৭২ ঘণ্টার মধ্যে ফার্মাসিস্টদের দশম গ্রেডের ফাইল ছাড়ার আহ্বান
মহাখালীতে ইনস্টিটিউট অব হেলথ টেকনোলজিতে বিশ্ব ফার্মাসিস্ট দিবস উপলক্ষে অনুষ্ঠান
সমকাল প্রতিবেদক
প্রকাশ: ০২ অক্টোবর ২০২৬ | ১৫:৪২
আগামী ৭২ ঘণ্টার মধ্যে ফার্মাসিস্টদের দশম গ্রেডের ফাইল স্বাস্থ্য অধিদপ্তরকে ছাড়ার আহ্বান জানিয়েছেন বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য ও জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ডা. ফরহাদ হালিম ডোনার। ফার্মাসিস্টদের দশম গ্রেড বাস্তবায়নের দাবি ১৭ বছরের। নানা সময়ে এ নিয়ে উদ্যোগ নেওয়া হলেও এখনও তা বাস্তবায়িত হয়নি। এ বিষয়ে তিনি বলেন, ফার্মাসিস্টদের দশম গ্রেডের উদ্যোগ বিএনপি সরকারের নেওয়া। এত দিনেও তা বাস্তবায়ন না হওয়া দুঃখজনক।
শুক্রবার সকালে রাজধানীর মহাখালীতে ইনস্টিটিউট অব হেলথ টেকনোলজিতে (আইএইচটি) বিশ্ব ফার্মাসিস্ট দিবস উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। বিশ্ব ফার্মাসিস্ট দিবস উদযাপন পরিষদের আহ্বায়ক নাছির উদ্দিন রতনের সভাপতিত্বে এবং মহাসচিব সিকদার মো. জসিম উদ্দিনের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (প্রশাসন) ও ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ড্যাব) সহসভাপতি অধ্যাপক ডা. জালাল উদ্দিন মোহাম্মদ রুমী এবং ড্যাবের কোষাধ্যক্ষ ডা. মো. মেহেদী হাসান। অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ মেডিকেল টেকনোলজিস্ট অ্যাসোসিয়েশনের (বিএমটিএ) সভাপতি খাজা মাইন উদ্দিন মঞ্জু, মহাসচিব মো. বিপ্লবুজ্জামান বিপ্লব এবং মেডিকেল টেকনোলজিস্ট অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (এম-ট্যাব) সভাপতি এ কে এম মুসা লিটন উপস্থিত ছিলেন।
ফরহাদ হালিম ডোনার বলেন, উপজেলা হাসপাতালগুলো ১০১ শয্যায় উন্নীত করা হচ্ছে। সেখানে কতজন ফার্মাসিস্ট থাকবেন, সেটি ফার্মাসিস্টদেরই কাঠামো তৈরি করে নির্ধারণ করতে হবে। কত শয্যার হাসপাতালে কতজন ফার্মাসিস্ট প্রয়োজন, তা নির্ধারণ করে দিতে হবে।
তিনি বলেন, ‘অধিদপ্তর চেষ্টা করলে ৭২ ঘণ্টার মধ্যে এটার সমাধান হবে। অধিদপ্তর মন্ত্রণালয়ে পাঠালে এক মাসের মধ্যে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসবে।’
অধ্যাপক ডা. জালাল উদ্দিন মোহাম্মদ রুমী বলেন, দেশে ও বিদেশে স্বাস্থ্য খাতে ফার্মাসিস্টরা অন্যান্য পেশাজীবীর মতোই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। বিশেষ করে কোভিড-১৯ মহামারির সময় তাদের অবদান ছিল উল্লেখযোগ্য। ৫ আগস্টের পর বন্যাকবলিত এলাকায় চিকিৎসাসেবা দিতেও ফার্মাসিস্টরা পাশে ছিলেন।
তিনি বলেন, ফার্মাসিস্টদের আরও দক্ষ হতে হবে। গত ২৫ বছরে বিশ্ব অনেক এগিয়েছে। প্রযুক্তির জ্ঞান কাজে লাগিয়ে ফার্মাসিস্টদের নিজেদের আরও প্রস্তুত করতে হবে। ফার্মাসিস্টদের দশম গ্রেডের দাবি দ্রুত বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হবে। যার যা প্রাপ্য, তা পূরণ করার শতভাগ ইচ্ছা রয়েছে। তবে এজন্য কিছুটা সময় দিতে হবে এবং সরকারকে সহযোগিতা করতে হবে।
ড্যাবের কোষাধ্যক্ষ ডা. মো. মেহেদী হাসান বলেন, সরকার উপজেলা হাসপাতালগুলোকে ১০১ ও ১৫০ শয্যায় উন্নীত করার ঘোষণা দিয়েছে। সেখানে আনুপাতিক হারে ফার্মাসিস্ট নিয়োগ দিতে হবে। বাংলাদেশকে ঢেলে সাজাতে সরকারের অঙ্গসংগঠন ও রাজনৈতিক নেতাদেরও সমানভাবে কাজ করতে হবে।
অনুষ্ঠানের সভাপতি নাছির উদ্দিন বলেন, অধিদপ্তর দাবি পূরণের আশ্বাস দিয়েছে। এতে তারা আশ্বস্ত হতে চান। ফার্মাসিস্টদের আরও দক্ষ হয়ে উঠতে হবে। তৃণমূল পর্যায়ে ওষুধ সংরক্ষণ ব্যবস্থা এখনো দুর্বল। এ বিষয়ে সরকারের নজর দেওয়া প্রয়োজন।
অনুষ্ঠানে অন্যান্য বক্তারা বলেন, অন্যান্য পদের কর্মীদের উচ্চশিক্ষার সুযোগ থাকলেও ফার্মাসিস্টদের সে সুযোগ নেই। দীর্ঘদিনের পদোন্নতি ব্যবস্থার পরিবর্তনের দাবিও পূরণ হয়নি। দীর্ঘদিন ধরে দশম গ্রেডের দাবি জানানো হলেও তা বাস্তবায়ন করা হয়নি। ‘যে পদে আমাদের জন্ম, সে পদেই মৃত্যু’—এমন পরিস্থিতির অবসান চান তারা।
ফার্মাসিস্টরা বলেন, নার্সদের দশম গ্রেড দেওয়া হয়েছে। অথচ একই পদে যোগদান করেও ফার্মাসিস্টরা বঞ্চিত রয়েছেন। দীর্ঘদিন ধরে তাদের ফাইল এক টেবিল থেকে আরেক টেবিলে ঘুরছে, কিন্তু কোনো সমাধান হচ্ছে না। উপজেলা পর্যায়ে আগে দুটি পদ থাকলেও এখন একটি করা হচ্ছে। নতুন পদ সৃষ্টি না করে উল্টো পদ বিলুপ্ত করা হচ্ছে। তারা অবিলম্বে ফার্মাসিস্টদের দশম গ্রেড বাস্তবায়নের দাবি জানান।
- বিষয় :
- ফার্মাসিস্ট
- দশম গ্রেড
- স্বাস্থ্য অধিদপ্তর