মানবতাবিরোধী অপরাধ
আমু-দীপু মনির বিরুদ্ধে তদন্ত শেষ, শিগগির অভিযোগপত্র
আমির হোসেন আমু ও ডা. দীপু মনি। ছবি: সংগৃহীত
সমকাল প্রতিবেদক
প্রকাশ: ০৫ অক্টোবর ২০২৬ | ১২:৪১
চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় আওয়ামী লীগের (কার্যক্রম নিষিদ্ধ) সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য সাবেক মন্ত্রী আমির হোসেন আমু এবং সাবেক মন্ত্রী ডা. দীপু মনিসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে তদন্ত শেষ হয়েছে। ট্রাইব্যুনালে শিগগির অভিযোগপত্র জমা দেওয়া হবে। গতকাল রোববার প্রেস ব্রিফিংয়ে এ তথ্য জানিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর গাজী এম এইচ তামিম।
প্রসিকিউটর তামিম বলেন, ‘দীর্ঘ তদন্ত শেষে আওয়ামী লীগ সরকারের কয়েকজন সাবেক এমপি-মন্ত্রীর বিরুদ্ধে আমরা প্রতিবেদন হাতে পেয়েছি। যাচাই-বাছাই সম্পন্ন করে আনুষ্ঠানিক অভিযোগপত্রও প্রস্তুত করা হয়েছে। চিফ প্রসিকিউটরের অনুমতি সাপেক্ষে শিগগির তা ট্রাইব্যুনালে দাখিল করা হবে।’
প্রসিকিউশন জানায়, সাবেক মন্ত্রী শাজাহান খান, লে. কর্নেল (অব.) মুহম্মদ ফারুক খান, ড. আবদুর রাজ্জাকসহ আরও অনেকে রয়েছেন এই তালিকায়। তারা এখন কারাগারে আছেন।
শ্যামল দত্ত, মোজাম্মল বাবু ও রুপার বিরুদ্ধে তদন্ত প্রতিবেদন ২৫ অক্টোবর চলতি মাসেই ট্রাইব্যুনালে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সাবেক সাধারণ সম্পাদক শ্যামল দত্ত, একাত্তর টিভির সাবেক এমডি মোজাম্মেল হক বাবু এবং সাবেক প্রধান প্রতিবেদক ফারজানা রুপার বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য আগামী ২৫ অক্টোবর দিন ধার্য রয়েছে।
গতকাল প্রসিকিউশনের কাছে সাংবাদিকরা জানতে চান, এই তিন সাংবাদিকের বিরুদ্ধে কেন মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগ আনা হচ্ছে? জবাবে প্রসিকিউটর তামিম বলেছেন, ‘অতিউৎসাহী হয়ে মিথ্যা’ খবর প্রচার, ঘটনাকে ‘বিকৃতভাবে উপস্থাপন ও অপরাধ সংঘটনে প্ররোচনা’ দেওয়ার সুনির্দিষ্ট অভিযোগ রয়েছে তাদের বিরুদ্ধে। তিনি বলেন, আসামি করার ক্ষেত্রে কারও পেশা বিবেচনা করা হয়নি।
প্রসিকিউটর তামিম বলেন, ‘ট্রাইব্যুনালে যারা আসামি হয়েছেন, তাদের প্রত্যেকেরই একটি পেশা থাকতে পারে। তবে আসামি হওয়ার ক্ষেত্রে পেশা কোনো বিবেচ্য বিষয় নয়। তদন্তে যাদের বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া গেছে, তাদেরই অভিযুক্ত করা হয়েছে; তারা এখানে সাংবাদিক পরিচয়ে আসেননি। উদাহরণ হিসেবে সাবেক প্রধান বিচারপতি এ বি এম খায়রুল হকের বিষয়টি তুলে ধরে প্রসিকিউটর তামিম বলেন, তাঁকে প্রধান বিচারপতি হিসেবে নয়, একজন নাগরিক হিসেবে আইন অমান্য করার কারণে আসামি করা হয়েছে।
তামিম বলেন, সারাদেশে যখন হত্যাযজ্ঞ চলছিল, তখন একদল সাংবাদিক তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে সাক্ষাৎ করে তাঁর কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাওয়ার কথা বলে সমর্থন জানিয়েছিলেন। ওই সময়ে কিছু গণমাধ্যমে সঠিক খবরের বদলে ‘ভুল খবর প্রচার করে মানুষকে বিভ্রান্ত করা হয়েছে’ বলেও দাবি করেন প্রসিকিউটর তামিম।
আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে তদন্ত চলছে
রাজনৈতিক দল বা সংগঠন হিসেবে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে আওয়ামী লীগের (কার্যক্রম নিষিদ্ধ) বিরুদ্ধে তদন্ত চলছে। তবে সেই তদন্ত কবে, কখন শেষ হবে– এ মুহূর্তে তা সুনির্দিষ্ট করে বলা যাচ্ছে না বলে জানিয়েছেন প্রসিকিউটর তামিম।
প্রসিকিউটর তামিম বলেন, আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগের বিষয়টি তদন্ত সংস্থার এখতিয়ারে। দলটির বিরুদ্ধে দেশজুড়ে অপরাধের তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহের কাজ চলছে। দেশের প্রতিটি জেলা, উপজেলা এবং দলটির কার্যক্রম থাকা শাখা-উপশাখা থেকে তথ্য সংগ্রহ করে প্রতিবেদন জমা দিতে হবে। তদন্ত শেষে অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া গেলে পরবর্তী আইনগত পদক্ষেপ নেওয়ার সুযোগ রয়েছে। তিনি বলেন, দেশের ইতিহাসে এর আগে কোনো সংগঠন এমন বিচার প্রক্রিয়ার আওতায় আসেনি। এটি একটি ‘বিরল ঘটনা’।
ইনুর সাজা বাড়াতে চলতি সপ্তাহে আপিল
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় কুষ্টিয়ায় ছয়জনকে হত্যাসহ আট অভিযোগে করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জাসদ) সভাপতি সাবেক মন্ত্রী হাসানুল হক ইনুর সাজা বাড়াতে চলতি সপ্তাহে আপিল করবে রাষ্ট্রপক্ষ। গতকাল সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে এ তথ্য জানান প্রসিকিউটর তামিম। তিনি বলেন, গত ৩০ জুন হাসানুল হক ইনুকে ১০ বছর করে ৩০ বছর কারাদণ্ড দেন ট্রাইব্যুনাল-২। তবে তিনটি সাজা একসঙ্গে চলবে বলে রায়ে উল্লেখ করেন ট্রাইব্যুনাল। সে ক্ষেত্রে ১০ বছর খাটতে হবে। এ সাজা বাড়াতে রাষ্ট্রপক্ষ থেকে আপিলের সব প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। চলতি সপ্তাহে সুপ্রিম কোর্টে আপিল করা হবে।
- বিষয় :
- মানবতাবিরোধী অপরাধ