ঢাকা মঙ্গলবার, ০৬ অক্টোবর ২০২৬

দুর্নীতিবিরোধী বিশেষ আইন 

স্পিকারের কাছে খসড়া জমা দিয়েছে রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলন 

স্পিকারের কাছে খসড়া জমা দিয়েছে রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলন 
×

ছবি: সংগৃহীত

সমকাল প্রতিবেদক

প্রকাশ: ০৬ অক্টোবর ২০২৬ | ০৪:৪১

কর্মসংস্থান সৃষ্টি, দুর্নীতি দমন ও পাচারকৃত অর্থ উদ্ধারে প্রয়োজনীয় নীতিগত সংস্কারের দাবিতে জাতীয় সংসদের স্পিকারের কাছে স্মারকলিপি ও বিশেষ আইনের খসড়া জমা দিয়েছে বাংলাদেশ রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলন, অহিংস গণঅভ্যুত্থান বাংলাদেশ ও বাংলাদেশ ভূমিহীন আন্দোলন।

সোমবার জাতীয় সংসদ ভবনের স্পিকারের দপ্তরে তিন সংগঠনের যৌথ প্রতিনিধি দল এই স্মারকলিপি ও আইনের খসড়া হস্তান্তর করে। প্রতিনিধি দলে ছিলেন রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলনের সভাপতি হাসনাত কাইয়ূম, অহিংস গণঅভ্যুত্থান বাংলাদেশের সিনিয়র সহসভাপতি ইঞ্জিনিয়ার নজরুল হক ও সাধারণ সম্পাদক মাহবুবুল আলম চৌধুরী।

স্মারকলিপি হস্তান্তর শেষে জাতীয় সংসদের দক্ষিণ গেট সংলগ্ন মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে হাসনাত কাইয়ূম বলেন, দেশের বর্তমান ভয়াবহ বেকারত্ব দূরীকরণ, দুর্নীতি রোধ এবং টেকসই অর্থনৈতিক সংস্কারে সরকারের চরম অনীহা স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।

তিনি বলেন, অহিংস গণঅভ্যুত্থান আন্দোলন বহুদিন ধরে পাচার ও দুর্নীতিবিরোধী বিশেষ আইন বানানোর কথা বলছে। ভূমিহীন আন্দোলন প্রান্তিক মানুষের অর্থনৈতিক মুক্তির জন্য লড়াই করছে। আমরা রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলন বলছি অর্থনৈতিক সংস্কার ছাড়া জাতির মুক্তি নেই। এই ইস্যুতে আমাদের তিন সংগঠন বহুদিন ধরে একসঙ্গে কাজ করে আসছি।

হাসনাত কাইয়ূম বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থান-পরবর্তী নতুন বাংলাদেশে দেশের মানুষের প্রধান প্রত্যাশা ছিল অর্থনৈতিক সংকট নিরসন ও বেকারত্ব হ্রাস। সে লক্ষ্যে পাচারকৃত অর্থ উদ্ধার এবং প্রান্তিক উদ্যোক্তাদের জন্য সহজ শর্তে মূলধন সুরক্ষায় সরকারের কোনো কার্যকরী উদ্যোগ চোখে পড়ছে না। উপরন্তু আমরা যখন সে দাবিতে মাঠে নামতে চেয়েছি, আইনের খসড়া দিয়ে সরকারকে সহায়তা করতে চেয়েছি, তখন সরকার পুলিশ ব্যবহার করে আমাদের থামিয়েছে। অভ্যুত্থান-পরবর্তী বাংলাদেশে প্রথম যে সমাবেশটি পুলিশি বাধায় বাতিল হলো, সেটি ছিল আমাদের তিন সংগঠনের অর্থনৈতিক সংস্কার-সংক্রান্ত গণসমাবেশ। কী ট্র্যাজেডি!

তিনি আরও বলেন, তবে আমরা দমে যাইনি। আজ আমরা স্পিকার সাহেবের অফিসে আইনের খসড়া জমা দিয়েছি। এখানেও নানা অসহযোগিতা ও প্রতিবন্ধকতা তৈরি করা হয়েছিল। অর্থনৈতিক সংস্কার, পাচার ও দুর্নীতিবিরোধী আলাপে সরকারের কেন এত গা জ্বলে? এসব বাধা ও প্রতিবন্ধকতা মূলত লুটেরা, পাচারকারী ও দুর্নীতিবাজদের সুবিধা দেওয়ারই শামিল। সরকার যদি অবিলম্বে এই প্রস্তাবিত অর্থনৈতিক সংস্কার বাস্তবায়নে উদ্যোগী না হয়, তবে আগামী দিনে গণমানুষকেই সংসদ দখল করে নিজেদের অধিকার আদায় করে নিতে হবে।

স্মারকলিপিতে প্রস্তাবিত আইনের চারটি প্রধান দাবি তুলে ধরা হয়। দাবিগুলো হলো লুটপাট ও অর্থ পাচার বন্ধ করতে ও পাচারকৃত টাকা ফেরত আনতে বিশেষায়িত স্বাধীন সংস্থা গঠন; লুটপাটকারী ও পাচারকারীদের দ্রুত বিচারের আওতায় আনতে বিশেষ ট্রাইব্যুনাল গঠন; বেকারত্ব নিরসনে উদ্ধারকৃত টাকা প্রান্তিক জনগণের মাঝে সুদমুক্ত ঋণ হিসেবে বিতরণ এবং দুর্নীতিবাজ ও পাচারকারীদের বাজেয়াপ্ত করা সম্পদ বিক্রি করে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জন্য বিশেষ রাষ্ট্রীয় তহবিল গঠন করা।

সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলনের নদী, পরিবেশ, জলবায়ু ও দুর্যোগবিষয়ক সম্পাদক ইবনুল সাঈদ রানা; নারীবিষয়ক সহসম্পাদক মনোয়ারা রহমান; নির্বাহী কমিটির সদস্য ফরিদুল ইসলাম, খন্দকার হাবিব রাজা; অহিংস গণঅভ্যুত্থান বাংলাদেশের সিনিয়র সহসভাপতি অ্যাডভোকেট আব্দুর রশিদ মিয়া, সাংগঠনিক সম্পাদক জালাল উদ্দিন আহম্মেদ, দপ্তর সম্পাদক রাশিদা বেগম প্রমুখ।

আরও পড়ুন

×