টেকসই জ্বালানি নিয়ে জাতীয় পর্যায়ে ধারণা প্রতিযোগিতা ‘স্ফুরণ’ শুরু হচ্ছে
৮ থেকে ২৫ অক্টোবর পর্যন্ত ধারণা জমা দেওয়া যাবে
সমকাল প্রতিবেদক
প্রকাশ: ১০ অক্টোবর ২০২৬ | ১২:৫৫
দেশের টেকসই জ্বালানি খাতের উন্নয়নে উদ্ভাবনী ধারণা খুঁজতে জাতীয় পর্যায়ে শুরু হচ্ছে ‘স্ফুরণ: টেকসই জ্বালানি উদ্ভাবনের খোঁজে ২০২৬’ শীর্ষক প্রতিযোগিতা। এতে দেশের সরকারি ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী এবং বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের পেশাজীবীরা অংশ নিতে পারবেন। প্রতিযোগিতায় নির্বাচিত ধারণাগুলো উন্নয়ন সহযোগী, বিনিয়োগকারী ও অর্থায়নকারী প্রতিষ্ঠানের সামনে তুলে ধরার সুযোগ পাবেন অংশগ্রহণকারীরা। ২০৩০ সালের মধ্যে জ্বালানি খাতের নির্ধারিত লক্ষ্য অর্জনে নতুন ও বাস্তবসম্মত সমাধান খুঁজে বের করাই এ প্রতিযোগিতার উদ্দেশ্য।
জাতীয় নবায়নযোগ্য জ্বালানি উন্নয়ন কৌশলপত্র (আরইএসপি) ২০২৬-২০৩০ অনুযায়ী, ২০৩০ সালের মধ্যে নবায়নযোগ্য জ্বালানি থেকে ১০ হাজার ৪৫০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। একই সঙ্গে ২০২৬ সালের ভিত্তিমান অনুযায়ী, ওই সময়ের মধ্যে ১৫ শতাংশ জ্বালানি সাশ্রয়ের লক্ষ্য রয়েছে।
বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের বিদ্যুৎ বিভাগের উদ্যোগে এবং টেকসই ও নবায়নযোগ্য জ্বালানি উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (স্রেডা) সহযোগিতায় প্রতিযোগিতাটি বাস্তবায়ন করছে জিআইজেড বাংলাদেশ। এতে সহায়তা দিচ্ছে জার্মান সরকার ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন।
জিআইজেডের এক সংবাদ বিজপ্তিতে জানানো হয়, প্রতিযোগিতায় দুটি বিভাগে ধারণা জমা দেওয়া যাবে। নবায়নযোগ্য জ্বালানি বিভাগে ১০ হাজার ৪৫০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে সহায়ক ধারণা চাওয়া হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ, বিদ্যুৎ সঞ্চালন ও বিতরণব্যবস্থার আধুনিকায়ন, জ্বালানি সঞ্চয়ের ব্যবস্থা, দেশীয় সোলার প্যানেল ও ইনভার্টার উৎপাদন বাড়ানোর কৌশল, বায়ুবিদ্যুৎ এবং জমির সর্বোত্তম ব্যবহারের মাধ্যমে বিদ্যুৎ উৎপাদনের উদ্যোগ। এ ক্ষেত্রে কৃষিকাজের সঙ্গে সৌরবিদ্যুতের সমন্বিত ব্যবহার বা অ্যাগ্রিভোল্টাইকস এবং ভাসমান সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের মতো সমাধানও প্রস্তাব করা যাবে।
অন্য বিভাগটি হলো জ্বালানি দক্ষতা। এ বিভাগে জ্বালানির ব্যবহার কমানো এবং সাশ্রয় বাড়ানোর ধারণা আহ্বান করা হয়েছে। সম্ভাব্য ধারণার মধ্যে রয়েছে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও কমিউনিটিভিত্তিক উদ্যোগ, পরিচ্ছন্ন রান্নার ব্যবস্থা, জ্বালানি ব্যবহারের দক্ষতা পর্যবেক্ষণে ডিজিটাল প্রযুক্তির ব্যবহার, বিদ্যমান স্থাপনা ও যন্ত্রপাতির দক্ষতা বৃদ্ধি, আচরণগত পরিবর্তন এবং এ-সংক্রান্ত নীতিগত প্রস্তাবনা।
দেশের যেকোনো সরকারি বা বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে যেকোনো বিষয়ে অধ্যয়নরত শিক্ষার্থীরা দুজনের দল গঠন করে প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে পারবেন। অন্যদিকে, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে কর্মরত পেশাজীবীদের এককভাবে অংশ নেওয়ার সুযোগ রয়েছে। আবেদন জমা দেওয়ার সময় অংশগ্রহণকারীদের পরিচয় ও যোগ্যতা যাচাই করা হবে। কোনো আবেদন অসত্য বা প্রতারণামূলক প্রমাণিত হলে প্রতিযোগিতার যেকোনো পর্যায়ে তা বাতিল করা হতে পারে।
অংশগ্রহণকারীদের প্রতিযোগিতার ওয়েবসাইটে নিবন্ধন করে একটি লিখিত ধারণাপত্র বা কনসেপ্ট নোট এবং সর্বোচ্চ তিন মিনিটের একটি সংক্ষিপ্ত ভিডিও জমা দিতে হবে। প্রাথমিক বাছাইয়ে নির্বাচিত সেরা ধারণাগুলো বিশেষজ্ঞ বিচারকমণ্ডলীর সামনে সরাসরি উপস্থাপনের সুযোগ পাবে।
আগামী ৮ থেকে ২৫ অক্টোবর পর্যন্ত ধারণা জমা দেওয়া যাবে। বিজয়ীদের সম্মাননা জানাতে আয়োজন করা হবে পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান। প্রতিটি বিভাগের বিজয়ীরা ট্রফি, সনদ এবং তাঁদের শিক্ষাজীবন বা পেশাগত অগ্রযাত্রায় সহায়ক পুরস্কার পাবেন। এ ছাড়া উন্নয়ন সহযোগী, বিনিয়োগকারী ও অর্থায়নকারী প্রতিষ্ঠানের কাছে নিজেদের ধারণা তুলে ধরার সুযোগ পাবেন তারা।
আয়োজকদের প্রত্যাশা, শিক্ষার্থী ও পেশাজীবীদের উদ্ভাবনী চিন্তা এবং বাস্তবভিত্তিক প্রস্তাব দেশের টেকসই জ্বালানি ভবিষ্যৎ গঠনে ভূমিকা রাখবে। আগ্রহীরা https://seideacontest2026.sreda.gov.bd/ ওয়েবসাইটে নিবন্ধন করে ধারণা জমা দিতে পারবেন। প্রতিযোগিতার নিয়মিত তথ্য ও হালনাগাদ জানতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে #seideacontest2026 অনুসরণ করতে বলা হয়েছে।
- বিষয় :
- জ্বালানি খাত
- জ্বালানি