তামিম হত্যা মামলায় মন্ত্রী রবিউলসহ ৯ জনকে সম্পৃক্ত করার আবেদন খারিজ
ফাইল ছবি
আদালত প্রতিবেদক
প্রকাশ: ০৬ অক্টোবর ২০২৬ | ০৪:৩০
দীপ্ত টিভির সম্প্রচার কর্মকর্তা তানজিল জাহান তামিম হত্যা মামলায় সড়ক পরিবহনমন্ত্রী শেখ রবিউল আলমসহ ৯ আসামিকে সম্পৃক্ত করার আবেদন নামঞ্জুর করেছেন আদালত।
সোমবার শুনানি শেষে ঢাকার ১৩তম অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ জাহিদুল ইসলাম এই আদেশ দেন।
আদালতের বেঞ্চ সহকারী সোহেল মিয়া বলেন, মামলাটি থেকে ৯ আসামিকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছিল। এ জন্য বাদী রিভিশন করেন। আদালত রিভিশন আবেদন নামঞ্জুর করেছেন। যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র রয়েছে তাদের বিরুদ্ধে মামলা চলবে।
রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে বাদীপক্ষের আইনজীবী আব্দুল আলীম বলেন, আমরা এই আদেশে সন্তুষ্ট নই। আমরা এ আদেশের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে যাব।
২০২৪ সালের ১০ অক্টোবর হাতিরঝিল থানার মহানগর আবাসিক এলাকায় নিজ বাসায় হামলার শিকার হন তামিম। গুরুতর অবস্থায় হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। ঘটনায় পরদিন তামিমের বাবা সুলতান আহমেদ হাতিরঝিল থানায় হত্যা মামলা করেন।
মামলায় ডেভেলপার কোম্পানি প্লেজেন্ট প্রপার্টিজের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মির্জা আব্দুল লতিফ, বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য শেখ রবিউল আলম, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মোহাম্মদ মামুনসহ ১৬ জনের নাম দেওয়ার পাশাপাশি অজ্ঞাতনামা ১১ থেকে ১২ জনকে আসামি করা হয়।
এরপর মামলার তদন্ত শেষে ২০২৫ সালের ১০ ডিসেম্বর ঢাকা মহানগর উত্তর পিবিআইয়ের উপপরিদর্শক জাকারিয়া আলম আদালতে ১৩ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র এবং এক কিশোরের বিরুদ্ধে দোষীপত্র জমা দেন। তবে রবিউল আলমসহ ৯ জনের বিরুদ্ধে ‘সুনির্দিষ্ট তথ্য না পাওয়ায়’ তাদের অব্যাহতির সুপারিশ করা হয়। এতে অসন্তোষ প্রকাশ করে গত ৮ জানুয়ারি আদালতে নারাজির আবেদন করেন তামিমের বাবা সুলতান আহমেদ।
গত ৩ মার্চ ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আওলাদ হোসাইন মুহাম্মদ জোনাইদের আদালত বাদীর নারাজি আবেদন নামঞ্জুর করে মামলার অভিযোগপত্র গ্রহণ করেন। রবিউল আলমসহ ৯ জনকে মামলা থেকে অব্যাহতি দেন। এরপর ওই আদেশের বিরুদ্ধে রিভিশন আবেদন করেন সুলতান আহমেদ। সোমবার শুনানি শেষে আদালত বাদীপক্ষের সেই আবেদনও নামঞ্জুর করেন।
মামলায় অভিযোগপত্রভুক্ত আসামিরা হলেন প্লেজেন্ট প্রপার্টিজের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মির্জা আব্দুল লতিফ, সিইও ফাইজুল আহম্মেদ প্রকাশ সুমন, মামুনুর রশীদ মামুন, কোরবান আলী, এস এম ইব্রাহিম হোসাইন, বাধন, গাজী জাকির হোসেন, রাসেল, মনির হোসেন, শাহরাজ উদ্দিন, আমিরুল ইসলাম আমির, সুমন মল্লিক ও মাহফুজার রহমান।
অব্যাহতি পাওয়া ৯ জন হলেন মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মোহাম্মদ মামুন, শেখ রবিউল আলম, ফজলুর রহমান, আরিয়ান, নাসরিন আক্তার, রাসেল, মাহফুজুর রহমান, মোজাম্মেল হক কবির ও ইমাম হোসেন।
- বিষয় :
- দীপ্ত টিভি
- শেখ রবিউল আলম
- আদালত