অগ্রণী ব্যাংকের ১১ কোটি টাকা আত্মসাত, দুদকের অনুসন্ধান শুরু
ছবি-সংগৃহীত
সমকাল প্রতিবেদক
প্রকাশ: ১০ অক্টোবর ২০২৬ | ১৮:৪৯ | আপডেট: ১০ অক্টোবর ২০২৬ | ১৮:৫২
অগ্রণী ব্যাংকের মুন্সীগঞ্জের শ্রীনগর শাখায় জালিয়াতি ও প্রতারণার মাধ্যমে গ্রাহকদের প্রায় ১১ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ব্যাংকটির চার কর্মকর্তা ও দুই কর্মচারীকে গ্রেপ্তার করেছে শ্রীনগর থানা পুলিশ। তাঁদের বিরুদ্ধে অভিযোগের অনুসন্ধান শুরু করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। এ পর্যন্ত প্রতারণার শিকার ১২২ জন গ্রাহকের বক্তব্য নিয়েছে সংস্থাটি। প্রাথমিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত গ্রাহকের সংখ্যা দুই শতাধিক বলে জানা গেছে।
দুদকের জনসংযোগ কর্মকর্তা মো. আকতারুল ইসলাম গতকাল বৃহস্পতিবার এক ব্রিফিংয়ে এসব তথ্য জানান।
দুদক জানায়, জালিয়াতি ও প্রতারণার মাধ্যমে ব্যাংকের অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে শ্রীনগর শাখার প্রিন্সিপাল অফিসার মো. শরীফ উদ্দীন বাদী হয়ে শ্রীনগর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। অভিযোগটি দুদকের তফসিলভুক্ত হওয়ায় থানা কর্তৃপক্ষ অনুসন্ধানের সুপারিশ করে তা দুদকে পাঠায়।
পরে দুদকের প্রধান কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক (ব্যাংক) মাহাথীর মুহাম্মদ সামীর নেতৃত্বে একটি দল অনুসন্ধান শুরু করে। দলের অন্য সদস্য উপসহকারী পরিচালক মো. রবিউল ইসলাম। গতকাল তাঁরা ব্যাংকের শ্রীনগর শাখা সরেজমিন পরিদর্শন করেন। এ সময় গ্রাহকদের হিসাবসহ অন্যান্য নথিপত্র পর্যবেক্ষণ এবং প্রতারণার শিকার ১২২ জনের বক্তব্য গ্রহণ করেন।
প্রাথমিক অনুসন্ধানে চেক জালিয়াতি, অতিরিক্ত সুদের প্রলোভনে ভুয়া এফডিআর, ভুয়া ডিপোজিট স্লিপ তৈরি এবং হিসাবের তথ্য পরিবর্তনের মাধ্যমে গ্রাহকদের অর্থ আত্মসাতের তথ্য পাওয়া গেছে। ব্যাংকটিতে প্রতারণার অভিযোগে গতকাল পর্যন্ত দুই শতাধিক গ্রাহক অভিযোগ দিয়েছেন। ক্ষতিগ্রস্ত গ্রাহকের সংখ্যা বাড়ার পাশাপাশি আত্মসাৎ করা অর্থের পরিমাণও বাড়তে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
দুদকের তথ্য অনুযায়ী, গত ৪ অক্টোবর শ্রীনগর থানা পুলিশ ওই শাখার সাময়িক বরখাস্ত হওয়া ক্যাশ অফিসার মো. শরীফুজ্জামানকে গ্রেপ্তার করে। গত ৭ অক্টোবর গ্রেপ্তার করা হয় আরও তিন কর্মকর্তা ও দুই কর্মচারীকে। তাঁরা হলেন সাময়িক বরখাস্ত হওয়া ক্যাশ অফিসার মো. জিন্নাহ হোসেন, সিনিয়র প্রিন্সিপাল অফিসার ও সাবেক ব্যবস্থাপক রেজাউল হক, প্রিন্সিপাল অফিসার ও সাবেক ব্যবস্থাপক মো. শরীফ উদ্দীন এবং নিরাপত্তাপ্রহরী রজু আহম্মেদ ও আব্দুল হাই।
অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ ওঠার পর সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সাময়িক বরখাস্ত করা হয়। পরে দুদক তাঁদের শ্যোন অ্যারেস্ট দেখায়। তাঁরা বর্তমানে কারাগারে রয়েছেন।
দুদকের দল ঘটনাস্থলে থেকে বিধি অনুযায়ী গ্রাহকদের বক্তব্য গ্রহণ করছে। গতকাল পর্যন্ত নেওয়া ১২২ জনের বক্তব্যে প্রায় ১১ কোটি টাকা আত্মসাতের তথ্য পাওয়া গেছে। প্রাথমিক অনুসন্ধানে দুই শতাধিক ক্ষতিগ্রস্ত গ্রাহকের সন্ধান মিলেছে। অনুসন্ধান শেষে আত্মসাৎ করা অর্থের প্রকৃত পরিমাণ সম্পর্কে বিস্তারিত জানা যাবে।