ঢাকা রোববার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬

প্রথম প্রয়াণবার্ষিকীর স্মরণসভায় অতিথিরা

আহমদ রফিকের বহুমুখী কর্ম ও আদর্শ নতুন প্রজন্মের প্রেরণা

ভাষা আন্দোলন ও রবীন্দ্রচর্চায় ছিল তাঁর ঐতিহাসিক ভূমিকা

আহমদ রফিকের বহুমুখী কর্ম ও আদর্শ নতুন প্রজন্মের প্রেরণা
×
×

ভাষাসংগ্রামী আহমদ রফিকের প্রথম প্রয়াণবার্ষিকী উপলক্ষে গতকাল শনিবার সন্ধ্যায় বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রে আয়োজিত স্মরণসভায় বক্তারা সমকাল

সমকাল প্রতিবেদক 

প্রকাশ: ০৪ অক্টোবর ২০২৬ | ০৮:৫১ | আপডেট: ০৪ অক্টোবর ২০২৬ | ০৮:৫২

| প্রিন্ট সংস্করণ

ভাষা আন্দোলন, সাহিত্য-সংস্কৃতি এবং রবীন্দ্রচর্চায় আহমদ রফিকের অবদান অনন্য ও বহুমুখী। রাজনৈতিক জীবনের প্রতিকূলতা ও নানা সংকট সত্ত্বেও তিনি আমৃত্যু নিজের আদর্শে অবিচল ছিলেন। প্রচারবিমুখ থেকে লেখালেখিকে জীবনের ব্রত হিসেবে বেছে নেন। তরুণ প্রজন্মের প্রতি তাঁর ছিল বিশেষ টান এবং তাঁর বহুমুখী কর্ম ও চিন্তা আজও আমাদের প্রেরণা জোগায়। 

ভাষাসংগ্রামী আহমদ রফিকের প্রথম প্রয়াণবার্ষিকী উপলক্ষে গতকাল শনিবার সন্ধ্যায় বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রে আয়োজিত স্মরণসভায় বক্তারা এসব কথা বলেন।

সভায় আহমদ রফিকের অবদান স্মরণ করে তাঁর নামে সংগ্রহশালা, স্মারক বক্তৃতা, অধ্যয়ন কোর্স ও গবেষণা বৃত্তি চালুর উদ্যোগ নেওয়ার কথা জানায় খামখেয়ালী সভা। ‘মহিমা তব উদ্ভাসিত’ প্রতিপাদ্যে সভাটি শুরু হয় সন্ধ্যা ৬টায়। 

খামখেয়ালী সভা ট্রাস্টের সভাপতি মাহমুদ হাশিম জানান, হাতিরপুলে সংগঠনের রবীন্দ্রসংগ্রহশালায় আহমদ রফিকের নামে একটি কর্নার স্থাপন করা হয়েছে। তাঁর জীবন ও কর্ম নিয়ে ‘আহমদ রফিক অধ্যয়নসভা’ নামে একটি কোর্সও চালু করা হবে। এতে বিভিন্ন ক্ষেত্রের গুণীজন পাঠ দেবেন। 

ঘোষিত কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে রবীন্দ্র গ্রন্থাগারে আহমদ রফিকের লেখা ও তাঁর ব্যবহৃত স্মৃতিচিহ্ন নিয়ে ‘আহমদ রফিক সংগ্রহ’ গড়ে তোলা, ‘আহমদ রফিক স্মারক বক্তৃতা’ আয়োজন, ‘ভাষাসংগ্রামী আহমদ রফিক অধ্যয়নসভা’ এবং রবীন্দ্রগবেষকদের জন্য ‘আহমদ রফিক গবেষণা বৃত্তি’ চালুর উদ্যোগ। ছয় মাসের অধ্যয়ন কোর্সটি আগামী নভেম্বরে শুরু করার পরিকল্পনা রয়েছে। এরই মধ্যে সদস্য আহ্বান করা হয়েছে। 

স্মরণসভায় আহমদ রফিকের রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক জীবন নিয়ে আলোচনা করেন গবেষক ও মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরের ট্রাস্টি মফিদুল হক। তিনি বলেন, চিকিৎসক হিসেবে পড়াশোনা করলেও রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের কারণে আহমদ রফিককে দীর্ঘদিন হুলিয়া মাথায় নিয়ে ফেরারি জীবন কাটাতে হয়েছে। ফলে ঠিকভাবে পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার সুযোগ হয়নি তাঁর। স্বাধীনতার আগে-পরে সাহিত্য ও সংস্কৃতির পরিসরে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন তিনি। 

মফিদুল হকের ভাষ্য, স্বাধীনতার পর আহমদ রফিক লেখালেখি ও সাহিত্যচর্চাকেই জীবনের মূল কাজ হিসেবে নিয়েছিলেন। বামপন্থি আন্দোলনের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা এবং কমিউনিস্ট পার্টির সঙ্গে যোগাযোগ থাকলেও দলের আনুষ্ঠানিকতার সংকীর্ণতা তাঁকে পীড়া দিত। কোনো নির্দিষ্ট দলের সঙ্গে নিজেকে আবদ্ধ না করেও নিজ আদর্শে শেষ পর্যন্ত স্থির ছিলেন তিনি। 
অধ্যাপক ভীষ্মদেব চৌধুরী বলেন, তরুণদের প্রতি আহমদ রফিকের ছিল বিশেষ টান। তরুণদের সঙ্গে চলতে এবং তাদের নিয়ে কাজ করতে তিনি পছন্দ করতেন। সম্ভাবনাময় অনেক তরুণের প্রতি উৎসাহের নিদর্শন হিসেবে নিজের বই উৎসর্গ করেছেন তিনি।

আহমদ রফিকের ভাষা আন্দোলনে সম্পৃক্ততার কথা তুলে ধরেন আহমদ রফিক ফাউন্ডেশনের সাধারণ সম্পাদক ইসমাইল সাদী। তিনি বলেন, ১৯৪৭ সালে হরগঙ্গা কলেজে পড়ার সময় ভাষা আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত হন আহমদ রফিক। পরে ঢাকা মেডিকেল কলেজে অধ্যয়নকালে ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনে সরাসরি অংশ নেন। ২৩ ফেব্রুয়ারি রাতে প্রথম শহীদ মিনারের নকশা ও নির্মাণ পরিকল্পনার কাজেও তাঁর সক্রিয় ভূমিকা ছিল। 
ইসমাইল সাদী বলেন, বাংলাদেশের ইতিহাসের অনেক গুরুত্বপূর্ণ ঘটনার সূচনাপর্বের সঙ্গে আহমদ রফিকের সম্পৃক্ততা ছিল। কিন্তু এসব অবদান নিয়ে তিনি কখনও আত্মপ্রচার করেননি। 
অনুষ্ঠানে আহমদ রফিক ও রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কবিতা আবৃত্তি করেন ভাস্বর বন্দ্যোপাধ্যায়। রবীন্দ্রসংগীত পরিবেশন করেন শিল্পী মঞ্জুয়ারা রশিদ।
স্মরণাঞ্জলি অনুষ্ঠানের সভাপতি চিত্রশিল্পী আবদুল মান্নান বলেন, আহমদ রফিকের স্মৃতি সংরক্ষণ এবং তাঁর কর্ম নিয়ে চর্চার বিষয়ে যে পরামর্শগুলো এসেছে, সেগুলো বাস্তবায়নে কাজ করবে খামখেয়ালী সভা। 
 

আরও পড়ুন

×