ঢাকা রোববার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬

সাশ্রয়ী মূল্যে নিরাপদ ওষুধ চান বিশেষজ্ঞরা

সাশ্রয়ী মূল্যে নিরাপদ ওষুধ চান বিশেষজ্ঞরা
×
×

 সমকাল প্রতিবেদক

প্রকাশ: ১১ অক্টোবর ২০২৬ | ০৮:০০

| প্রিন্ট সংস্করণ

নতুন ওষুধ আবিষ্কারই যথেষ্ট নয়, তা নিরাপদ ও সাশ্রয়ী মূল্যে মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়াও জরুরি। বিশেষ করে ওষুধের কার্যকারিতা হারানোর ঝুঁকি বেড়ে যাওয়া, ক্যান্সারসহ অসংক্রামক রোগ এবং নতুন সংক্রামক রোগের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় ওষুধবিজ্ঞানে গবেষণা ও উদ্ভাবন বাড়ানোর পাশাপাশি আন্তর্জাতিক সহযোগিতা জোরদারে গুরুত্ব দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। গতকাল শনিবার রাজধানীর নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ে (এনএসইউ) আন্তর্জাতিক সম্মেলন ও ফার্মা ফেস্টের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তাদের এসব অভিমত উঠে আসে। 

বিশ্ববিদ্যালয়ের ফার্মাসিউটিক্যাল সায়েন্সেস বিভাগের ২০ বছর পূর্তি উপলক্ষে তিন দিনব্যাপী ‘ইন্টারন্যাশনাল কনফারেন্স অন ফার্মাসিউটিক্যাল সায়েন্সেস (আইসিপিএস) ২০২৬’ ও ‘ফার্মা ফেস্ট সেশন ১৩’-এর আয়োজন করা হয়েছে। ১০ থেকে ১২ অক্টোবর পর্যন্ত এ আয়োজন চলবে। তিন দিনব্যাপী এই আন্তর্জাতিক সম্মেলনে ১১টি দেশের খ্যাতনামা রিসার্চার এবং বিজ্ঞানীরা অংশ নিচ্ছেন। নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ফার্মাসিউটিক্যাল সায়েন্সেস বিভাগ এবং মালয়েশিয়ার ইউনিভার্সিটি অব মালয়ার ফার্মেসি অনুষদ যৌথভাবে এ সম্মেলনের আয়োজন করেছে। ফার্মাসিউটিক্যাল বিজ্ঞানে গবেষণা, উদ্ভাবন ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতার ক্ষেত্র সম্প্রসারণ এবং বৈশ্বিক স্বাস্থ্য চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় নতুন জ্ঞান বিনিময়ের সুযোগ সৃষ্টি করাই এ আয়োজনের লক্ষ্য। এই আয়োজনের মিডিয়া পার্টনার ছিল সমকাল।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মামুন আহমেদ বলেন, ওষুধবিজ্ঞানের ভবিষ্যৎ গবেষণায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), ন্যানো মেডিসিন ও লক্ষ্যভিত্তিক চিকিৎসা পদ্ধতি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। এসব প্রযুক্তি ক্যান্সারসহ বিভিন্ন জটিল রোগের চিকিৎসায় নতুন সম্ভাবনা সৃষ্টি করছে। তবে গবেষণার সাফল্য তখনই অর্থবহ হবে, 
যখন উদ্ভাবিত ওষুধ সাধারণ মানুষের নাগালে আসবে। তিনি বলেন, বিজ্ঞানকে শুধু সুবিধাভোগী মানুষের জন্য নয়, সমগ্র মানবতার কল্যাণে ব্যবহার করতে হবে। নতুন ওষুধ ও চিকিৎসা পদ্ধতি উদ্ভাবনের পাশাপাশি উৎপাদন ব্যয় কমানোর উপায় খুঁজতে হবে, যাতে দরিদ্রতম মানুষও উন্নত চিকিৎসার সুযোগ পায়। অধ্যাপক মামুন আহমেদ বলেন, গবেষক ও শিক্ষার্থীদের উদ্ভাবনী চিন্তার পাশাপাশি মানবিক মূল্যবোধকে গুরুত্ব দিতে হবে। বিভিন্ন দেশের বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে সহযোগিতা যৌথ গবেষণা, শিক্ষক বিনিময় ও শিক্ষার্থীদের অভিজ্ঞতা অর্জনের সুযোগ বাড়ায়। রোগের কোনো সীমান্ত নেই, 
তাই স্বাস্থ্যগত চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় গবেষকদেরও আন্তর্জাতিকভাবে একসঙ্গে কাজ করতে হবে।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের বোর্ড অব ট্রাস্টিজের (বিওটি) চেয়ারম্যান আজিজ আল কায়সার বলেন, এই ধরনের শিক্ষার্থীদের শ্রেণিকক্ষের বাইরেও শেখার সুযোগ করে দেয়। এতে তারা নিজেদের মধ্যে জ্ঞান ও ধারণা বিনিময়, সুস্থ প্রতিযোগিতা এবং হাতে-কলমে কাজের অভিজ্ঞতা অর্জন করতে পারেন।
সম্মেলনের চেয়ার ও বিশ্ববিদ্যালয়ের ফার্মাসিউটিক্যাল সায়েন্সেস বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক মোহাম্মদ হোসেন শরীয়ার স্বাগত বক্তব্যে বলেন, বৈশ্বিক স্বাস্থ্য সুরক্ষায় নতুন রোগের মোকাবিলা, অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল রেজিস্ট্যান্স নিয়ন্ত্রণ এবং সাশ্রয়ী ও সহজলভ্য ওষুধ নিশ্চিত করতে গবেষণা ও উদ্ভাবনের ওপর গুরুত্ব দিতে হবে। এ জন্য গবেষণা, উদ্ভাবন ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতা জোরদার করা প্রয়োজন।

বিশ্ববিদ্যালয়ের স্কুল অব হেলথ অ্যান্ড লাইফ সায়েন্সেসের ডিন অধ্যাপক ড. দীপক কুমার মিত্র বলেন, ফার্মাসিউটিক্যাল বিজ্ঞান এখন শুধু ওষুধ আবিষ্কার ও উৎপাদনের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। জীবপ্রযুক্তি, জিনোমিকস, ব্যক্তিকেন্দ্রিক চিকিৎসা, টিকা উন্নয়ন, অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল রেজিস্ট্যান্স মোকাবিলা গবেষণা ও উদ্ভাবনের সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে।
বৈজ্ঞানিক উদ্ভাবনের সুফল মানুষের 
কাছে পৌঁছে দিতে গবেষক, স্বাস্থ্যসেবা পেশাজীবী ও সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের মধ্যে সমন্বয় জরুরি।
সম্মেলনের কো-চেয়ার ও মালয়েশিয়ার ইউনিভার্সিটি অব মালয়ার ফার্মাসি অনুষদের ডিন ড. নুসাইবাহ আবদুল রহিম অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন। এ ছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের বোর্ড অব ট্রাস্টিজের সাবেক চেয়ারম্যান ও সদস্য বেনজীর আহমেদ এবং এম এ কাশেম বক্তব্য দেন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক আবদুল হান্নান চৌধুরী। ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক নাসার ইউ আহমেদ।

আরও পড়ুন

×