ঢাকা মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২৬

মার্কিন প্রতিবেদন

মানব পাচার রোধের ন্যূনতম মানদণ্ডে ঘাটতি বাংলাদেশের

মানব পাচার রোধের  ন্যূনতম মানদণ্ডে  ঘাটতি বাংলাদেশের
×
×

সমকাল ডেস্ক

প্রকাশ: ১০ অক্টোবর ২০২৬ | ০৮:২৪

| প্রিন্ট সংস্করণ

মানব পাচার নির্মূলের ন্যূনতম মানদণ্ড পুরোপুরি অর্জন করতে পারেনি বাংলাদেশ। তবে তা অর্জনে বাংলাদেশ সরকার উল্লেখযোগ্য প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। গত বৃহস্পতিবার প্রকাশিত যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের ২০২৬ সালের ‘ট্রাফিকিং ইন পারসনস রিপোর্ট’ শীর্ষক প্রতিবেদনে এ কথা বলা হয়েছে। 

প্রতিবেদনে বলা হয়, বিগত বছরের তুলনায় বাংলাদেশ সামগ্রিকভাবে মানব পাচারবিরোধী কার্যক্রমে বেশি প্রচেষ্টা চালিয়েছে। তাই দেশটি দ্বিতীয় স্তরেই (টিয়ার ২) রয়েছে। এই ধাপে বাংলাদেশের প্রতিবেশীদের মধ্যে রয়েছে– ভারত, পাকিস্তান, ভুটান ও শ্রীলঙ্কা। 

মানব পাচার প্রতিরোধে প্রতিবছর উল্লেখযোগ্য অগ্রগতির পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের সংশ্লিষ্ট আইনে নির্ধারিত ন্যূনতম মানদণ্ড পূরণ করেছে– এমন দেশগুলোকে প্রথম ধাপে (টিয়ার-১) রাখা হয়। যেসব দেশ নির্ধারিত ন্যূনতম মানদণ্ড পুরোপুরি অর্জন করতে পারেনি, কিন্তু উল্লেখযোগ্যভাবে প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে, সেগুলো দ্বিতীয় ধাপে (টিয়ার-২)। দ্বিতীয় ধাপে আবার নজরদারির একটি তালিকা (টিয়ার-২ ওয়াচ লিস্ট) রাখা হয়েছে। যেসব দেশ ন্যূনতম মানদণ্ড পুরোপুরি অর্জন করতে পারেনি, আবার উল্লেখযোগ্য চেষ্টাও চালাচ্ছে না, সেগুলোকে তৃতীয় ধাপে (টিয়ার-৩) রাখা হয়। 
বাংলাদেশের গৃহীত পদক্ষেপগুলোর মধ্যে রয়েছে– মানব পাচার প্রতিরোধে আইনগত কাঠামো শক্তিশালী করা। এ লক্ষ্যে সরকার মানব পাচার ও অভিবাসী চোরাচালান প্রতিরোধ ও দমন অধ্যাদেশ, ২০২৬ পাস করেছে। এই ধরনের ঘটনায় তদন্ত ও মামলা পরিচালনার কার্যক্রম বেড়েছে। মানব পাচার-সংক্রান্ত অপরাধ ও ভুক্তভোগী শনাক্তকরণবিষয়ক নির্দেশিকা হালনাগাদ করা হয়েছে। এ ছাড়া ভুক্তভোগীদের দ্রুত সহায়তা নিশ্চিত করতে, সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বয় বাড়াতে সরকার একটি ডিজিটাল ব্যবস্থা পরীক্ষামূলকভাবে চালু করেছে। মানব পাচারের ঝুঁকি কমাতে সরকার অভিবাসী শ্রমিকদের সুরক্ষাও জোরদার করেছে। 

তবে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে বাংলাদেশ সরকার ন্যূনতম মানদণ্ড পূরণ করতে পারেনি বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। এতে বলা হয়, আগের তুলনায় কমসংখ্যক মানব পাচারকারীকে দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছে। দেশের অভ্যন্তরে মানব পাচার দমনে সরকার যথেষ্ট পদক্ষেপ নেয়নি। এ ধরনের অপরাধের বিস্তারও ব্যাপক রয়ে গেছে। সরকার আগের তুলনায় কমসংখ্যক ভুক্তভোগী শনাক্ত করেছে। ভুক্তভোগীদের সুরক্ষা ও পুনর্বাসনের উদ্যোগ অপর্যাপ্ত রয়ে গেছে, বিশেষ করে রোহিঙ্গা শরণার্থী এবং দেশে ফিরে আসা বাংলাদেশি অভিবাসী শ্রমিকদের ক্ষেত্রে এটি বেশি দেখা গেছে। 
এ ছাড়া শ্রমিকদের কাছ থেকে নিয়োগ ফি নেওয়ার সুযোগও অব্যাহত রয়েছে। ফলে অনেক অভিবাসী শ্রমিক ঋণগ্রস্ত হয়ে পড়ছেন এবং মানব পাচারের ঝুঁকি বাড়ছে।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের মুখপাত্র থমাস টমি পিগট বলেন, মানব পাচার যুক্তরাষ্ট্রের স্বাধীনতা ও মর্যাদার মূল্যবোধের ওপর সরাসরি আঘাত। ২০২৬ সালের প্রতিবেদনে অপরাধী সংগঠন ও দমনমূলক শাসনব্যবস্থাগুলো কীভাবে আর্থিক লাভের জন্য মানব পাচারকে কাজে লাগানোর নতুন নতুন উপায় বের করছে, 
তা তুলে ধরা হয়েছে। মানব পাচারকারীদের শাস্তি এবং নাগরিকদের সুরক্ষা দিতে ব্যর্থ সরকারগুলোর জবাবদিহি নিশ্চিত করারও আহ্বান জানান তিনি। 

আরও পড়ুন

×