যুক্তরাষ্ট্রের পর ইউরোপের উড়োজাহাজ কিনছে সরকার
আজ চুক্তি সই
ছবি- সংগৃহীত
সমকাল প্রতিবেদক
প্রকাশ: ০৭ অক্টোবর ২০২৬ | ০০:০৯
যুক্তরাষ্ট্রের উড়োজাহাজ নির্মাতা কোম্পানি বোয়িং থেকে ২৫টি উড়োজাহাজ কেনার পর এবার ইউরোপীয় নির্মাতা প্রতিষ্ঠান এয়ারবাসের কাছ থেকেও ১০টি উড়োজাহাজ কিনতে আনুষ্ঠানিক চুক্তি করতে যাচ্ছে সরকার। বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের আজ বুধবার এ-সংক্রান্ত চুক্তি সইয়ের কথা।
বিমানের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, আজ একটি হোটেলে ‘স্প্রেডিং আওয়ার উইংস টুগেদার’ শিরোনামে এই চুক্তি সই অনুষ্ঠান হবে। তবে ১০টি উড়োজাহাজ কিনতে কত অর্থ খরচ হবে, এ তথ্য প্রকাশ করেনি বিমান বা এয়ারবাস। কত বছরে এই উড়োজাহাজগুলো বাংলাদেশে আসবে তা আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়নি।
বিমানের বহরে ১৯টি উড়োজাহাজ রয়েছে। এর সবই বোয়িংয়ের তৈরি। ইউরোপ এবং যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চুক্তিতে ৩৫টি উড়োজাহাজ আসার পর এই সংখ্যা হবে ৫৪। এত উড়োজাহাজ বাংলাদেশের প্রয়োজন আছে কিনা এ প্রশ্নও উঠেছে। ইউরোপ ও যুক্তরাষ্ট্রের চাপে পড়ে বাংলাদেশ এসব উড়োজাহাজ কিনছে বলে সমালোচনা রয়েছে।
তবে সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ‘ফ্লিট এক্সপ্যানশন প্ল্যান ২০২৬-২০৩৫’ অনুযায়ী ২০৩৫ সালে সংস্থাটির বহরে মোট ৪৭টি উড়োজাহাজ প্রয়োজন। এ লক্ষ্য অর্জনে উড়োজাহাজ কেনার চুক্তি করা হচ্ছে। বাংলাদেশ বিমান পরিবহনের হাব হতে চায়। এ লক্ষ্য পূরণেই উড়োজাহাজ কিনতে হচ্ছে।
বাংলাদেশ শুরু থেকেই যুক্তরাষ্ট্রের তৈরি উড়োজাহাজ ব্যবহার করছে। ইউরোপের দেশগুলো ২০২৩ সাল থেকে বাংলাদেশের কাছে উড়োজাহাজ বিক্রির চেষ্টা করছে। ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাখোঁ ২০২৩ সালের সেপ্টেম্বরে ঢাকা সফরে এসে একই প্রস্তাব দেন। তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকার এয়ারবাসের ১০টি উড়োজাহাজ কেনার আলোচনা অনেক দূর এগিয়ে নেয়।
জুলাই অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর ক্ষমতায় আসা অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে ইউরোপের উড়োজাহাজ কেনার আলোচনা অনেকটাই আড়ালে চলে যায়। ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে দ্বিতীয় মেয়াদে যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষমতায় ফেরা ডোনাল্ড ট্রাম্প বাংলাদেশের কাছে বোয়িংয়ের তৈরি উড়োজাহাজ বিক্রির প্রস্তাব করেন।
যুক্তরাষ্ট্র ২০২৫ সালে সব দেশের ওপর পাল্টা শুল্ক আরোপ করে। এ শুল্ক কমাতে দেশটি থেকে আমদানি বৃদ্ধির শর্ত দেয়। তাই অন্তর্বর্তী সরকারের সময় বোয়িংয়ের উড়োজাহাজ কেনার প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা শুরু হয়। বিএনপি সরকারও তা অব্যাহত রাখে। ১৪টি উড়োজাহাজ কিনতে গত এপ্রিলে বোয়িংয়ের সঙ্গে চুক্তি করে বিমান। চুক্তি অনুযায়ী ২০৩১ থেকে পাঁচ বছরে ১৪টি উড়োজাহাজ কেনা হবে ৩ দশমিক ৭ বিলিয়ন ডলার বা ৪৫ হাজার কোটি টাকায়।
ভারতে রাষ্ট্রদূত হিসেবে নিযুক্ত ট্রাম্পের বিশেষ দূত সার্জিও গর গত আগস্টে জানান, বাংলাদেশ বোয়িংয়ের তৈরি আরও কিছু উড়োজাহাজ কিনবে। এ জন্য গত ৩১ আগস্ট প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে চিঠি দিয়ে ধন্যবাদ জানান ডোনাল্ড ট্রাম্প।
গত ৬ সেপ্টেম্বর ঢাকায় নিযুক্ত ইউরোপীয় ইউনিয়নের রাষ্ট্রদূত মাইকেল মিলার বাংলাদেশে বোয়িং-এয়ারবাস দ্বৈরথে ‘লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড’ চান। তিনি বলেন, বোয়িংয়ের পাশাপাশি ইউরোপের এয়ারবাসের কাছ থেকে উড়োজাহাজ কেনার বিষয়টি বাংলাদেশের খুব গুরুত্ব সহকারে নেওয়া উচিত। এয়ারবাসের একটি অবিশ্বাস্য প্রতিযোগিতামূলক অফার রয়েছে।
তখনই বিমানমন্ত্রী রাশিদুজ্জামান মিল্লাত জানিয়েছিলেন, শুধু বোয়িং নয়, এয়ারবাসের তৈরি উড়োজাহাজও কিনবে বাংলাদেশ।
প্রধানমন্ত্রীর যুক্তরাষ্ট্র সফরের সময় ২৩ সেপ্টেম্বর আরও ১১ বোয়িংয়ের উড়োজাহাজ কেনার চুক্তি হয়। এতে ব্যয় হবে ২ দশমিক ৭ বিলিয়ন ডলার। সব মিলিয়ে ২৫টি বিমান কেনায় ব্যয় হবে ৬ দশমিক ৪ বিলিয়ন ডলার বা ৭৮ হাজার কোটি টাকা।
তবে মন্ত্রী বলছেন, এতে আর্থিক চাপ তৈরি হবে না। তাঁর ভাষ্য, পুরো টাকা এখনই পরিশোধ করতে হবে না; প্রতিটি উড়োজাহাজ যখন সরবরাহ করা হবে, তখন ধাপে ধাপে এর মূল্য পরিশোধ করা হবে।