ঢাকা রোববার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬

আবুল কাসেম ফজলুল হকের চিন্তা ও অবদান স্মরণে আলোচনা সভা 

আবুল কাসেম ফজলুল হকের চিন্তা ও অবদান স্মরণে আলোচনা সভা 
×
×

আবুল কাসেম ফজলুল হক

সমকাল প্রতিবেদক

প্রকাশ: ০১ অক্টোবর ২০২৬ | ১৩:৫৫

| প্রিন্ট সংস্করণ

অধ্যাপক আবুল কাসেম ফজলুল হকের ৮৭তম জন্মদিন উপলক্ষে তাঁর জীবন, চিন্তা ও সমাজ-রাষ্ট্রভাবনা নিয়ে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল বুধবার বিকেলে বাংলা একাডেমির কবি শামসুর রাহমান সেমিনার হলে স্বজন ও শুভানুধ্যায়ীদের উদ্যোগে এ সভার আয়োজন করা হয়।

সভায় বক্তারা অধ্যাপক আবুল কাসেম ফজলুল হকের বৌদ্ধিক সাধনা, মানবতাবাদী দৃষ্টিভঙ্গি এবং সমাজ ও রাষ্ট্র নিয়ে তাঁর দীর্ঘদিনের চিন্তা ও অবদানের নানা দিক তুলে ধরেন। সভায় সভাপতিত্ব করেন বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক অধ্যাপক মোহাম্মদ আজম। আবুল কাসেম ফজলুল হকের সঙ্গে নিজের গভীর সম্পর্কের স্মৃতিচারণ করে তিনি বলেন, ‘স্যারের সঙ্গে আমার যে সম্পর্ক, তা ছিল খুব গভীর। তিনি আমার ওপর যে নির্ভর করতেন, তার অনেকাংশই আমি অলসতার কারণে করতে পারিনি।’ তিনি জানান, আবুল কাসেম ফজলুল হক তাঁর কক্ষে আসতেন এবং নিজের মতো করে কাজ করতে বলতেন। তবে প্রায় প্রতিবারই তিনি কোনো না কোনো প্রস্তাব দিতেন। তাঁর দেওয়া অসংখ্য প্রস্তাবের সামান্যই বাস্তবায়ন করতে পেরেছেন বলে উল্লেখ করেন অধ্যাপক মোহাম্মদ আজম। তিনি বলেন, তাঁর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ গুণগুলোর একটি ছিল– ব্যক্তিত্বসম্পন্ন মানুষ ও চিন্তক হিসেবে তাঁর অবস্থান। তিনি উদারনৈতিক ও মানবতাবাদী মানুষ হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছিলেন।

বাংলাদেশ জাগরণী শান্তি সংঘের সভাপতি মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, বাংলাদেশের হাজার বছরের বৌদ্ধিক ধারায় আবুল কাসেম ফজলুল হক একটি ঋজু অবস্থান তৈরি করেছিলেন। নিজেকে ‘চিন্তক’ হিসেবে পরিচয় দিতে তিনি স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করতেন। মানবজাতি ও বাঙালি জাতিকে ঘিরেই ছিল তাঁর চিন্তা ও সাধনার মূল কেন্দ্র। তিনি বলেন, আবুল কাসেম ফজলুল হক যে চিন্তার উত্তরাধিকার রেখে গেছেন, তাকে কেন্দ্র করে একটি প্রতিষ্ঠান বা কেন্দ্র গড়ে তোলা প্রয়োজন। 

আবুল কাসেম ফজলুল হকের পুত্রবধূ রাজিয়া রহমান স্মৃতিচারণ করে বলেন, গত বছর তাঁর জন্মদিনে তাঁকে নিয়ে আয়োজিত অনুষ্ঠানে তিনি খুবই উদ্বেলিত ছিলেন। এবার তাঁকে ছাড়া প্রথম জন্মদিন হওয়ায় দিনটি বিষণ্নতায় কেটেছে তাঁর। বাংলা একাডেমিতে আয়োজিত অনুষ্ঠানে তিনি নিজে উপস্থিত না থেকে শুধু ছবির মাধ্যমে উপস্থিত থাকবেন– এ বিষয়টি মেনে নেওয়া তাঁর জন্য কঠিন বলে জানান রাজিয়া রহমান। তিনি বলেন, আবুল কাসেম ফজলুল হকের জ্ঞান ও চিন্তার যে গভীরতা ছিল, তা যদি সবাই হৃদয়ঙ্গম করতে পারে, সেটিই হবে তাঁর প্রতি যথার্থ প্রাপ্তি। তিনি চাইতেন, বইয়ের শিক্ষার মধ্য দিয়ে শিশুরা নিজেদের জীবন গড়ে তুলুক। 

স্বদেশ চিন্তা সংঘের সাধারণ সম্পাদক কবি হাসান ফকরি বলেন, আবুল কাসেম ফজলুল হক বিরুদ্ধ মতকে কখনও অসম্মান করতেন না। মতের ভিন্নতা থাকলেও তিনি এ নিয়ে রাগ করতেন না, বরং বিরুদ্ধ মতকেও সম্মান করতেন। ড. হালিম দাদ খান বলেন, আবুল কাসেম ফজলুল হকের অনেক গুণের মধ্যে তাঁকে সবচেয়ে বেশি বিশেষায়িত করা যায় একজন অসাধারণ শিক্ষক হিসেবে। 

আলোচনা সভায় আবুল কাসেম ফজলুল হকের রচনাগুলো সংগ্রহ করে রচনাবলি আকারে প্রকাশের আহ্বান জানান বক্তারা। তাঁর চিন্তা, দর্শন ও কাজ নিয়ে আরও বিস্তৃতভাবে গবেষণা ও আলোচনা করার প্রয়োজনীয়তার কথাও উঠে আসে। বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক অধ্যাপক মোহাম্মদ আজম জানান, আবুল কাসেম ফজলুল হককে নিয়ে একটি স্মারকগ্রন্থ প্রকাশ করা হবে। পাশাপাশি তাঁর রচনাবলি, চিন্তা ও কর্ম নিয়ে আরও কাজ করা হবে।

অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন লেখক ও গবেষক সৈয়দ আবুল কালাম এবং বিজ্ঞানবিষয়ক লেখক সৈয়দ জিয়াউল হক। আবুল কাসেম ফজলুল হক তাঁর নিজের একটি জন্মদিনে লেখা একটি রচনা অনুষ্ঠানে পাঠ করে শোনান তাঁর কন্যা শুচিতা শারমিন।

আরও পড়ুন

×