ঢাকা মঙ্গলবার, ০৬ অক্টোবর ২০২৬

মতবিনময় সভায় বক্তারা

হুমকি মোকাবিলায় কার্যকর ও শক্তিশালী সাইবার আইন প্রয়োজন

হুমকি মোকাবিলায় কার্যকর ও শক্তিশালী সাইবার আইন প্রয়োজন
×

মঙ্গলবার রাজধানীর জাতীয় প্রেস ক্লাবের তোফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া হলে এবি পার্টি লইয়ার্স আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় আমন্ত্রিতরা। ছবি-সমকাল

সমকাল প্রতিবেদক

প্রকাশ: ০৬ অক্টোবর ২০২৬ | ১৮:৩৪

বাংলাদেশে সাইবার অপরাধ, অনলাইন প্রতারণা, তথ্য চুরি, হ্যাকিং, ম্যালওয়্যার, সাইবার হয়রানি এবং শিশুদের অনলাইন নিরাপত্তার মতো বাস্তব হুমকি মোকাবিলায় কার্যকর ও শক্তিশালী সাইবার আইন প্রয়োজন। তবে সাইবার অপরাধ দমনের নামে নাগরিকের মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও রাজনৈতিক ভিন্নমত দমন করা যাবে না বলে মন্তব্য করেছেন বক্তারা।

মঙ্গলবার রাজধানীর জাতীয় প্রেস ক্লাবের তোফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া হলে এবি পার্টি লইয়ার্স আয়োজিত ‘প্রস্তাবিত সাইবার সুরক্ষা আইন: নিরাপত্তা বনাম হয়রানি’ শীর্ষক মতবিনিময় সভায় বক্তারা এসব কথা বলেন।

সভায় বক্তারা প্রস্তাবিত সাইবার সুরক্ষা আইন নিয়ে পাঁচটি দাবি তুলে ধরেন। দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে, আইন চূড়ান্ত করার আগে ব্যাপক ও অর্থবহ জনপরামর্শ করা, ‘গুজব’, ‘ভুল তথ্য’ ও ‘রাষ্ট্রবিরোধী’র মতো অস্পষ্ট শব্দের অপব্যবহার বন্ধ করা, কনটেন্ট বন্ধ বা সরানোর ক্ষেত্রে আদালতের অনুমোদন ও কার্যকর বিচারিক পর্যালোচনা নিশ্চিত করা, সরকারের সমালোচনা, ভিন্নমত, সাংবাদিকতা ও জনস্বার্থে তথ্য প্রকাশকে সাইবার অপরাধ হিসেবে বিবেচনা না করা এবং নাগরিকের ডিজিটাল অধিকার রক্ষায় স্বাধীন তদারকি ব্যবস্থা গড়ে তোলা।

সভায় সভাপতিত্ব করেন এবি পার্টির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার যোবায়ের আহমেদ ভূইয়া। সঞ্চালনা করেন ব্যারিস্টার আব্বাস ইসলাম খান নোমান। স্বাগত বক্তব্য দেন দলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট আব্দুল্লাহ আল মামুন রানা। প্রধান অতিথি ছিলেন দলের সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদ।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে আসাদুজ্জামান ফুয়াদ বলেন, নতুন সরকার ক্ষমতায় আসার পর ফেসবুকে স্ট্যাটাস দেওয়ার কারণে গৃহিণী থেকে শুরু করে শিক্ষার্থী ও শিক্ষক পর্যন্ত অনেককে গ্রেপ্তার হতে হয়েছে। গাজীপুরে একজন শিক্ষার্থীকে কথিত ‘ভূতুড়ে বিল’ নিয়ে বক্তব্য দেওয়ার কারণে গ্রেপ্তারের ঘটনাও ঘটেছে। তার বক্তব্যের সঙ্গে তারা একমত না হলেও এ ধরনের গ্রেপ্তার সমর্থনযোগ্য নয় বলে মন্তব্য করেন তিনি। সালমান মুক্তাদিরের ক্ষেত্রেও একই ধরনের ঘটনা ঘটেছে এবং তার স্টুডিও ভাঙচুর করা হয়েছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক নকীব বলেন, ২০২৬ সালের প্রস্তাবিত সাইবার সুরক্ষা আইনটি ২০১৮ সালের আইন, ২০২৫ সালের অধ্যাদেশ ও পরবর্তী সংশোধনীর ধারাবাহিকতার সর্বশেষ সংস্করণ। এ প্রস্তাবনায় ভুল হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে এবং এর মাধ্যমে রাষ্ট্রের ক্ষমতা আরও কর্তৃত্ববাদী হয়ে ওঠার ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।

সভায় দলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট আব্দুল্লাহ আল মামুন রানাসহ অন্যরা বক্তব্য দেন।

আরও পড়ুন

×