ডেঙ্গুর টিকা নিয়ে ভাবছে সরকার, তবে এখনই নয়: প্রতিমন্ত্রী ডা. এম এ মুহিত
রাজধানীর হলি ফ্যামিলি রেড ক্রিসেন্ট মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের অডিটরিয়ামে ‘ডেঙ্গু সংকট মোকাবিলায় করণীয়’ শীর্ষক বৈজ্ঞানিক সেমিনারে প্রতিমন্ত্রী ডা. এম এ মুহিত। ছবি: সমকাল
সমকাল প্রতিবেদক
প্রকাশ: ০৬ অক্টোবর ২০২৬ | ১৪:২২
ডেঙ্গুর প্রকোপ ও মৃত্যুর হার কমাতে দীর্ঘমেয়াদে টিকা দেওয়ার বিষয়টি নিয়ে ভাবছে সরকার। তবে এ মুহূর্তে দেশে ডেঙ্গুর টিকা দেওয়ার কোনো পরিকল্পনা নেই বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ডা. এম এ মুহিত।
আজ মঙ্গলবার রাজধানীর হলি ফ্যামিলি রেড ক্রিসেন্ট মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের অডিটরিয়ামে ‘ডেঙ্গু সংকট মোকাবিলায় করণীয়’ শীর্ষক বৈজ্ঞানিক সেমিনারে তিনি এসব কথা বলেন। ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ড্যাব) আয়োজিত সেমিনারে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন তিনি।
ডা. এম এ মুহিত বলেন, ‘দীর্ঘমেয়াদে ভ্যাকসিন নিয়ে কথাবার্তা হচ্ছে। পৃথিবীতে এই মুহূর্তে সম্ভবত তিনটি ক্যান্ডিডেট ডেঙ্গু ভ্যাকসিন আছে। আমাদের দেশেও এ নিয়ে চিন্তাভাবনা ও কথা হচ্ছে। তবে সেটা এই মুহূর্তে হচ্ছে না।’
স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশে ডেঙ্গুর সব ধরনের ভ্যারিয়েন্টই দেখা যাচ্ছে। তার ভাষায়, এটি একটি ‘ইউনিক সায়েন্টিফিক ফাইন্ডিং’। বিশ্বের অনেক দেশে সাধারণত একটি বা দুটি ভ্যারিয়েন্ট বেশি দেখা গেলেও বাংলাদেশে সবগুলো ভ্যারিয়েন্টই পাওয়া যাচ্ছে।
সম্প্রতি জাপান সফরের প্রসঙ্গ তুলে প্রতিমন্ত্রী বলেন, জাপানেও একটি ক্যান্ডিডেট ডেঙ্গু ভ্যাকসিন রয়েছে। এসব বিষয় নিয়ে বাংলাদেশেরও চিন্তাভাবনা ও আলোচনা চলছে। তবে টিকা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে এ বিষয়ে আরও কাজ ও পরীক্ষা-নিরীক্ষার প্রয়োজন রয়েছে।
ডেঙ্গুতে আক্রান্ত ও মৃত্যুর হার কমাতে প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা জোরদারের ওপর গুরুত্ব দেন ডা. এম এ মুহিত। তিনি বলেন, ‘আমরা যদি মৃত্যুর হার কমাতে চাই, আক্রান্তের হার কমাতে চাই, প্রথম কাজটি হচ্ছে প্রিভেনশনের জন্য কাজ করতে হবে।’
প্রতিরোধের অংশ হিসেবে এডিস মশার প্রজননস্থল ধ্বংসের ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, মশার লার্ভা ধ্বংস করতে জনগণের ব্যাপক সম্পৃক্ততা প্রয়োজন। শুধু সরকার বা কোনো একটি প্রতিষ্ঠানের পক্ষে পুরো দেশ পরিষ্কার রাখা সম্ভব নয়। এ জন্য জনগণকে সচেতন করার পাশাপাশি স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোকে সম্পৃক্ত করা হয়েছে।
স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী জানান, পাড়া-মহল্লা, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও সরকারি প্রতিষ্ঠানে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম চলছে। স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলো মশার লার্ভা ধ্বংস ও মশা নিধনে কাজ করছে।
ডেঙ্গু মোকাবিলায় এ বছর আগেভাগেই প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি। তার ভাষ্য, অতীতে ডেঙ্গুর প্রকোপ শুরু হওয়ার পর সংবাদ প্রকাশ হলে সরকারের পক্ষ থেকে তৎপরতা শুরু হতো। এবার পরিস্থিতি তৈরির প্রায় তিন মাস আগে থেকেই সরকার পরিকল্পনা ও কার্যক্রম শুরু করেছে।
এ ক্ষেত্রে জাতীয় প্রতিষেধক ও সামাজিক চিকিৎসাবিজ্ঞান প্রতিষ্ঠান (নিপসম) এবং রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান (আইইডিসিআর) তথ্য দিয়ে পরিকল্পনা প্রণয়নে সহায়তা করেছে বলে জানান তিনি।
ডেঙ্গু মোকাবিলায় প্রতিরোধের পাশাপাশি আক্রান্ত রোগীদের উন্নত চিকিৎসা নিশ্চিত করার ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে বলে জানান স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, আক্রান্ত হওয়ার পর ভালো ক্লিনিক্যাল ম্যানেজমেন্ট নিশ্চিত করা গেলে মৃত্যুর হার কমানো সম্ভব।
চিকিৎসকদের প্রশিক্ষণের তথ্য তুলে ধরে তিনি বলেন, সোসাইটি অব মেডিসিনের সহযোগিতায় ডেঙ্গু রোগীর চিকিৎসার জন্য একটি ক্লিনিক্যাল ম্যানেজমেন্ট গাইডলাইন প্রচার করা হচ্ছে। গত দুই মাসে দেশের বিভিন্ন প্রান্তের প্রায় ২ হাজার চিকিৎসককে ডেঙ্গু ব্যবস্থাপনা বিষয়ে হালনাগাদ প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে।
ডা. এম এ মুহিত বলেন, ডেঙ্গু মোকাবিলায় সরকারের কার্যক্রমের মধ্যে প্রতিরোধ, দ্রুত রোগ নির্ণয়, দ্রুত রেফারেল এবং হাসপাতালে উন্নত চিকিৎসা নিশ্চিত করার বিষয়গুলো রয়েছে। একই সঙ্গে জনগণ ও পেশাজীবীদের সম্পৃক্ত করে স্বাস্থ্যব্যবস্থাকে আরও কার্যকর করার চেষ্টা চলছে।
সেমিনারে ড্যাবের সভাপতি অধ্যাপক ডা. হারুন আল রশীদ সভাপতিত্ব করেন। এতে ড্যাবের মহাসচিব ডা. মো. জহিরুল ইসলাম শাকিলসহ সংগঠনটির নেতারা বক্তব্য দেন। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অধ্যাপক ডা. ফরহাদ হামিদ ডোনার।
- বিষয় :
- ডেঙ্গু
- টিকা
- ডা. এম এ মুহিত