সারের পরিবহন দরপত্রে অংশ নেয়নি কেউ
ফাইল ছবি
সমকাল প্রতিবেদক
প্রকাশ: ০১ অক্টোবর ২০২৬ | ১২:০২
দেশের অভ্যন্তরে নন-ইউরিয়া সার পরিবহনের জন্য বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশনের (বিএডিসি) আহ্বান করা দুটি দরপত্রে কোনো ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান অংশ নেয়নি। গত মঙ্গলবার দরপত্র জমা দেওয়ার শেষ দিন ছিল। ঠিকাদারদের অভিযোগ, একটি প্রভাবশালী গ্রুপের হুমকি ও আতঙ্কের কারণে তারা দরপত্র জমা দিতে যাননি।
কেউ অংশ না নেওয়ায় বিএডিসিকে নতুন করে দরপত্র আহ্বানের প্রক্রিয়া শুরু করতে হয়েছে। এতে সময়মতো ঠিকাদার নিয়োগ করা না গেলে দেশে আসা সারের সরবরাহে জটিলতা তৈরি হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।
এরই মধ্যে আজ বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ করপোরেশনের (বিসিআইসি) ইউরিয়া সার পরিবহনের জন্য ঠিকাদার নিয়োগের দরপত্র জমা দেওয়ার কথা রয়েছে। বিএডিসির ঘটনায় ঠিকাদারদের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি হওয়ায় এই দরপত্রেও তারা অংশ নেবেন কিনা, তা নিয়ে সংশয় দেখা দিয়েছে।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, আগামী এক-দুই দিনের মধ্যে সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই) থেকে ৪০ হাজার টন সারের একটি চালান দেশের বন্দরে পৌঁছানোর কথা। সময়মতো পরিবহন ঠিকাদার নিয়োগ করা না গেলে সার বন্দরে পড়ে থাকতে পারে। এতে একদিকে কৃষক পর্যায়ে সার সরবরাহে দেরি হতে পারে, অন্যদিকে জাহাজ বন্দরে অবস্থান করায় বাড়তি জরিমানার ঝুঁকিও তৈরি হতে পারে।
বিএডিসি সূত্রে জানা গেছে, গত ১৬ সেপ্টেম্বর একাধিক দৈনিক পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি দিয়ে ৪০ হাজার টন এমওপি সার পরিবহনের দরপত্র আহ্বান করা হয়। একই দিনে আরও ৩৫ হাজার টন এমওপি সার পরিবহনের জন্য পৃথক দরপত্র আহ্বান করা হয়। দুটি দরপত্রের জমাদানের শেষ সময় ছিল ২৯ সেপ্টেম্বর দুপুর ১২টা। তবে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কোনো ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান দরপত্র জমা দেয়নি।
বিএডিসির একটি সূত্র জানিয়েছে, বাংলাদেশ ফার্টিলাইজার অ্যাসোসিয়েশনের (বিএফএ) সদস্যদের মধ্যে একটি প্রভাবশালী গ্রুপ এ নিয়ে আতঙ্ক তৈরি করে। সংগঠনটির সদস্য ও জাতীয়তাবাদী কৃষক দল ঢাকা মহানগর দক্ষিণের আহ্বায়ক মো. কামাল হোসেনের নেতৃত্বে একটি দল মঙ্গলবার বিএডিসির সার ব্যবস্থাপকের কার্যালয়ে গিয়ে হুমকি দেয় বলে অভিযোগ উঠেছে। তাদের সঙ্গে সমঝোতা ছাড়া কেউ যেন দরপত্র জমা না দেন, এমন বার্তা দেওয়া হয় বলে সূত্রের দাবি। এরপর বিএডিসির পক্ষ থেকে সম্ভাব্য দরদাতা কয়েকটি প্রতিষ্ঠানকে ফোন করে সতর্ক করা হয়। তাদের নিজস্ব নিরাপত্তাব্যবস্থা ছাড়া দরপত্র জমা দিতে না যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয় বলে জানা গেছে।
একাধিক ঠিকাদার সমকালকে বলেন, কৃষক দলের নেতাদের একটি গ্রুপের লোকজন বিএডিসির আশপাশে ও দপ্তরে অবস্থান করছিলেন। এ কারণে তারা আতঙ্কে দরপত্র জমা দিতে যাননি।
জাতীয়তাবাদী কৃষক দল ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সভাপতি কামাল হোসেন বলেন, ‘সময় ম্যানেজ করতে না পারায় আমরা নিজেরাই দরপত্রে অংশ নিতে পারিনি। কেউ কাউকে হুমকি দেয়নি।’
বিএডিসির সার ব্যবস্থাপকের কার্যালয়ে বুধবার আরেকটি লটের ৩০ হাজার টন সার পরিবহনের জন্য দরপত্র জমা নেওয়া হয়। পুলিশের উপস্থিতিতে বিএডিসির কর্মকর্তারা অপেক্ষা করলেও নির্ধারিত সময়ের মধ্যে মাত্র একটি দরপত্র জমা পড়ে। শেখ জসিম উদ্দিনের মালিকানাধীন আকিজ রিসোর্স নামের প্রতিষ্ঠানটি দরপত্র জমা দেয়।
বিএডিসির ঘটনায় বিসিআইসির দরপত্র নিয়েও শঙ্কা তৈরি হয়েছে। ইউরিয়া সার পরিবহনের জন্য ঠিকাদার নিয়োগে আজ দরপত্র জমা দেওয়ার কথা।
বিএডিসির সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, দুটি দরপত্রে কোনো প্রতিষ্ঠান অংশ না নেওয়ায় স্থানীয়ভাবে সার পরিবহনের জন্য পুনঃদরপত্র আহ্বানের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।