে। এ অবস্থায় কৃত্রিম সংকট তৈরি করে কেউ বাড়তি দাম নিচ্ছে কিনা, তা খতিয়ে দেখতে জেলা প্রশাসকদের নির্দেশ দিয়েছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ। গতকাল বুধবার সচিবালয়ে জেলা প্রশাসকদের সঙ্গে অনলাইন বৈঠকে তিনি এ নির্দেশ দেন।
বৈঠকে জ্বালানিমন্ত্রী বলেন, দেশে এলপিজির সরবরাহে কোনো ঘাটতি নেই। এর পরও বিভিন্ন এলাকায় সংকটের কথা শোনা যাচ্ছে। কোথাও সরবরাহ স্বাভাবিক থাকার পরও কেন সংকট তৈরি হচ্ছে এবং কেন ভোক্তাদের বাড়তি দাম দিতে হচ্ছে, তা মাঠ পর্যায়ে খতিয়ে দেখতে হবে।
জেলা প্রশাসকদের এ বিষয়ে তথ্যপ্রমাণ সংগ্রহ করে প্রতিবেদন পাঠাতে বলা হয়েছে। কোন এলাকায় সরবরাহ কম, কোথায় নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি নেওয়া হচ্ছে এবং এর পেছনে কৃত্রিম সংকট তৈরির কোনো কারসাজি রয়েছে কিনা– এসব বিষয় প্রতিবেদনে উল্লেখ করতে হবে।
জেলা প্রশাসকদের কাছ থেকে তথ্য পাওয়ার পর আমদানিকারক ও সংশ্লিষ্ট অংশীজনের সঙ্গে বৈঠক করা হবে বলে জানান মন্ত্রী। কোনো এলাকায় সরবরাহ কম পাওয়া গেলে সেখানে সরবরাহ বাড়ানোর পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
সেপ্টেম্বরে ১২ কেজির এলপিজি সিলিন্ডারের দাম ১৩ টাকা কমিয়ে এক হাজার ৫৮৫ টাকা নির্ধারণ করে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)। কিন্তু বাজারের বিভিন্ন পর্যায়ে এর চেয়ে কয়েকশ টাকা বেশি নেওয়ার অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে। কোথাও কোথাও দাম দুই হাজার টাকা ছাড়িয়েছে।
মন্ত্রী সতর্ক করে বলেন, কৃত্রিম সংকট তৈরি করে এলপিজির দাম বাড়ানো হলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। একইভাবে বিইআরসি নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি দামে বিক্রি করা হলেও সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ফার্নেস অয়েলের দাম বাড়ল লিটারে ১১ টাকা ৯২ পয়সা
ফার্নেস অয়েলের দাম লিটারপ্রতি ১১ টাকা ৯২ পয়সা বাড়িয়েছে বিইআরসি। এতে প্রতি লিটারের দাম ৯৬ টাকা ৮৬ পয়সা থেকে বেড়ে ১০৮ টাকা ৭৮ পয়সা হয়েছে। নতুন দর গতকাল রাত ১২টার পর কার্যকর হয়।
গতকাল এ-সংক্রান্ত আদেশ জারি করে বিইআরসি। বিদ্যুৎ উৎপাদনে দেশে বছরে প্রায় ২০ লাখ টন ফার্নেস অয়েল ব্যবহৃত হয়। ফলে দাম বাড়ায় জ্বালানি তেলনির্ভর বিদ্যুৎ উৎপাদনের ব্যয় বাড়তে পারে।
দুই মাসে আসছে ১৯ কার্গো এলএনজি
অক্টোবর ও নভেম্বরে চাহিদা মেটাতে ১৯ কার্গো তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) আমদানি করছে সরকার। এর মধ্যে অক্টোবরে ১০ এবং নভেম্বরে ৯ কার্গো আসছে। পেট্রোবাংলা জানিয়েছে, নির্ধারিত সময়ে এসব কার্গো দেশে পৌঁছালে জাতীয় গ্যাস গ্রিডে সরবরাহ স্বাভাবিক থাকবে।
এসব এলএনজি যুক্তরাষ্ট্র, নাইজেরিয়া, অ্যাঙ্গোলা, অস্ট্রেলিয়াসহ বিভিন্ন দেশ থেকে কেনা হয়েছে। প্রতিটি কার্গোতে প্রায় ৩২ লাখ এমএমবিটিইউ এলএনজি থাকে। ফলে দুই মাসে মোট প্রায় ছয় কোটি ৮ লাখ এমএমবিটিইউ এলএনজি দেশে আসবে।
টার্মিনালে পৌঁছানোর পর এলএনজি পুনঃগ্যাসীকরণ করে জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা হবে। পেট্রোবাংলার পরিচালক (অর্থ) মিজানুর রহমান বলেন, আগামী কয়েক মাস এলএনজি সরবরাহে বড় ধরনের সমস্যা হবে না।
- বিষয় :
- এলপিজি
- কৃত্রিম সংকট