গাজীপুরে ৬ সিএনজি স্টেশনের গ্যাস সংযোগ বিচ্ছিন্ন, ২ কোটি ২৭ লাখ টাকা জরিমানা
অবৈধভাবে সিলিন্ডারের মাধ্যমে গ্যাস সরবরাহের অভিযোগে দুদকের গাজীপুর সমন্বিত জেলা কার্যালয়ের এনফোর্সমেন্ট টিম সোমবার অভিযান পরিচালনা করে। ছবি-সংগৃহীত
সমকাল প্রতিবেদক
প্রকাশ: ১২ অক্টোবর ২০২৬ | ২১:৪৭ | আপডেট: ১২ অক্টোবর ২০২৬ | ২১:৪৯
বেআইনিভাবে বেসরকারি পর্যায়ে সিলিন্ডারের মাধ্যমে গ্যাস সরবরাহের দায়ে গাজীপুরের ছয়টি সিএনজি স্টেশনে গ্যাস সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়েছে। এই অপরাধে মোট ২ কোটি ২৭ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়।
সোমবার দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) গাজীপুর সমন্বিত জেলা কার্যালয়ের এনফোর্সমেন্ট টিমের অভিযান চলাকালে গ্যাস সংযোগ বিচ্ছিন্ন ও অর্থদণ্ড করা হয়।
অভিযানে তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি ও বিস্ফোরক পরিদপ্তরের দায়িত্বশীল প্রতিনিধি উপস্থিত ছিলেন। দুদকের জনসংযোগ শাখা থেকে আজ এই তথ্য জানানো হয়।
দুদক সূত্র জানায়, গাজীপুরের ওইসব সিএনজি স্টেশনের দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা তিতাস গ্যাস, বিস্ফোরক পরিদপ্তরের কতিপয় অসাধু কর্মকর্তার সঙ্গে যোগসাজশে অবৈধভাবে সিলিন্ডারের মাধ্যমে গ্যাস সরবরাহ করে সরকারি অর্থ আত্মসাতের একটি অভিযোগ সম্প্রতি দুদকের জমা দেওয়া হয়। পরে এ নিয়ে কাজ শুরু করে কমিশনের গাজীপুর অফিস। তাদের প্রাথমিক অনুসন্ধানে বেআইনিভাবে গ্যাস সরবরাহের প্রমাণ পাওয়া যায়। তারই আলোকে আজ এই অভিযান চালানো হয়।
দুদকের গাজীপুর জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মো. এনামুল হকের নেতৃত্বে অভিযান চলাকালে তিতাস গ্যাস ও বিস্ফোরক আইনে ৬টি সিএনজি স্টেশনের গ্যাস সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়। একই সঙ্গে ওইসব সিএনজি স্টেশনকে মোট ২ কোটি ২৭ লাখ টাকার জরিমানা করা হয়।
অভিযানকালে ওই অপরাধের সঙ্গে জড়িত অসাধু কর্মকর্তা-কর্মচারীদের তথ্য সংগ্রহ করা হয়। আলাদাভাবে তাদের অপরাধ নির্ণয় করে শিগগির কমিশনে পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন দাখিল করা হবে। এরপর কমিশনের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী পরবর্তী কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে।
ফরিদপুর মেডিকেলে অভিযান
ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে আগত রোগীদের চিকিৎসাসেবা প্রদানে হয়রানি, দালালচক্রের মাধ্যমে রোগীদের বেসরকারি ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারে পাঠানো, আউটসোর্সিং কর্মচারী নিয়োগ ও এমএসআর সামগ্রী ক্রয়ে অনিয়ম ও দুর্নীতির একটি অভিযোগ সম্প্রতি দাখিল করা হয় দুদকে।
এর প্রেক্ষিতে আজ দুদকের ফরিদপুর সমন্বিত জেলা কার্যালয় থেকে ওই মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে একটি এনফোর্সমেন্ট অভিযান চালানো হয়।
এনফোর্সমেন্ট টিমের সদস্যরা প্রথমে ওই মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে উপস্থিত হয়ে ছদ্মবেশে হাসপাতালের সার্বিক অবস্থা পর্যবেক্ষণ করেন। তাতে হাসপাতালে দালালের উপস্থিতি ও তাদের কার্যক্রম দেখা যায়। এক পর্যায়ে টিমের উপস্থিতি টের পেয়ে দালালচক্র পালিয়ে যায়। পরবর্তীতে হাসপাতালের উপপরিচালকের উপস্থিতিতে হাসপাতালের রান্নাঘর, বিভিন্ন ওয়ার্ড, ক্যাথ ল্যাব ও স্টোর রুম পরিদর্শন করা হয়। ওই সময় বিভিন্ন ওয়ার্ডের ভর্তি রোগী ও তাদের স্বজনরা হাসপাতালের ডাক্তার, নার্স ও স্টাফদের প্রতি অসন্তোষ প্রকাশ করেন। এছাড়াও হাসপাতালের ক্যাথে ল্যাব স্থাপন ও এমএসআর সামগ্রী ক্রয়ে বিভিন্ন ধরনের অনিয়ম অভিযানকালে পরিলক্ষিত হয়।
অধিকতর যাচাইয়ের লক্ষ্যে ক্যাথ ল্যাব স্থাপন, আউটসোর্সিং কর্মী নিয়োগ ও এমএসআর ক্রয় সংক্রান্ত রেকর্ডপত্র সংগ্রহ করা হয়। রেকর্ডপত্রসমূহ বিস্তারিতভাবে পর্যালোচনাপূর্বক কমিশন বরাবর পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন দাখিল করা হবে।
- বিষয় :
- সিএনজি ফিলিং স্টেশন
- গ্যাস
- দুদক