ঢাকা রোববার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬

রবীন্দ্র-নজরুলের সুরে শরতের সকাল

রবীন্দ্র-নজরুলের সুরে শরতের সকাল
×
×

ছবি: সমকাল

সমকাল প্রতিবেদক

প্রকাশ: ১০ অক্টোবর ২০২৬ | ১৯:৪২

শরতের স্নিগ্ধতা, কাশফুলের দোলা আর শিউলির সুবাসের আবহে গান, নাচ ও কবিতায় শরৎকে বরণ করে নিল সংস্কৃতি চর্চাকেন্দ্র ছায়ানট। শনিবার সকাল সাড়ে ৭টায় সেন্ট গ্রেগরী হাই স্কুল অ্যান্ড কলেজ প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত হয় ছায়ানটের ‘শরতের অনুষ্ঠান’। তিনটি শিক্ষা ও সংস্কৃতি প্রতিষ্ঠানের যৌথ আয়োজনে সুর ও ছন্দে মুখর হয়ে ওঠে পুরো প্রাঙ্গণ।

এবারের আয়োজনে ছায়ানটের সঙ্গে অংশ নেয় নালন্দা উচ্চ বিদ্যালয় এবং সেন্ট গ্রেগরী হাই স্কুল অ্যান্ড কলেজ। তিন প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী ও শিল্পীদের পরিবেশনায় রবীন্দ্র সংগীত, নজরুল সংগীত, নৃত্য ও আবৃত্তিতে ফুটে ওঠে শরতের নানা রং ও সৌন্দর্য।

অনুষ্ঠানের শুরুতে নালন্দা উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা পরিবেশন করে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘বিশ্ববীণা রবে বিশ্বজন মোহিছে’। মানসী পারমিতা দে-র পাঠের সঙ্গে ছিল গান ও সমবেত নৃত্যগীত। এরপর আনন্দী ঘোষ ও দেবস্মীতা কুণ্ডু দ্বৈত কণ্ঠে গেয়ে শোনান রবীন্দ্রনাথের ‘আজ প্রথম ফুলের পাব প্রসাদখানি’। অতুল প্রসাদ সেনের ‘মেঘেরা দল বেঁধে যায়’ গানটি পরিবেশিত হয় সমবেত কণ্ঠে। আনাফ নাফি নির্জন একক কণ্ঠে গেয়ে শোনান কাজী নজরুল ইসলামের ‘শিউলি ফুলের মালা দোলে’। রবীন্দ্রনাথের ‘শরৎ’ কবিতার বৃন্দ আবৃত্তিতে শেষ হয় এই পর্ব।

দ্বিতীয় পর্বে সেন্ট গ্রেগরী হাই স্কুল অ্যান্ড কলেজের শিক্ষার্থী ও ছায়ানটের শিল্পীরা যৌথভাবে পরিবেশন করেন রবীন্দ্রসঙ্গীত ও নৃত্য ‘শরৎ, তোমার অরুণ আলোর অঞ্জলি’। এরপর অনন্য পৃথ্বী কুণ্ডু গেয়ে শোনান ‘শিউলি ফুল শিউলি ফুল’ এবং বিনায়ক সরকার পুলক পরিবেশন করেন ‘তোমার মোহন রূপে’। নজরুলের ‘শিউলি তলায় ভোর বেলায়’ ও ‘আজ শরতে আনন্দ ধরে না যে’ গান দুটি পরিবেশিত হয় সমবেত কণ্ঠে। এ পর্বে শামসুর রাহমানের ‘কোথায় শিউলি তলা’ এবং জীবনানন্দ দাশের ‘এখানে আকাশ নীল’ কবিতার বৃন্দ আবৃত্তিও দর্শকদের মুগ্ধ করে।

শেষ পর্বে ছায়ানটের শিল্পী ও শিক্ষার্থীরা রবীন্দ্রনাথের গান ও কবিতা নিয়ে সাজান মনোজ্ঞ পরিবেশনা। সমবেত নৃত্যগীত ‘আমার নয়ন ভুলানো এলে’ এবং সমবেত গান ‘আমরা বেঁধেছি কাশের গুচ্ছ’ পরিবেশিত হয় এ পর্বে। একক সংগীত পরিবেশন করেন আশরাফী আজম (‘বাজিল কাহার বীণা’), ক্যাথলিন অরণি মুর্মু (‘আমারে ডাক দিল কে’), রায়তা রহমান (‘দেখো-দেখো, দেখো, শুকতারা’) এবং রোদেলা পৃথিবী রায় (‘আজ ধানের ক্ষেতে’)।

সবশেষে তিন প্রতিষ্ঠানের শিল্পীদের সম্মিলিত কণ্ঠে রবীন্দ্রনাথের ‘মেঘের কোলে রোদ হেসেছে’ গানটির পরিবেশনা ছিল উৎসবের অন্যতম আকর্ষণ। এর সঙ্গে ছায়ানটের শিল্পীদের নৃত্য পরিবেশনাটি শরতোৎসবে যোগ করে বাড়তি আনন্দ। জাতীয় সংগীত পরিবেশনের মধ্য দিয়ে শেষ হয় সকালের এই আয়োজন।

আরও পড়ুন

×