পার্বত্য চট্টগ্রাম সমস্যার সমাধান রাজনৈতিকভাবে করতে হবে
নাগরিক সমাবেশে বিশিষ্টজন
পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ে তিনটি আলাদা জাতীয় কমিটি গঠনের প্রতিবাদে রাজধানীর শাহবাগে নাগরিক সমাবেশ
সমকাল প্রতিবেদক
প্রকাশ: ০৬ অক্টোবর ২০২৬ | ০৮:২৯ | আপডেট: ০৬ অক্টোবর ২০২৬ | ০৮:৪১
| প্রিন্ট সংস্করণ
পার্বত্য চট্টগ্রাম সমস্যাকে নিরাপত্তার দৃষ্টিভঙ্গিতে না দেখে রাজনৈতিকভাবে সমাধানের আহ্বান জানিয়েছেন দেশের বিশিষ্টজন। তারা বলেছেন, পার্বত্য চট্টগ্রাম একটি জাতীয় ও রাজনৈতিক সমস্যা। এর সমাধানও রাজনৈতিকভাবেই করতে হবে।
গতকাল সোমবার রাজধানীর শাহবাগে নাগরিক সমাবেশে তারা এসব কথা বলেন। সাম্প্রতিক চুক্তির সঙ্গে সাংঘর্ষিক পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ে তিনটি আলাদা জাতীয় কমিটি গঠন করার প্রতিবাদে ‘পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি বাস্তবায়ন আন্দোলন’ এই সমাবেশের আয়োজন করে।
সমাবেশে অগ্রদূত সম্পাদক আবু সাঈদ খান বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রাম অশান্ত থাকলে গোটা বাংলাদেশ শান্তিতে থাকতে পারবে না। তাই পার্বত্য চট্টগ্রামের সমস্যা শুধু পাহাড়ের মানুষের সমস্যা নয়; এটিকে দেশের একটি জাতীয় সমস্যা হিসেবে মেনে নিতে হবে।
সম্প্রতি গঠিত তিনটি কমিটি বাতিল করে চুক্তির অন্যতম স্বাক্ষরকারী পক্ষ পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির (জেএসএস) সঙ্গে আলোচনায় বসার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, পাহাড়ের মানুষ অস্ত্র ছেড়েছে বলে তাদের সঙ্গে যা ইচ্ছা করা যাবে– এমন ধারণা ভুল। পাহাড়ের শান্তিপ্রিয় মানুষকে শান্তিতে থাকতে দিতে হবে। তাদের আবারও অস্ত্র ধরতে বাধ্য করা যাবে না।
পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তির পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়নে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান বাসদের সাধারণ সম্পাদক বজলুর রশিদ ফিরোজ। বাংলাদেশ জাসদের সাধারণ সম্পাদক নাজমুল হক প্রধান বলেন, দেশে আন্দোলন হচ্ছে, সরকার পরিবর্তন হচ্ছে। তবে বাস্তব অর্থে কিছুই পরিবর্তন হচ্ছে না।
বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিবি) সাবেক সাধারণ সম্পাদক রুহিন হোসেন প্রিন্স বলেন, পাহাড়কে শুধু নিরাপত্তার দৃষ্টিতে দেখলে চলবে না। সেখানকার মানুষের আকাঙ্ক্ষা ও বাস্তব সমস্যাগুলো বুঝতে হবে। তাদের অংশগ্রহণের ভিত্তিতে পার্বত্য চট্টগ্রাম সমস্যার স্থায়ী সমাধান করতে হবে।
এএলআরডির নির্বাহী পরিচালক শামসুল হুদা সম্প্রতি গঠিত তিনটি কমিটির সমালোচনা করে বলেন, এসব কমিটি মূলত আমলা ও গোয়েন্দানির্ভর। এ ধরনের উদ্যোগ কোনোভাবেই কাম্য নয়।
ভারত প্রত্যাগত উপজাতীয় শরণার্থী কল্যাণ সমিতির সাধারণ সম্পাদক সন্তোষিত চাকমা বকুল বলেন, ১৯৯৭ সালে পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি স্বাক্ষর হলেও গত ২৯ বছরে এর পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়ন ও সমস্যা সমাধানে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। অবিলম্বে এই চুক্তি বাস্তবায়নে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া না হলে পাহাড়ের জনগণ গণতান্ত্রিক ও শান্তিপূর্ণভাবে কঠোর আন্দোলনে যেতে বাধ্য হবে।
সভাপতির বক্তব্য পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি বাস্তবায়ন আন্দোলনের যুগ্ম সমন্বয়কারী জাকির হোসেন বলেন, বর্তমান সরকারের কাছে পাহাড়ের জনগণের প্রত্যাশা ছিল চুক্তি বাস্তবায়নের প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়া। তবে চুক্তি অনুযায়ী পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয় পরিচালিত হচ্ছে না। অপাহাড়ি প্রতিমন্ত্রী নিয়োগ নিয়েও উদ্বেগ রয়েছে।
পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি বাস্তবায়ন আন্দোলন সদস্য দীপায়ন খীসার সঞ্চালনায় সমাবেশ থেকে আট দফা দাবি তুলে ধরা হয়। এর মধ্যে রয়েছে– পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তির সঙ্গে সাংঘর্ষিক পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক তিনটি কমিটি অবিলম্বে বাতিল করা; চুক্তি বাস্তবায়ন পরিবীক্ষণ কমিটি গঠন; মন্ত্রণালয়ের অপাহাড়ি প্রতিমন্ত্রীকে প্রত্যাহার; মন্ত্রণালয়কে পরামর্শ দিতে উপদেষ্টা পরিষদ পুনর্গঠন ও কার্যকর করা; চুক্তি বাস্তবায়নে সুনির্দিষ্ট সময়সূচিভিত্তিক কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ; বিধিমালা প্রণয়ণসহ দ্রুততম সময়ে পার্বত্য ভূমি বিরোধ নিষ্পত্তি কমিশন কার্যকর করা।