প্রদর্শনী
নদী-পাখির ছবিতে প্রকৃতি রক্ষার আহ্বান
বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘরের নলিনীকান্ত ভট্টশালী গ্যালারিতে নদী ও পাখির আলোকচিত্র ঘুরে দেখছেন অতিথিরা। গতকাল শনিবার তোলা সমকাল
সমকাল প্রতিবেদক
প্রকাশ: ০৪ অক্টোবর ২০২৬ | ০৮:৫৬ | আপডেট: ০৪ অক্টোবর ২০২৬ | ০৯:৩২
| প্রিন্ট সংস্করণ
কোথাও নদীর বুকে নৌকার চলাচল, কোথাও জীবিকার প্রয়োজনে পানিতে নেমে মানুষের ব্যস্ততা। কোনো ছবির ফ্রেমে বিস্তৃত জলরাশিতে রোদের ঝিলিক, আবার কোনোটায় জলাভূমির সবুজে বিচরণ করছে পাখি। ক্যামেরার লেন্সে বন্দি নদী, মানুষ ও পাখির এমন নানা মুহূর্তের মধ্য দিয়ে প্রকৃতির সৌন্দর্যের পাশাপাশি উঠে এসেছে জলাভূমি, জীববৈচিত্র্য ও প্রাণ-প্রকৃতি রক্ষার তাগিদ।
বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘরের নলিনীকান্ত ভট্টশালী গ্যালারিতে শুরু হয়েছে ‘নদী ও পাখি’ শীর্ষক আলোকচিত্র প্রদর্শনী। নদী, পাখি, প্রকৃতি ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে সচেতনতা বাড়ানোর লক্ষ্যে ধরিত্রী রক্ষায় আমরা (ধরা)-এর উদ্যোগে গতকাল শনিবার চার দিনব্যাপী এ প্রদর্শনীর উদ্বোধন হয়। এটি ৬ অক্টোবর পর্যন্ত সর্বসাধারণের জন্য উন্মুক্ত থাকবে। এতে আলোকচিত্রী ও ফটোগ্রাফি শিক্ষাবিদ আবির আবদুল্লাহর নদী ও প্রকৃতিবিষয়ক এবং বন্যপ্রাণী আলোকচিত্রী আনসার উদ্দিন খান পাঠানের পাখি ও বন্যপ্রাণীবিষয়ক ১৭০টি আলোকচিত্র স্থান পেয়েছে। ছবিগুলোতে নদী ও জলাভূমির সঙ্গে পাখি ও বন্যপ্রাণীর নিবিড় সম্পর্ক যেমন ধরা পড়েছে, তেমনি ফুটে উঠেছে প্রকৃতির নানা নান্দনিক মুহূর্ত।
উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম। বিশেষ অতিথি ছিলেন তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের সচিব মাহবুবা ফারজানা এবং ধরার উপদেষ্টা কমিটির সদস্য ও জাতীয় নদীরক্ষা কমিশনের সাবেক চেয়ারম্যান ড. মুজিবুর রহমান হাওলাদার।
শেখ ফরিদুল ইসলাম বলেন, নদী, পাখি ও প্রাণ-প্রকৃতি রক্ষা শুধু সরকারের দায়িত্ব নয়, এটি সবার দায়িত্ব। ‘নদী ও পাখি’ প্রদর্শনীর ছবিগুলো প্রকৃতির সঙ্গে মানুষের জীবন ও ভবিষ্যতের সম্পর্কের কথা মনে করিয়ে দেয়। শুধু ছবি দেখে মুগ্ধ না হয়ে নদী দখল, দূষণ ও প্লাস্টিকের ব্যবহার বন্ধে নিজ নিজ জায়গা থেকে দায়িত্বশীল ভূমিকা নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
মাহবুবা ফারজানা বলেন, প্রদর্শনীর প্রতিটি ছবির একটি গল্প রয়েছে। এসব গল্প হৃদয় ও মননে ধারণ করতে হবে। নদী ও পাখি রক্ষায় প্রত্যেক নাগরিককে সচেতন হয়ে নিজ নিজ অবস্থান থেকে দায়িত্ব পালনের ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।
পাখি বিশেষজ্ঞ ইনাম আল হক বলেন, ছবি তোলা ও ভালোবাসার মধ্যে গভীর সম্পর্ক রয়েছে। নদীর ছবি তুলতে তুলতে একজন আলোকচিত্রী নদীর জীবনকে আরও গভীরভাবে জানতে শেখেন। পাখির ক্ষেত্রেও ভালোবাসা ও জানার চর্চা একইভাবে বাড়ে।
আনসার উদ্দিন খান পাঠান বলেন, নদী, জলাভূমি ও পাখি পরস্পর গভীরভাবে যুক্ত। তাই পাখি রক্ষার পাশাপাশি নদী, জলাভূমি ও আশপাশের প্রাকৃতিক পরিবেশ সংরক্ষণেও গুরুত্ব দিতে হবে।
ধরার সদস্য সচিব শরীফ জামিল বলেন, প্রদর্শনীর উদ্দেশ্য শুধু পাখির সৌন্দর্য দেখানো নয়; প্রকৃতির প্রতি মানুষের মায়া ও ভালোবাসা জাগানো এর লক্ষ্য। নদী, জলাভূমি ও পাখির আবাসস্থল রক্ষায় সবাইকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান তিনি।
ড. মুজিবুর রহমান হাওলাদার বলেন, নদী ও পাখির সৌন্দর্যের পাশাপাশি নদী, পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য ধ্বংসের বাস্তব চিত্রও আলোকচিত্রে তুলে আনা প্রয়োজন।
- বিষয় :
- প্রদর্শনী