পরিস্থিতি বুঝে স্থানীয় নির্বাচনের সময় নির্ধারণ করা হবে: ইসি সচিব
নির্বাচন কমিশনের (ইসি) জ্যেষ্ঠ সচিব আখতার আহমেদ। ছবি-সংগৃহীত
সমকাল প্রতিবেদক
প্রকাশ: ০১ অক্টোবর ২০২৬ | ১৮:৪২
স্থানীয় বাস্তবতা ও পরিস্থিতি বিবেচনা করে স্থানীয় সরকার নির্বাচনের সময় নির্ধারণ করা হবে বলে জানিয়েছেন নির্বাচন কমিশনের (ইসি) জ্যেষ্ঠ সচিব আখতার আহমেদ। তিনি বলেছেন, এসএসসি পরীক্ষা, রোজা ও ধর্মীয় উৎসবসহ বিভিন্ন বিষয় বিবেচনায় নিয়ে ভোটের সময়সূচি নির্ধারণ করবে কমিশন।
বৃহস্পতিবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচির (ইউএনডিপি) প্রতিনিধিদলের সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের ইসি সচিব এসব কথা বলেন। স্থানীয় নির্বাচনের সামগ্রিক প্রস্তুতি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ভোটার তালিকা, নির্বাচনীসামগ্রী এবং ভোটকেন্দ্র প্রস্তুত রয়েছে। এখন মূল বিষয় হলো- স্থানীয় বাস্তবতা ও সময়ের বিষয়গুলো সমন্বয় করা। যাতে নির্বাচন আয়োজন সুষ্ঠুভাবে করা সম্ভব হয়। এগুলো নিয়ে আমরা একটা সুষ্ঠু সমাধানে আসব।
এর আগে ইউএনডিপি’র তিন সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিনের সঙ্গে বৈঠক করেন। এ সময় সংস্থাটির 'দ্য ব্যালট' প্রকল্পের আওতায় বিভিন্ন সক্ষমতা উন্নয়নমূলক উদ্যোগ নিয়ে আলোচনা হয়। অন্য নির্বাচন কমিশনররা ও ইসি সচিব আখতার আহমেদ বৈঠকে যোগ দেন।
স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী শাহে আলম ‘জানুয়ারি থেকে জুনের মধ্যে’ স্থানীয় সরকার নির্বাচন আয়োজনের কথা বলেছেন। এ বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে আখতার আহমেদ বলেন, এখন পর্যন্ত কমিশন এ ব্যাপারে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়নি। ১৭ সেপ্টেম্বরের আন্তঃমন্ত্রণালয় বৈঠকে স্থানীয় নির্বাচনের বিভিন্ন বিষয় ও সময়সূচি নিয়ে আলোচনা হয়েছে। আমাদের সহকর্মীরাও বিভিন্ন প্রস্তাবনা দিয়েছেন। সব প্রস্তাবনার ওপর ভিত্তি করে আমরা একটা কনক্লুসিভ সিদ্ধান্তে যেতেই পারি।
তিনি বলেন, ‘মন্ত্রী মহোদয় জানুয়ারি থেকে জুনের কথা বলেছেন। ভালো একটা রেফারেন্স তো পাওয়া গেলই। সেভাবে আমরা হয়তো বাকি কাজগুলো এগিয়ে নিয়ে যাবো। আর তাঁর এই বক্তব্য আপনাদের রেফারেন্সেই আমি কমিশনে জানাবো।’
স্থানীয় সরকার নির্বাচনে সেনা মোতায়েনের সম্ভাবনা নিয়ে ইসি সচিব বলেন, সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য সেনা মোতায়েন ভবিষ্যতের বিষয়। যেকোনো নির্বাচনব্যবস্থাপনায় সুস্থতা ও সুষ্ঠুতা সবাই চায়। এটা যেকোনো প্রেক্ষাপটে সবাই চাইবেই। প্রয়োজন অনুযায়ী যেসব ব্যবস্থা নেওয়া দরকার, অবিলম্বে সেগুলোই নেওয়া হবে।
তিনি বলেন, আমরা ১২ ফেব্রুয়ারি একটা ভালো সংসদ নির্বাচন করেছি। এটাই আমাদের প্রত্যাশা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাহলে আমরা কী প্রত্যাশার জায়গাটা ওখান থেকে আরও উপরে নেবো, নাকি নিচে যাব? আমরা অবশ্যই উপরে নেবো।
ইউএনডিপির প্রতিনিধিদলের সঙ্গে বৈঠক প্রসঙ্গে আখতার আহমেদ জানান, নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় অপতথ্য, গুজব ও বিদ্বেষমূলক বক্তব্য মোকাবিলার উপায় নিয়ে বৈঠকে কথা হয়েছে। পাশাপাশি সাংবাদিক, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এবং ইসি সচিবালয়ের কেন্দ্রীয় ও মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের প্রশিক্ষণের প্রস্তাব দিয়েছে সংস্থাটি। প্রশিক্ষণের বিষয়বস্তু ও অংশগ্রহণকারীদের তালিকা চূড়ান্ত করার আগে ইউএনডিপি কমিশনের সঙ্গে আরও আলোচনা করবে।
তিনি বলেন, ব্যালট প্রকল্পের চলমান সক্ষমতা ও উন্নয়ন কার্যক্রমের ওপরও আলোচনা হয়েছে। এর সঙ্গে কোনো নির্দিষ্ট নির্বাচনের সম্পর্ক নেই। ইউএনডিপি তাদের পরিকল্পনার প্রাথমিক রূপরেখা তুলে ধরে কমিশনের মতামতও জানতে চেয়েছে। যাতে তারা বুঝতে পারে- কমিশন এই পরিকল্পনার সঙ্গে একমত কি না।
- বিষয় :
- নির্বাচন কমিশন
- সচিব