চাঁদা না দেওয়ায় গণপিটুনি, পরে চাঁদাবাজ সাজিয়ে পুলিশে সোপর্দ
সমকাল প্রতিবেদক
প্রকাশ: ১০ অক্টোবর ২০২৬ | ০৮:২৮
| প্রিন্ট সংস্করণ
রাজধানীর মিরপুর ১ এলাকায় লেগুনা স্ট্যান্ডের নিয়ন্ত্রণ ও চাঁদা আদায়কে কেন্দ্র করে কয়েকজন মালিককে মারধরের অভিযোগ উঠেছে। ভুক্তভোগীদের একজন ইয়াকুব আলীর দাবি, প্রতিটি গাড়ি থেকে দৈনিক ৩০০ টাকা চাঁদা দিতে রাজি না হওয়ায় ৬০ থেকে ৭০ জন মিলে তাঁকে মারধর করে। পরে তাঁকে চাঁদাবাজ আখ্যা দিয়ে পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হয়। মুক্তি পাওয়ার পর হামলার ঘটনায় থানায় অভিযোগ দিতে গেলেও পুলিশ তা গ্রহণ করেনি বলে অভিযোগ করেন তিনি।
গতকাল শুক্রবার দুপুরে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে (ডিআরইউ) এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন বৃহত্তর মিরপুর লেগুনা মালিক-শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি ইয়াকুব আলী। এ সময় তিনি ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত এবং হামলায় জড়িত ব্যক্তিদের গ্রেপ্তারের দাবি জানান।
ইয়াকুব জানান, ৫ অক্টোবর সকালে তাঁর লেগুনার চালক গাড়িতে সমস্যার কথা জানালে তিনি ঘটনাস্থলে যান। সেখানে উপস্থিত ব্যক্তিরা প্রতি গাড়ি থেকে ৩০০ টাকা করে চাঁদা দিতে বলেন। এতে আপত্তি জানালে তাঁকেসহ নজরুল ইসলাম ও বাবুল নামে আরও দুজন লেগুনার মালিককে মারধর করেন চাঁদা দাবিকারীরা। এক পর্যায়ে আগ্নেয়াস্ত্র বের করে তাদের গুলি করার হুমকি দেওয়া হয়। ঘটনাস্থলের সিসিটিভি ক্যামেরায় আগ্নেয়াস্ত্র বের করার দৃশ্য দেখা গেছে।
নিরাপত্তাহীনতার কথা উল্লেখ করে তিনি জানান, মারধরের পরই চাঁদাবাজ সাজিয়ে তাঁকে দারুস সালাম থানা পুলিশের কাছে সোপর্দ করা হয়। মারধরে অসুস্থ হয়ে পড়ায় হাসপাতালে নেওয়া হয়। চিকিৎসা শেষে তাঁকে আদালতে পাঠানো হয়। কিন্তু চাঁদাবাজির অভিযোগের পক্ষে তথ্যপ্রমাণ না পাওয়ায় তিনি মুক্তি পান। এর পর তিনি হামলার ঘটনায় দারুস সালাম থানায় অভিযোগ জানাতে গেলেও গ্রহণ করা হয়নি। পরে তিনি পুলিশের মিরপুর বিভাগের উপকমিশনারের (ডিসি) কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।
অভিযোগ না নেওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে দারুস সালাম থানার ওসি দুলাল হোসেন বলেন, জনগণ ইয়াকুব আলীকে মারধর করে। পরে পুলিশ গিয়ে ঘটনাস্থল থেকে তাঁকে উদ্ধার করে আদালতে পাঠায়। জামিনের পর মৌখিকভাবে থানায় অভিযোগ দিতে আসেন। তবে লিখিত কোনো অভিযোগ দেননি।
পরে উপপুলিশ কমিশনারের কাছে দেওয়া অভিযোগপত্র পেয়েছেন এবং তা তদন্ত করে দেখা হবে বলে জানান ওসি।
বিএনপি নেতাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ
লেগুনা মালিক-শ্রমিক ইউনিয়নের অভিযোগ, ঢাকা-১৪ আসনে বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী এস এ সিদ্দিক সাজুর অনুসারী হিসেবে পরিচিত একটি গোষ্ঠী মিরপুর ১ এলাকার পাঁচটি লেগুনা স্ট্যান্ডের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার চেষ্টা করছে। তাদের অভিযোগ, স্ট্যান্ডের নিয়ন্ত্রণ ছেড়ে দিতে এবং চাঁদা দিতে মালিকদের চাপ দেওয়া হচ্ছে। মাসে তিন লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয়েছে। এ ঘটনায়
বিপ্লব, সোলেমান দেওয়ান, ফারুক হোসেন, মহব্বত আলী, মাভেল ভূঁইয়া, তৈয়ব আলী, আলমগীর হোসেন, কানা পলাশ, রাসেল, শামীম, মজিবর রহমানসহ ৬০-৭০ জন জড়িত বলে অভিযোগ তাদের।
নিজেকে বৃহত্তর মিরপুর লেগুনা মালিক-শ্রমিক ইউনিয়নের সাংগঠনিক সম্পাদক পরিচয় দিয়ে সাইদুর রহমান বলেন, অভিযুক্ত ব্যক্তিদের বেশির ভাগই বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের সাবেক ও বহিষ্কৃত নেতা। তাদের মধ্যে সোলেমান দেওয়ান শাহ আলী থানা বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক, মহব্বত আলী দারুস সালাম থানা শ্রমিক দলের বর্তমান সদস্য সচিব এবং মাভেল ভূঁইয়া শাহ
আলী থানা শ্রমিক দলের সাবেক আহ্বায়ক। রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে চাঁদা দাবি ও স্ট্যান্ড নিয়ন্ত্রণ নিয়েছেন।
সাইদুর রহমানের অভিযোগ, লেগুনা স্ট্যান্ডের পাশাপাশি মিরপুর ১-এর কাঁচাবাজার, ফুটপাত, ভ্যানগাড়ি রাখার জায়গা এবং বিদ্যুৎ ও পানির ব্যবসা থেকেও চাঁদা আদায় করা হচ্ছে। ২০-৩০ জনের একটি দল সকাল থেকে রাত পর্যন্ত পাঁচটি লেগুনা স্ট্যান্ডে অবস্থান করে। কেউ প্রতিবাদ করলে তারা আক্রমণ করেন। এ কারণে সাধারণ মালিকরা সেখানে যেতে পারছেন না। তারা সরকার ও প্রশাসনের সহায়তা চান।
এ বিষয়ে এস এ সিদ্দিক সাজু বলেন, লেগুনা শ্রমিকদের অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বে মারামারির ঘটনা ঘটেছে বলে শুনেছি। তবে যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ তোলা হয়েছে, তারা কেউ এতে জড়িত নন। তিনি বলেন, রাজনীতি করার কারণে আমার অনুসারী থাকতে পারে, তবে তারা লেগুনা ব্যবসা বা ওই ঘটনার সঙ্গে সম্পৃক্ত নন।
- বিষয় :
- চাঁদা