দেড় বছর তদন্ত শেষে শারমিনের একই সম্পদের তথ্য পেয়েছে দুদক
ফাইল ছবি
সমকাল প্রতিবেদক
প্রকাশ: ০৫ অক্টোবর ২০২৬ | ২১:৪৫
ময়মনসিংহ-১০ (গফরগাঁও) আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ফাহমী গোলন্দাজ বাবেলের স্ত্রী শারমিন গোলন্দাজের বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) মামলার তদন্তে নতুন কোনো সম্পদের তথ্য পাওয়া যায়নি। মামলার আগে অনুসন্ধানে তার নামে যে পরিমাণ সম্পদের তথ্য পাওয়া গিয়েছিল, তদন্ত শেষে দেওয়া চার্জশিটেও একই পরিমাণ সম্পদের কথা উল্লেখ করা হয়েছে।
দুদকের মামলায় শারমিন গোলন্দাজের বিরুদ্ধে ১ কোটি ২ লাখ ৯৭ হাজার টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ আনা হয়েছিল। গত বছরের ১৯ জানুয়ারি তার বিরুদ্ধে মামলাটি করা হয়। মামলার তদন্ত শেষ করতে প্রায় দেড় বছর সময় লেগেছে। এই সময়ে তার নামে আরও কোনো অসামঞ্জস্যপূর্ণ সম্পদের তথ্য পাওয়া যায়নি। আবার অনুসন্ধানে পাওয়া সম্পদের পরিমাণও কমেনি।
তবে মামলার এজাহার ও চার্জশিটে তার ব্যাংক লেনদেনের তথ্যের মধ্যে বড় ধরনের পার্থক্য রয়েছে।
মামলায় বলা হয়েছিল, শারমিন গোলন্দাজের নামে তিনটি ব্যাংক হিসাবে ২ কোটি ২৭ লাখ টাকা জমা এবং ৯০ লাখ ৬৯ হাজার টাকা উত্তোলন করা হয়েছে। এসব লেনদেনকে সন্দেহজনক হিসেবে উল্লেখ করা হয়।
অন্যদিকে, চার্জশিটে বলা হয়েছে, তার ব্যাংক হিসাবে অপরাধলব্ধ ৯৮ লাখ ৮০ হাজার টাকা জমা এবং ৬১ লাখ ৮৯ হাজার টাকা উত্তোলন করা হয়েছে।
দুদকের জনসংযোগ বিভাগের সহকারী পরিচালক তানজির আহমেদ সোমবার এক ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের বলেন, শারমিন গোলন্দাজের বিরুদ্ধে শিগগির আদালতে চার্জশিট দেওয়া হবে। ওই দিনই কমিশন চার্জশিটের অনুমোদন দিয়েছে।
দুদকের প্রধান কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক ফেরদৌস রহমান প্রায় দেড় বছর আগে বাদী হয়ে শারমিন গোলন্দাজের বিরুদ্ধে মামলাটি করেন। তিনিই মামলাটির তদন্ত করেন এবং চার্জশিটের অনুমোদন চেয়ে কমিশনে প্রতিবেদন দেন। পরে সোমবার কমিশন ওই চার্জশিট অনুমোদন করে।
শারমিন গোলন্দাজের অপরাধে সহযোগিতার অভিযোগে চার্জশিটে তার স্বামী ফাহমী গোলন্দাজ বাবেলকেও আসামি করা হয়েছে।
চার্জশিটে বলা হয়েছে, ফাহমী গোলন্দাজ বাবেল সংসদ সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে ক্ষমতার অপব্যবহার করে অবৈধভাবে উপার্জিত সম্পদ বৈধ করার অসৎ উদ্দেশ্যে তা তার স্ত্রীর নামে রেখেছেন। তার স্ত্রীর নামীয় ব্যাংক হিসাবেও অপরাধলব্ধ অর্থ লেনদেন করা হয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
চার্জশিটে ফাহমী গোলন্দাজ বাবেলের বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, ২০০৪-এর ২৭(১) ধারা, মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, ২০১২-এর ৪(২) ও ৪(৩) ধারা এবং দণ্ডবিধির ১০৯ ধারায় শাস্তিযোগ্য অপরাধের অভিযোগ আনা হয়েছে।