ঢাকা মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২৬

বাড়তি দামেও মিলছে না এলপিজি ১২ আমদানিকারকের তথ্য তলব

বাড়তি দামেও মিলছে না এলপিজি ১২ আমদানিকারকের তথ্য তলব
×
×

 হাসনাইন ইমতিয়াজ

প্রকাশ: ০৪ অক্টোবর ২০২৬ | ০৮:১৫

| প্রিন্ট সংস্করণ

বাড়তি দামেও মিলছে না তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস (এলপিজি)। দেশের বিভিন্ন এলাকায় ১২ কেজির সিলিন্ডার সরকার নির্ধারিত এক হাজার ৫৮৫ টাকার বদলে দুই হাজার ২০০ থেকে দুই হাজার ৫০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। কোথাও কোথাও বেশি দাম দিয়েও গ্যাস পাওয়া যাচ্ছে না। এমন পরিস্থিতিতে আমদানিকারকরা সরবরাহ কমিয়ে কৃত্রিম সংকট তৈরি করেছেন কিনা, তা খতিয়ে দেখতে সেপ্টেম্বর মাসের আমদানি ও বিক্রির হিসাব চেয়েছে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)।

গতকাল শনিবার ছুটির দিনেই ১২ আমদানিকারককে চিঠি দিয়ে আগামীকালের (আজ রোববার) মধ্যে সেপ্টেম্বর মাসের আমদানি ও বিক্রির তথ্য জমা দিতে বলা হয়েছে। চিঠিতে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) কাছ থেকে পাওয়া আমদানির তথ্যও উল্লেখ করা হয়েছে। ইস্ট কোস্ট গ্রুপ, বিএম এলপিজি, পেট্রোম্যাক্স, যমুনা স্পেসটেক জেভিসহ কয়েকটি প্রতিষ্ঠানকে চিঠি দেওয়া হয়েছে বলে সূত্র জানিয়েছে।

বিইআরসির চেয়ারম্যান জালাল আহমেদ বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, রোববারের মধ্যে তথ্য জমা দিতে বলা হয়েছে। তথ্য পাওয়ার পর পরিস্থিতি বুঝে পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
সেপ্টেম্বরের তৃতীয় সপ্তাহ থেকে এলপিজির সংকট শুরু হয়। এলপিজি ব্যবসায়ী সমবায় সমিতির অভিযোগ, গত ২০ সেপ্টেম্বর থেকে আমদানিকারকরা সরবরাহ প্রায় ৮০ শতাংশ কমিয়ে দিয়েছেন। ২৫ সেপ্টেম্বরের পর কয়েকটি ডিপো থেকে সরবরাহ পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়। ফলে ডিপোর সামনে শত শত ট্রাক পণ্য নেওয়ার অপেক্ষায় রয়েছে বলে দাবি সংগঠনটির।

তবে আমদানিকারকরা সরবরাহ বন্ধ বা কমিয়ে দেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। গতকাল শনিবার সচিবালয়ে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদের সঙ্গে বৈঠকে তারা দাবি করেন, বিইআরসির নির্ধারিত দামেই ডিস্ট্রিবিউটরদের কাছে এলপিজি সরবরাহ করা হচ্ছে। আমদানিকারক পর্যায়ে কোনো কৃত্রিম সংকট তৈরি করা হয়নি। কারসাজি হয়ে থাকলে ডিস্ট্রিবিউটর ও খুচরা বিক্রেতা পর্যায়ে হতে পারে বলে তারা জানান।

বৈঠকে বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদিরও উপস্থিত ছিলেন। আমদানিকারকদের পক্ষে মেঘনা গ্রুপ অব ইন্ডাস্ট্রিজের চেয়ারম্যান মোস্তফা কামাল, ইস্ট কোস্ট গ্রুপের চেয়ারম্যান আজম জে চৌধুরীসহ কয়েকজন অংশ নেন। বৈঠকে অংশ নেওয়া এক ব্যবসায়ী সমকালকে বলেন, আন্তর্জাতিক বাজারে এলপিজির দাম ও জাহাজ ভাড়া বেড়েছে। এর পরও নির্ধারিত দামে ডিস্ট্রিবিউটরদের কাছে গ্যাস দিতে গিয়ে আমদানিকারকদের লোকসান হচ্ছে। বৈশ্বিক পরিস্থিতিতে কয়েকটি আন্তর্জাতিক সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান ‘ফোর্স মেজর’ ঘোষণার প্রস্তুতি নিচ্ছে বলেও বৈঠকে জানানো হয়।

অন্যদিকে এলপিজি ব্যবসায়ী সমবায় সমিতি ২১ সেপ্টেম্বর বিইআরসি চেয়ারম্যানের কাছে দেওয়া লিখিত অভিযোগে জানায়, ডিস্ট্রিবিউটরদের জন্য কমিশন নির্ধারিত ১২ কেজির সিলিন্ডারের দাম এক হাজার ৪৭৫ টাকা হলেও তাদের এক হাজার ৫৫০ থেকে এক হাজার ৭২০ টাকায় কিনতে হচ্ছে। এতে বিইআরসি নির্ধারিত এক হাজার ৫৮৫ টাকায় খুচরা পর্যায়ে বিক্রি করা সম্ভব হচ্ছে না।
সংগঠনটির সভাপতি মো. সেলিম খান ওই চিঠিতে পরিস্থিতি বিবেচনায় জরুরি পদক্ষেপ নেওয়ার অনুরোধ জানান।

জ্বালানি বিভাগের একটি সূত্র জানিয়েছে, একটি গোয়েন্দা সংস্থার প্রতিবেদনে কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের কাছে এলপিজি মজুতের তথ্য পাওয়া গেছে। সরকার বিষয়টি খতিয়ে দেখছে। তবে কোন প্রতিষ্ঠান কী পরিমাণ গ্যাস মজুত করেছে, সে বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানানো হয়নি।

এনবিআরের তথ্য অনুযায়ী, সেপ্টেম্বরে সবচেয়ে বেশি এলপিজি আমদানি করেছে ইউনাইটেড গ্রুপ, প্রায় ৩৫ হাজার টন। এর পর যমুনা এলপিজি ৩০ হাজার টন, বিএম এলপিজি ২১ হাজার ৮০০, ওমেরা ১৮ হাজার, ফ্রেশ এলপিজি ১৩ হাজার ৫০০ এবং পেট্রোম্যাক্স ১৩ হাজার টন আমদানি করেছে।
২৮ সেপ্টেম্বর এলপিজি অপারেটরদের সঙ্গে বৈঠকেও আমদানিকারকরা দেশে এলপিজির সংকট নেই বলে দাবি করেছিলেন। তাদের বক্তব্য ছিল, চাহিদার তুলনায় পর্যাপ্ত এলপিজি আমদানি হয়েছে। এর পরও বাজারে সরবরাহ সংকট ও বাড়তি দামের অভিযোগ অব্যাহত রয়েছে। ৩০ সেপ্টেম্বর জেলা প্রশাসকদের এলপিজির কৃত্রিম সংকট তৈরি করে বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে কিনা, তা খতিয়ে দেখার নির্দেশ দেন জ্বালানিমন্ত্রী। 

১৬ জেলায় ৪ লাখ ২৬ হাজার টাকা জরিমানা
সরকার নির্ধারিত মূল্যে গ্যাস সিলিন্ডার বিক্রি নিশ্চিত করতে দেশব্যাপী বিশেষ তদারকি কার্যক্রম পরিচালনা করেছে জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর। ঢাকা মহানগরসহ দেশের ১৬ জেলায় পরিচালিত এ অভিযানে বিভিন্ন অনিয়মের কারণে ৩৯টি প্রতিষ্ঠানকে মোট ৪ লাখ ২৬ হাজার ৫০০ টাকা জরিমানা করা হয়েছে।
গতকাল শনিবার অধিদপ্তরের ২৩টি টিম একযোগে ডিলার, পাইকারি ও খুচরা পর্যায়ের গ্যাস সিলিন্ডার বিক্রয়কারী প্রতিষ্ঠানগুলোয় অভিযান চালায়। বাণিজ্য মন্ত্রণালয় থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।  গ্যাস সিলিন্ডার বিক্রিতে কোনো অনিয়ম দেখা গেলে জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের হটলাইন ১৬১২১-এ অভিযোগ জানাতে পারবেন ভোক্তারা। 

আরও পড়ুন

×