হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে বিমান দুর্ঘটনার মহড়া অনুষ্ঠিত
মহড়ার মাধ্যমে বিভিন্ন সংস্থার সমন্বিত কার্যক্রম, দ্রুত সাড়া দেওয়ার সক্ষমতা এবং বিমানবন্দরের জরুরি প্রস্তুতি যাচাই করা হয়। ছবি: শহিদুল আলম
সমকাল প্রতিবেদক
প্রকাশ: ০৫ অক্টোবর ২০২৬ | ১৩:৩০ | আপডেট: ০৫ অক্টোবর ২০২৬ | ১৭:০৫
হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে বিমান দুর্ঘটনার পর আগুন নিয়ন্ত্রণ, যাত্রী উদ্ধার ও জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলার সক্ষমতা যাচাইয়ে ফায়ার ও রেসকিউ মহড়া অনুষ্ঠিত হয়েছে। মহড়ায় ব্যাংকক থেকে ঢাকাগামী একটি উড়োজাহাজ অবতরণের ঠিক আগে ইঞ্জিনে আগুন লাগা এবং পরে রানওয়ে থেকে ছিটকে পড়ার কল্পিত পরিস্থিতি উপস্থাপন করা হয়।
সোমবার অনুষ্ঠিত এ মহড়ার কল্পিত দৃশ্যপটে দেখানো হয়, ব্যাংকক থেকে শাহজালাল বিমানবন্দরের উদ্দেশ্যে আসা ৯৮ জন যাত্রী ও ৫ জন ক্রুবাহী একটি উড়োজাহাজ অবতরণের ঠিক আগে ডান পাশের ইঞ্জিনে আগুন লাগে। একই সময়ে কন্ট্রোল প্যানেলে প্রযুক্তিগত ত্রুটি দেখা দিলে বিষয়টি এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোল (এটিসি) টাওয়ারকে জানানো হয়।
এরপর এটিসি জরুরি অবস্থা ঘোষণা করে বিমানবন্দরের নির্বাহী পরিচালকসহ সংশ্লিষ্ট সব জরুরি সেবা সংস্থাকে বিষয়টি জানায়। বিমানবন্দরের এয়ারপোর্ট ইমারজেন্সি প্ল্যান কার্যকর হওয়ার পর জরুরি সেবায় নিয়োজিত সংস্থাগুলো ঘটনাস্থলে যাওয়ার প্রস্তুতি নেয়।
মহড়ার দৃশ্যপটে আরও দেখানো হয়, জরুরি অবতরণের সময় উড়োজাহাজটি রানওয়ের মধ্যরেখা অনুসরণ করতে ব্যর্থ হয়ে নির্ধারিত অংশ অতিক্রম করে উচ্চগতিতে এগিয়ে যায়। একপর্যায়ে এটি রানওয়ের বাম দিকে ছিটকে পড়ে এবং ট্যাক্সিওয়ে সিয়েরা অতিক্রম করে রানওয়ের দক্ষিণ পাশে থেমে যায়।
এরপর উড়োজাহাজটির নিচের অংশে আগুনের সূত্রপাত হয় এবং অল্প সময়ের মধ্যে আগুন পুরো উড়োজাহাজে ছড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়ে বিমানবন্দরের ফায়ার সার্ভিস, এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোল, উদ্ধারকারী দল, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, চিকিৎসাসেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানসহ সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো ঘটনাস্থলে পৌঁছে।
মহড়ায় সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোকে অগ্নিনির্বাপণ, যাত্রী উদ্ধার, প্রাথমিক চিকিৎসা, আহতদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া এবং দুর্ঘটনা-পরবর্তী জরুরি ব্যবস্থাপনা কার্যক্রম পরিচালনা করতে দেখা যায়। মহড়ার মাধ্যমে বিভিন্ন সংস্থার সমন্বিত কার্যক্রম, দ্রুত সাড়া দেওয়ার সক্ষমতা এবং বিমানবন্দরের জরুরি প্রস্তুতি যাচাই করা হয়।
মহড়ায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে মন্ত্রী এম. রশিদুজ্জামান মিল্লাত, এমপি বলেন, বিমান চলাচলের ক্ষেত্রে নিরাপত্তা, প্রস্তুতি ও দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণের কোনো বিকল্প নেই। যাত্রীদের নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে যেকোনো জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় সংশ্লিষ্ট সব সংস্থাকে প্রস্তুত থাকতে হবে।
তিনি বলেন, নিয়মিত এ ধরনের মহড়া জরুরি প্রতিক্রিয়া সক্ষমতা ও আন্তসংস্থা সমন্বয় আরও শক্তিশালী করবে।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের সচিব ফাহমিদা আখতার বলেন, জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় দক্ষ জনবল, কার্যকর ব্যবস্থাপনা এবং সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর মধ্যে শক্তিশালী সমন্বয় গুরুত্বপূর্ণ। নিয়মিত প্রশিক্ষণ ও মহড়ার মাধ্যমে বিদ্যমান সক্ষমতা যাচাই এবং প্রয়োজনীয় উন্নয়নের ক্ষেত্র চিহ্নিত করা সম্ভব।
অনুষ্ঠানের সভাপতি বেবিচক চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল মো. মোস্তফা মাহমুদ সিদ্দিক বলেন, নিরাপদ বিমান চলাচল নিশ্চিত করতে নিয়মিত প্রশিক্ষণ, বাস্তবভিত্তিক মহড়া এবং সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর কার্যকর সমন্বয় অপরিহার্য। এ ধরনের মহড়ার মাধ্যমে জনবলের পেশাগত দক্ষতা, জরুরি সরঞ্জামের কার্যকারিতা এবং সমন্বিত প্রতিক্রিয়া সক্ষমতা যাচাই করা সম্ভব হয়।
মহড়া শেষে বিভিন্ন পর্যায়ের কার্যক্রম মূল্যায়ন করা হয়। মহড়া থেকে অর্জিত অভিজ্ঞতা ও চিহ্নিত বিষয়গুলো ভবিষ্যতে শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের জরুরি ব্যবস্থাপনা ও সমন্বিত প্রতিক্রিয়া সক্ষমতা আরও উন্নত করতে সহায়ক হবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা প্রকাশ করেন।
অনুষ্ঠানে ঢাকা-১৮ আসনের এমপি এস এম জাহাঙ্গীর হোসেনসহ বিমানবন্দর ও সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সংস্থার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের নির্বাহী পরিচালক গ্রুপ ক্যাপ্টেন এস এম রাগিব সামাদ।