ঢাকা মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২৬

সাংবাদিকদের পানিসম্পদমন্ত্রী

ডিসেম্বরের আগেই গঙ্গার পানি বণ্টন চুক্তির আশা

ডিসেম্বরের আগেই গঙ্গার পানি বণ্টন চুক্তির আশা
×
×

শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি

সমকাল প্রতিবেদক

প্রকাশ: ০৯ অক্টোবর ২০২৬ | ০৯:০৬

| প্রিন্ট সংস্করণ

গঙ্গার পানি বণ্টন চুক্তি নিয়ে আলোচনা শুরুর জন্য ভারতের প্রতিনিধিদের নাম চেয়েছে বাংলাদেশ। দুই দেশের প্রতিনিধিদের মধ্যে আলোচনা শুরু হলে চুক্তির বিষয়ে অগ্রগতি হবে বলে আশা করছে ঢাকা। আগামী ১২ ডিসেম্বর মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই নতুন চুক্তি সম্পন্ন করতে চায় বাংলাদেশ।

গতকাল বৃহস্পতিবার রাজধানীর বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ইন্টারন্যাশনাল অ্যান্ড স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজ (বিআইআইএসএস) মিলনায়তনে ‘পানির ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন ভাবনা: তরুণ নেতৃত্ব, ন্যায়বিচার ও সহযোগিতা’ শীর্ষক সেমিনারে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে পানিসম্পদমন্ত্রী শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি ও পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির এসব কথা বলেন।
পানিসম্পদমন্ত্রী বলেন, ১২ ডিসেম্বরের আগেই নতুন গঙ্গা পানি বণ্টন চুক্তি করতে হবে। বাংলাদেশ ও ভারত যৌথ নদী কমিশনের (জেআরসি) মাধ্যমে নিরবচ্ছিন্নভাবে কাজ করছে। বৈঠকের ভিত্তিতে তিনি আশাবাদী, নির্ধারিত সময়ের আগেই চুক্তি সম্পন্ন হবে। নতুন চুক্তিতে ১৯৭৭ সালের চুক্তির মতো ‘গ্যারান্টি ক্লজ’ ফিরিয়ে আনাকে বাংলাদেশের মূল অগ্রাধিকার হিসেবে উল্লেখ করেন তিনি। ১৯৭৭ সালে প্রথম পাঁচ বছরের জন্য করা চুক্তিতে এ ধারা ছিল। ১৯৯৬ সালে চুক্তি নবায়নের সময় তা বাদ দেওয়া হয়।

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির বলেন, ভারতের সঙ্গে অভিন্ন নদীর পানির ন্যায্য হিস্যা আদায়ে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না। পানি বণ্টনসংক্রান্ত সমস্যার সমাধানে আলোচনা, সংলাপ ও কূটনৈতিক যোগাযোগ অব্যাহত থাকবে। আন্তর্জাতিক আইনের প্রাসঙ্গিক নীতিমালাও বিবেচনায় নেওয়া হবে।

পানি বণ্টন নিয়ে আলোচনার জন্য বাংলাদেশ একটি কমিটি গঠন করেছে জানিয়ে হুমায়ুন কবির  বলেন, ভারতের পক্ষের প্রতিনিধিদের নাম চাওয়া হয়েছে। নাম পাওয়া গেলে দুই দেশের প্রতিনিধিরা আলোচনা শুরু করতে পারবেন। এখন ভারতের জবাবের অপেক্ষায় রয়েছে বাংলাদেশ। খুব শিগগির ইতিবাচক সাড়া পাওয়ার আশা করছে ঢাকা।
পানি বণ্টনে আওয়ামী লীগ সরকারের ভূমিকার সমালোচনা করে হুমায়ুন কবির বলেন, অবৈধ প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে ক্ষমতায় আসা সরকার জনগণের সঠিক প্রতিনিধিত্ব করতে পারে না। তাঁর দাবি, এ কারণে আওয়ামী লীগ সরকার ভারতের কাছ থেকে বাংলাদেশের পানির ন্যায্য হিস্যা আদায়ে ব্যর্থ হয়েছে।

এদিকে পদ্মা ব্যারাজ ও তিস্তা বহুমুখী প্রকল্পের অগ্রগতির কথাও জানান পানিসম্পদমন্ত্রী। তিনি বলেন, আগামী বছরের জানুয়ারি, ফেব্রুয়ারি বা মার্চের মধ্যে পদ্মা ব্যারাজের কাজ দৃশ্যমান করার আশা করা হচ্ছে। তিস্তা প্রকল্পের সম্ভাব্যতা যাচাই শেষে ২০২৭ সালে মূল কাজ শুরু করতে চায় সরকার। এ জন্য দেশি-বিদেশি বিশেষজ্ঞ ও বুয়েটের বিশেষজ্ঞদের কারিগরি সহায়তা নেওয়া হচ্ছে। 
পদ্মা ব্যারাজ ও তিস্তা প্রকল্পে বহির্বিশ্বের কোনো চাপ আছে কিনা– এমন প্রশ্নের জবাবে পানিসম্পদমন্ত্রী বলেন, পদ্মা ও তিস্তার পাড়ের মানুষের স্বার্থই তাঁর কাছে সবচেয়ে বড় বিষয়। 

লিথুয়ানিয়াকে বাংলাদেশে বিনিয়োগের আহ্বান 
বাংলাদেশের কৃষিপণ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ, নবায়নযোগ্য জ্বালানি, তথ্যপ্রযুক্তি, সাইবার নিরাপত্তা ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনা খাতে বিনিয়োগের জন্য লিথুয়ানিয়ার বিনিয়োগকারীদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম। গতকাল নিজ কার্যালয়ে লিথুয়ানিয়ার পররাষ্ট্রবিষয়ক উপমন্ত্রী ভিদমান্তাস ভারবিকাসের সঙ্গে বৈঠকে তিনি এ আহ্বান জানান বলে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়।
বৈঠকে বাংলাদেশের বিনিয়োগ সম্ভাবনা তুলে ধরে পারস্পরিক কল্যাণকর অংশীদারত্বের সুযোগগুলো কাজে লাগাতে লিথুয়ানিয়ার ব্যবসায়ীদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানান শামা ওবায়েদ। 

আরও পড়ুন

×