ঢাকা রোববার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬

‘গান অবিরাম’

লোকসুরে প্রাণবন্ত ছায়ানট

লোকসুরে প্রাণবন্ত ছায়ানট
×
×

ছবি: দ্রোহী তারা

সমকাল প্রতিবেদক

প্রকাশ: ০২ অক্টোবর ২০২৬ | ১৫:২৭

বাংলার মাটি, মানুষ, নদী ও প্রকৃতির সঙ্গে মিশে থাকা লোকজ জীবনবোধের নানা অনুষঙ্গ নিয়ে ছায়ানট সংস্কৃতি ভবনে অনুষ্ঠিত হলো লোকসংগীতের আসর ‘গান অবিরাম’। শুক্রবার বেলা সাড়ে ১১টায় ছায়ানট সংস্কৃতি ভবনের নিচতলা ও দোতলায় আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে অংশ নেন পাঁচ শতাধিক সংগঠক, শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও প্রাক্তনী।

লোকসংগীতের চিরবহমান সুরধারাকে কেন্দ্র করে সাজানো এ আয়োজনে উঠে আসে বাংলার প্রকৃতি, নদী, মাটি ও মানুষের জীবনযাপন। পাশাপাশি প্রেম-বিরহ, আধ্যাত্মিকতা ও মানুষের অন্তর্গত অনুভূতির নানা প্রকাশও ফুটে ওঠে গানের মধ্য দিয়ে। পরিচিত সব লোকগানের সুরে এদিন প্রাণ ফিরে পায় ছায়ানট সংস্কৃতি ভবনের পরিবেশ।

আয়োজনের শুরু থেকে পরিবেশিত হয় একের পর এক লোকজ ঐতিহ্যের সঙ্গে নিবিড়ভাবে যুক্ত গান। এর মধ্যে ছিল—‘আমার দেশের মতন এমন দেশ কি কোথাও আছে’, ‘ধন্য ধন্য বলি তারে’, ‘নিশা লাগিল রে’ ও ‘মিলন হবে কত দিনে’। গানের ধারাবাহিকতায় পরিবেশিত হয় ‘পরের জায়গা পরের জমিন’ এবং ‘প্রাণসখী রে, ওই শোন কদম্বতলে বংশী বাজায় কে’।

বাংলার লোকজ জীবনে নদী ও প্রকৃতির যে গভীর প্রভাব, তারও প্রতিফলন ঘটে আয়োজনের বিভিন্ন পরিবেশনায়। ‘কলকল ছলছল নদী করে টলমল’, ‘গান গাই আমার মনরে বুঝাই’ এবং ‘বাউলা কে বানাইল রে’ গানের মধ্য দিয়ে প্রকাশ পায় লোকসংস্কৃতির বৈচিত্র্য ও মানুষের মনের নানা অনুভব। অনুষ্ঠানের শেষ ভাগে পরিবেশিত হয় ‘নোঙর ছাড়িয়া নায়ের দে রে দে মাঝি ভাই’। এ গানের মধ্য দিয়ে শেষ হয় লোকসুরের এ দীর্ঘ পরিবেশনা।

গানের পর গানে বাংলার চিরায়ত লোকজ ঐতিহ্য, প্রকৃতি ও জীবনঘনিষ্ঠ অনুভূতির নানা রূপ তুলে ধরে প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে ‘গান অবিরাম’। সংগঠক, শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও ছায়ানটের প্রাক্তনদের সম্মিলিত অংশগ্রহণে আয়োজিত এ অনুষ্ঠান লোকসংগীতের চর্চা ও ঐতিহ্যকে ধারণ করার পাশাপাশি তৈরি করে এক সুরময় সাংস্কৃতিক আবহ। 

আরও পড়ুন

×