ঢাকা সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬

২০ জেলায় সমন্বিত মেডিকেল অক্সিজেন নেটওয়ার্ক গড়বে সরকার

সংলাপে স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী

২০ জেলায় সমন্বিত মেডিকেল অক্সিজেন নেটওয়ার্ক গড়বে সরকার
×
×

‘বাংলাদেশ অক্সিজেন সামিট’-এর নীতি সংলাপে স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিত

সমকাল প্রতিবেদক

প্রকাশ: ০৪ অক্টোবর ২০২৬ | ১৬:১৮

দেশের স্বাস্থ্যসেবার সক্ষমতা বাড়াতে চলতি অর্থবছরে অন্তত ২০টি জেলায় সমন্বিত মেডিকেল অক্সিজেন নেটওয়ার্ক গড়ে তোলার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। একই সঙ্গে দেশের মেডিকেল অক্সিজেন ব্যবস্থার অগ্রগতি মূল্যায়নে ল্যানসেট কমিশনের সুপারিশ অনুযায়ী ‘অক্সিজেন অ্যাকসেস স্কোরকার্ড’ অর্জনের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

রোববার ঢাকার ইন্ডিপেনডেন্ট ইউনিভার্সিটিতে (আইইউবি) আয়োজিত দুই দিনব্যাপী ‘বাংলাদেশ অক্সিজেন সামিট’-এর সমাপনী ও উচ্চপর্যায়ের নীতি সংলাপে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিত। আইইউবির সেন্টার ফর হেলথ, ইমপ্লিমেন্টেশন অ্যান্ড পলিসি সায়েন্সেস (সিএইচআইপিএস) এবং বাংলাদেশ অক্সিজেন নেটওয়ার্ক যৌথভাবে এ সামিটের আয়োজন করে।

স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী বলেন, কোভিড-১৯ মহামারির অভিজ্ঞতা এবং ২০২৩ সালে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) রেজল্যুশনের পর মেডিকেল অক্সিজেনকে কেবল তাৎক্ষণিক চিকিৎসা-চাহিদা হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। এটি এখন স্বাস্থ্যনিরাপত্তার অপরিহার্য অংশ।

তিনি বলেন, চিকিৎসা খাতে ব্যবহৃত অক্সিজেনের ব্যবস্থাপনাকে এমন পর্যায়ে নেওয়া প্রয়োজন, যাতে বৈশ্বিক মানদণ্ড ও স্কোরকার্ডেও বাংলাদেশের অগ্রগতি দৃশ্যমান হয়।

‘অক্সিজেন ব্যবস্থাপনায় সমন্বয়ের ঘাটতি ছিল’
দেশের অক্সিজেন ব্যবস্থাপনায় অতীতে সমন্বয়ের অভাব ছিল উল্লেখ করে ড. মুহিত বলেন, কোথাও একই ধরনের উদ্যোগের পুনরাবৃত্তি হয়েছে, আবার কোথাও প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম থাকার পরও সেগুলো চালু ছিল না।

তিনি বলেন, বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর এই অচলাবস্থা কাটাতে কার্যকর উদ্যোগ নিয়েছে। ইতিমধ্যে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে একটি উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠন করা হয়েছে। সমন্বিত অক্সিজেন ব্যবস্থাপনার জন্য ডিপিপি প্রণয়নের কাজও চলছে। চলতি অর্থবছরেই দ্রুততম সময়ে অন্তত ২০টি জেলায় সমন্বিত অক্সিজেন নেটওয়ার্ক গড়ে তোলা হবে বলে জানান তিনি।

২০২৬–২০৩০ সালের অক্সিজেন রোডম্যাপ
স্বাস্থ্য খাতে অক্সিজেন ব্যবস্থাপনার দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়নের জন্য ২০২৬ থেকে ২০৩০ সাল পর্যন্ত একটি কার্যকর ‘ন্যাশনাল অক্সিজেন রোডম্যাপ’ প্রণয়নের ওপর গুরুত্ব দেন স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী। একই সঙ্গে স্বাস্থ্য খাতে দেশীয় উদ্ভাবনকে উৎসাহিত করার আহ্বান জানান তিনি। চিকিৎসা শিক্ষায় অক্সিজেন থেরাপির ব্যবহারিক ও পদ্ধতিগত প্রশিক্ষণ অন্তর্ভুক্ত করার ক্ষেত্রে বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যান্ড ডেন্টাল কাউন্সিল (বিএমডিসি) এবং নার্সিং কাউন্সিলকে ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান তিনি।

অ্যাম্বুলেন্স সেবায় মানদণ্ড চান প্রতিমন্ত্রী
প্রান্তিক জনগোষ্ঠী, নারী এবং সেরিব্রাল পালসিসহ প্রতিবন্ধী শিশুদের চিকিৎসায় নিরবচ্ছিন্ন অক্সিজেন সরবরাহ নিশ্চিত করার ওপরও জোর দেন স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী। দেশে জরুরি অ্যাম্বুলেন্স সেবার সুনির্দিষ্ট নীতিমালা ও সংজ্ঞার প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, যেকোনো গাড়িতে বাতি লাগিয়ে সেটিকে অ্যাম্বুলেন্স হিসেবে পরিচালনার প্রবণতা বন্ধ করতে হবে।

আধুনিক ও মানসম্পন্ন অ্যাম্বুলেন্স সেবা নিশ্চিত করতে আইনগত কাঠামো ও মানদণ্ড নির্ধারণের কাজ সরকার শুরু করেছে বলে জানান তিনি। এই ব্যবস্থায় কার্যকর অক্সিজেন সরবরাহের সুযোগও রাখা হবে।

অনুষ্ঠানে বক্তারা সরকারি ও বেসরকারি খাতের অংশীদারত্বের মাধ্যমে সাশ্রয়ী, সমতাভিত্তিক ও টেকসই মেডিকেল অক্সিজেন ব্যবস্থা গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দেন।

আরও পড়ুন

×