ঢাকা রোববার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬

নয়নজুলি ইজ্জত আলী খান-সুফিয়া বেগম সাহিত্য পদক পেলেন দুই লেখক

নয়নজুলি ইজ্জত আলী খান-সুফিয়া বেগম সাহিত্য পদক পেলেন দুই লেখক
×
×

সমকাল প্রতিবেদক

প্রকাশ: ০৩ অক্টোবর ২০২৬ | ২২:৪৭

স্থানীয় ইতিহাসচর্চা ও সমাজসেবামূলক কাজের স্বীকৃতি হিসেবে ‘নয়নজুলি ইজ্জত আলী খান-সুফিয়া বেগম সাহিত্য পদক ২০২৬’ পেয়েছেন লেখক ও গবেষক আলী আহাম্মদ খান আইয়োব এবং সমাজসেবক ও লেখক মফিজ ইমাম মিলন। শনিবার বিকেলে রাজধানীর বাংলামটরে বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রে আয়োজিত অনুষ্ঠানে তাদের হাতে ক্রেস্ট, চেক ও সম্মাননাপত্র তুলে দেওয়া হয়।

অনুষ্ঠানে গেস্ট অব অনার ছিলেন প্রকৌশলী শাহজাহান গাজী। সভাপতিত্ব করেন কথাসাহিত্যিক, লেখক ও গবেষক আন্দালিব রাশদী। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন ডা. ফাহমিদা মাহবুব খান তন্বী।

অনুষ্ঠানের শুরুতে শিল্পী এলাহী মাসুদ লোকসংগীত পরিবেশন করেন। স্বাগত বক্তব্যে ড. মোহাম্মদ আলী খান সাহিত্য পদকের পরিচিতি এবং ইজ্জত আলী খান ও সুফিয়া বেগমের জীবন ও কর্মের কথা তুলে ধরেন। পরে ডা. ফাহমিদা মাহবুব খান তন্বী সুফিয়া বেগমকে নিয়ে তাঁর রচিত ‘আম্মা’ কবিতা আবৃত্তি করেন। পদকপ্রাপ্ত দুই ব্যক্তির সাহিত্যকর্ম ও জীবন নিয়ে নির্মিত দুটি ভিডিওচিত্রও প্রদর্শন করা হয়।

সম্মাননা গ্রহণ করে আলী আহাম্মদ খান আইয়োব বলেন, স্থানীয় ইতিহাস বৃহত্তর ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি। স্থানীয় ইতিহাসের সমন্বয়েই জাতীয় ও আঞ্চলিক ইতিহাসের নানা দিক গড়ে ওঠে।

নেত্রকোনার ইতিহাস ও সংস্কৃতির বৈচিত্র্য তুলে ধরতে তিনি দীর্ঘদিন ধরে কাজ করছেন বলে জানান। স্থানীয় ইতিহাসের পাশাপাশি নেত্রকোনার ভাষা, লোকসংস্কৃতি, ময়মনসিংহ গীতিকা এবং এ অঞ্চলের বিশিষ্ট ব্যক্তিদের অবদান নিয়েও কাজ করার কথা বলেন তিনি।

নিজের বইয়ের একাধিক সংস্করণ প্রকাশের প্রসঙ্গ তুলে ধরে আলী আহাম্মদ খান আইয়োব বলেন, গ্রামের মানুষ হিসেবে তাঁর লেখা বই নয়টি মুদ্রণ হবে, তা তিনি কখনো কল্পনা করেননি। পদকটি যাঁদের নামে প্রবর্তিত হয়েছে, সেই ইজ্জত আলী খান ও সুফিয়া বেগমের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে আয়োজকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন তিনি।

মফিজ ইমাম মিলন তার বক্তব্যে জীবনের শুরুর একটি কঠিন অভিজ্ঞতার কথা স্মরণ করেন। স্বাধীনতার পরের সময়ের ওই ঘটনা তাকে ভালো কাজ করার সংকল্পে উদ্বুদ্ধ করেছিল বলে জানান তিনি। পরে সমাজসেবামূলক বিভিন্ন কাজে যুক্ত হওয়ার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, নির্দিষ্ট কোনো লক্ষ্য নিয়ে নয়, সামনে যে ভালো কাজ এসেছে, সেটিই করার চেষ্টা করেছেন।

সমাজসেবামূলক কাজে অনুপ্রেরণা ও সহযোগিতা দেওয়া কয়েকজনের কথাও স্মরণ করেন মফিজ ইমাম মিলন। ফরিদপুরে প্রবীণ নিবাসের উদ্যোগ এবং ফরিদপুর ফাউন্ডেশনের মাধ্যমে বৃত্তি ও সহায়তা কার্যক্রমের কথাও তুলে ধরেন তিনি। ভালো মানুষের সংস্পর্শ সমাজে ইতিবাচক কাজের পথ তৈরি করে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

অনুষ্ঠানে মরহুমা সুফিয়া বেগমের ভাইঝি বেগম ফোয়ারা হোসেন অভী স্মৃতিচারণ করেন। তিনি বলেন, অল্প বয়সে বিধবা হওয়ার পরও সুফিয়া বেগম তাঁর তিন সন্তানকে যোগ্য করে গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিলেন। পরিবারের সঙ্গে তার সম্পর্ক এবং অতিথি আপ্যায়নের বিভিন্ন স্মৃতিও তুলে ধরেন তিনি।

গেস্ট অব অনার প্রকৌশলী শাহজাহান গাজী নিজেকে সাধারণ পাঠক হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, অনুষ্ঠানে এসে গুণীজনদের সান্নিধ্য পাওয়াটা তার জন্য সম্মানের বিষয়। এ আয়োজনের জন্য তিনি আয়োজকদের ধন্যবাদ জানান।

সভাপতির বক্তব্যে আন্দালিব রাশদী আলী আহাম্মদ খান আইয়োবের ‘নেত্রকোণার ইতিহাস’ গ্রন্থের প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, বাংলাদেশের বিভিন্ন জেলা ও অঞ্চলের ইতিহাসের বই পড়ার অভিজ্ঞতা থেকে তার মনে হয়েছে, বইটি আঞ্চলিক ইতিহাসচর্চায় গুরুত্বপূর্ণ সংযোজন। ভবিষ্যতে নেত্রকোনার বিভিন্ন বিষয় নিয়ে গবেষণার ক্ষেত্রেও গ্রন্থটি গুরুত্বপূর্ণ সূত্র হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।

মফিজ ইমাম মিলনের দীর্ঘদিনের সমাজসেবামূলক কর্মকাণ্ডের কথাও তুলে ধরেন আন্দালিব রাশদী। ব্যক্তিগত উদ্যোগে মানুষের কল্যাণে কাজ করার পাশাপাশি তার দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতা ও সম্পর্ক নিয়ে স্মৃতিকথা লেখার আগ্রহও প্রকাশ করেন তিনি।

ইজ্জত আলী খান ও সুফিয়া বেগমের স্মৃতিচারণ করে আন্দালিব রাশদী বলেন, বাবা-মা বা প্রয়াত প্রিয়জনকে শুধু বিশেষ কোনো দিনে নয়, নিয়মিত স্মরণ করা উচিত। তাঁদের স্মৃতি ও অবদান ধারণ করার মধ্য দিয়েই তাঁদের প্রতি প্রকৃত সম্মান জানানো সম্ভব। একই সঙ্গে নয়নজুলি ইজ্জত আলী খান-সুফিয়া বেগম সাহিত্য পদকের কার্যক্রম অব্যাহত রাখার প্রত্যাশা জানান তিনি।

আরও পড়ুন

×