শিক্ষার্থীকে নেকাব খুলতে বলিনি: ঢাবি শিক্ষিকা
অধ্যাপক তাসনিম সিরাজ মাহবুব
বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক
প্রকাশ: ১০ অক্টোবর ২০২৬ | ১৮:৩২ | আপডেট: ১০ অক্টোবর ২০২৬ | ২১:৩৪
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) ইংরেজি বিভাগের এক শিক্ষার্থীকে নেকাব পরা নিয়ে কটাক্ষ করার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন সহযোগী অধ্যাপক তাসনিম সিরাজ মাহবুব। তিনি বলেছেন, শিক্ষার্থীকে নেকাব খুলতে, পোশাক পরিবর্তন করতে কিংবা ক্লাস ছেড়ে যেতে কোনো নির্দেশ দেননি। এ ঘটনায় নিজের বক্তব্য উপস্থাপনের সুযোগ দেওয়ার পাশাপাশি নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন তিনি।
শনিবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লিখিত বক্তব্য পাঠ করে নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করেন তাসনিম সিরাজ মাহবুব। তিনি বলেন, শিক্ষার্থীর ধর্মীয় পোশাকের বিরোধিতা করা তার উদ্দেশ্য ছিল না। বরং মুখমণ্ডল ঢাকা থাকায় শিক্ষার্থীকে শনাক্ত করা এবং শ্রেণিকক্ষে কার্যকর যোগাযোগের অসুবিধার বিষয়টি তুলে ধরেছিলেন তিনি।
তাসনিম সিরাজ মাহবুবের ভাষ্য, গত ৭ অক্টোবর ইংরেজি বিভাগের একটি ক্লাসে চোখসহ পুরো মুখমণ্ডল ঢাকা অবস্থায় এক ছাত্রীকে দেখতে পান তিনি। শিক্ষার্থীকে তাৎক্ষণিকভাবে শনাক্ত করতে না পারা এবং চোখে চোখ রেখে যোগাযোগের অসুবিধার কারণে পাঠদানের সময় অস্বস্তিবোধ করছিলেন। বিষয়টি ব্যাখ্যা করতে গিয়ে ধর্মীয় পর্দা, শালীন পোশাক ও এ-সংক্রান্ত ধর্মীয় ব্যাখ্যার প্রসঙ্গ তোলেন তিনি।
তাসনিম সিরাজ জানান, পরে কয়েকজন শিক্ষার্থীর কাছ থেকে জানতে পারেন, তাঁর কথায় ওই ছাত্রী কষ্ট পেয়ে ক্লাস ছেড়ে চলে গেছেন। এরপর সহপাঠীদের মাধ্যমে ওই শিক্ষার্থীকে খুঁজে বের করে দুঃখ প্রকাশ করতে চেয়েছিলেন তিনি। তবে তিনবার খবর পাঠানো এবং করিডরে প্রায় ১০ মিনিট অপেক্ষা করেও সরাসরি কথা বলা সম্ভব হয়নি।
বিভাগীয় সিদ্ধান্তের বিষয়ে তিনি বলেন, শিক্ষার্থীদের লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে তাঁর বক্তব্য গ্রহণের আগেই ইংরেজি বিভাগের সব কোর্স অন্য শিক্ষকদের মধ্যে বণ্টন করা হয়েছে। এ ঘটনায় মর্মাহত হওয়ার কথা জানিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের কাছে নিজের পূর্ণাঙ্গ ব্যাখ্যা দেওয়ার সুযোগ চান তিনি। একই সঙ্গে সভার বক্তব্য ও প্রাসঙ্গিক তথ্যের ভিত্তিতে নিরপেক্ষভাবে ঘটনাটি যাচাইয়ের অনুরোধ জানান।
ঘটনার পর বেনামি ফোন, ইমেইল, আপত্তিকর বার্তা ও হুমকি পাওয়ার কথাও উল্লেখ করেন এই শিক্ষক। নিজের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট শিক্ষার্থীসহ সবার মর্যাদা ও নিরাপত্তা রক্ষায় বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের সহযোগিতা কামনা করেন তিনি।
তাসনিম সিরাজ মাহবুবের মতে, পরিচয় যাচাইয়ের প্রয়োজন হলে ধর্মীয় বিশ্বাস, ব্যক্তিগত মর্যাদা ও গোপনীয়তার প্রতি সম্মান রেখে প্রাতিষ্ঠানিক নীতিমালার মাধ্যমে তা করা উচিত।
প্রসঙ্গত, গত বুধবার (৭ অক্টোবর) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থীদের ক্লাসে নেকাব পরা এক ছাত্রীকে ‘ফান্ডামেন্টালিস্ট’ বা মৌলবাদী এবং ‘সন্ত্রাসী’ বলে কটাক্ষ করার অভিযোগ ওঠে তাসনিম সিরাজ মাহবুবের বিরুদ্ধে। পরে শিক্ষার্থীদের লিখিত অভিযোগের পর বিভাগের জরুরি একাডেমিক কমিটির সভায় তাঁর সব কোর্স অন্য শিক্ষকদের মধ্যে বণ্টনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
- বিষয় :
- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়
- শিক্ষিকা